১৯৯৯ থেকে ২০১৭। আর দুটি ২৪ মে। প্রথম দিনটিতে বিশ্বকাপ ক্রিকেটে প্রথম জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। দ্বিতীয় দিনটিতে আরেকটি বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার ‘নিশ্চয়তা’ পেল বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ডকে ৫ উইকেটে হারিয়ে।
এই ‘নিশ্চয়তা’ পাওয়ার প্রশ্ন ওঠার কথা ছিল না। আইসিসির হঠাৎ তৈরি এক নিয়মে জানা যায় র্যাঙ্কিংয়ের প্রথম আট দল সরাসরি বিশ্বকাপে খেলতে পারবে। বাংলাদেশ তখন ক্রিকেটবিশ্বে ‘উন্নয়নশীল’ দল হিসেবেই পরিচিত। খবরটা তাই কিছুটা শঙ্কা জাগিয়েছিল। লাল-সবুজের ছেলেরা এই জয় দিয়ে প্রমাণ করলো, শির (মাথা) অবনত রেখে বিশ্বকাপে খেলার দল তারা নয়।
কিউইদের জন্য নিছক একটা ওয়ানডে ম্যাচ ছিল এটি। এই সিরিজের শিরোপা তারা আগেই নিশ্চিত করেছে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি সামনে রেখে দলটি হাত গরম করতে নামলেও তিনটি পরিবর্তন ছিল তাদের একাদশে। বাংলাদেশ দলে একটি। সেটি আবার বহুল আলোচিত।
গত অক্টোবরে যে ছেলেটি শেষ ওয়ানডে খেলেছেন, তিনি এদিন নামলেন। ‘খচখচানি’ মাথায় রেখে প্রথম ওভারে শর্টস্কয়ার লেগে ক্যাচ ফেললেন। পরে গুরুত্বপূর্ণ দুটি উইকেট নিলেন। দলকে ম্যাচে ফেরালেন। ঠিক পুনর্জন্ম হলো না তার, যেটা হলো তাতেই স্বস্তি পেতে পারেন।
এই ম্যাচের ‘বাহুবলী’ কে? উত্তর খুঁজতে গেলে একটা ছক্কার কথা স্মরণ করতে হবে। বাংলাদেশের প্রথম আর ক্রিকেট ইতিহাসের চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে ইনিংসের প্রথম বলে ছয় হাঁকানোর নজির গড়েন তামিম। তাতেই সাহসের সঞ্চার। একই ওভারে দেখলেন ‘ব্যাক-টু-ব্যাক’ হাফসেঞ্চুরিয়ান সৌম্যকে ফিরে যেতে। এরপর ৮০টি বল খেললেন। স্বভাব বিরুদ্ধভাবে বড় শট লুকিয়ে ৬৫টি রান করলেন। ৮৩ বল খেলার পথে তাকে সঙ্গ দিয়ে গেলেন সাব্বির রহমান। তিনি এদিন শুধু ৬৫টি রান করেননি; প্রমাণ করেছেন এই কন্ডিশনে তার ব্যাটও কথা বলতে পারে।
সাব্বির ফেরার পর ব্যাটিং অর্ডারে মোসাদ্দেককে এগিয়ে আনা হয়। মুশফিক-সাকিবের আগে নেমে নিজের সহজাত খেলাটা খেলতে পারেননি। ১৩ বলে ১০ করে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরতে তাকে। এরপর সাকিব যখন পুল করতে যেয়ে লং-লেগে ধরা পড়েন, তখন শঙ্কার চোরাস্রোত উঁকি দিতে থাকে। সেই স্রোত উবে যায় একটা ‘ঘুমহীন’ রাতে’র স্মৃতি দূর করার উপলক্ষ এনে দিয়ে।
মুশফিক (৪৫*), রিয়াদ (৪৬*) নিশ্চয়ই এখনও ভুলতে পারেননি সেই রাতের কথা। টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে এক রানে হেরে যাওয়ার কথা। দুই ‘ভায়রা’ আজও যখন বলে বলে রানের পেছনে হাঁটছিলেন, স্মৃতিকাতর দর্শকের মনে উঁকি দিচ্ছিল সেই রাতটার কথা। ২২ গজে মুশি-রিয়াদের স্মৃতিতেও নিশ্চয়ই ফিরে আসছিল সেই দিন।
এদিন আর দুজন আগের ভুল করলেন না। স্ট্রাইক রোটেট করলেন। কখনও বড় শটে গেলেন। মুশফিক এদিনও শুরু থেকে স্কুপ করলেন। অফসাইড ব্যবহার করলেন। সবটাই অক্ষত থেকে।
রিয়াদ সেই পুল করলেন। তবে আকাশে নয়। বল রাখলেন মাটিতে। তাতে চার এল। বিদেশের মাটিতে কিউইদের বিপক্ষে প্রথম জয় এল। সঙ্গে ইতিহাস!








