চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ বিক্রি নিষেধ। এ বিষয়ে দেশের ফার্মেসিগুলোকে নির্দেশনাও দেওয়া আছে। এর একটি কারণও হলো অনেক ওষুধ আছে, যেগুলো নেশা জাতীয়- যেমন ঘুমের ট্যাবলেট। অনেক তরুণ-তরুণী ঘুমের ওষুধে আসক্ত। তারা এ ধরনের ওষুধ সেবনে একধরনের আনন্দ অনুভব করে। আধো ঘুম আর আধো জাগরণে সেই আসক্তি তাদেরকে অন্যজগতে নিয়ে যায়। তাই এ ধরনের ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ বা প্রেসক্রিপশন ছাড়া বিক্রি একেবারেই নিষেধ। আর অন্য একটি কারণ হলো অনেক ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিয়মিত সেবন করলে আমাদের কিডনিসহ শরীরের অনেক অঙ্গপ্রতঙ্গের ক্ষতিসাধন করতে পারে। তাই এ ধরনের ব্যথানাশক ওষুধ প্রেসক্রিপশন ছাড়া ফার্মেসির বিক্রেতারা যেন বিক্রি না করেন সেজন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়।
আবার অনেক সময় ফার্মেসির ক্রেতারা নিজেরাই শরীরের কিছু উপসর্গ দেখে ধারণা থেকেই ওষুধ বিক্রি করে, যেগুলো সেবন করার পর রোগীর অবস্থা জটিল আকার ধারণ করে। এ জন্য ওষুধ বিক্রিতে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, যদি কোনো নামিদামি হাসপাতালে মেয়াদ উত্তীর্ণ রি-এজেন্ট (রোগের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ব্যবহার করা হয় এমন উপাদান) পাওয়া যায়, তখন? যেসব হাসপাতাল সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মনে নানা রকমের গল্প তৈরি হয় বা তৈরি হয়েই আছে। বা রোগীর অর্থনৈতিক অবস্থা টের পেয়ে লাইফ সাপোর্টে রোগী রেখে জোর করে টাকা আদায় করা, এ ধরনের আরও গল্প আছে। তেমন হাসপাতালের এরকম খবরে আমরা কি উদ্বিগ্ন হবো না?
পত্রিকায় দেখা গেল তেমন একটি খবর- ‘অ্যাপোলো হাসপাতালকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা।’ মেয়াদোত্তীর্ণ রি-এজেন্ট ও অনুমোদনহীন ওষুধ রাখায় ওই হাসপাতালকে র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানা করেছে।
সবচেয়ে অবাক হবার বিষয়, এ সময় হাসপাতালের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ উপস্থিত থাকলেও গণমাধ্যমকে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি।
এই হলো আমাদের নামী-দামী হাসপাতালের একটি চিত্র। এরকম অন্যান্য হাসপাতালেও নিশ্চয়ই এ রকম খবর হওয়ার মতো উপাদান অপেক্ষায় আছে। হয়ত কোনো একদিন বের হয়ে যাবে। যেমন কথায় বলে পাপ কখনো চাপা থাকে না।
এখন আমরা কোথায় যাবো? সার্বিক বিবেচনায় কার কাছে ভরসা পাবো? যে হাসপাতালে আমার বাবা-মা বা প্রিয়জনকে ভর্তি করাবো, সেখানে সঠিক ট্রিটমেন্টটা পাবো, এই গ্যারান্টি কে দেবে?
বিশাল বিশাল বিজ্ঞাপন দিয়ে রোগীদের আত্মীয়স্বজনকে আকর্ষণ করা হয়। ‘একমাত্র আমরাই দিচ্ছি আসল সেবা’- এরকম চটকদার বিজ্ঞাপনের মোহে পড়ে প্রিয়জনদের নিয়ে যাই দেশের বড় বড় হাসপাতালগুলোতে। যাতে টাকা যায় যাক, তবু সেবাটা তো ভালো পাওয়া যাবে, এই ভরসায়। কিন্তু সেখানেও যদি এ রকম মেয়াদোত্তীর্ণ রি-এজেন্ট পাওয়া যায়, তাহলে?
ওই খবরটি কিভাবে পাওয়া গেল? একজন নকল ওষুধ বিক্রেতাকে ১৬ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তার করা হয়। তার স্বীকারোক্তি এবং তার কাছে থাকা দলিলপত্র ঘেঁটে পর্যালোচনা করে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি ওই হাসপাতালে গত পাঁচ বছর ধরে ওই নকল ওষুধ সরবরাহ করে আসছে।
আমরা পত্রিকার খবর পড়ে অনেক গোপন তথ্য জানি। কিন্তু কিছু কিছু খবরে আমরা হতাশ হই। পিছিয়ে যাই নৈতিকতার মানদণ্ড দেখে। কত বড় হাসপাতাল, তার যদি এই অবস্থা হয়, বাকিগুলোর না জানি কি হাল!
(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)







