সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনকে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের দপ্তর সম্পাদক মো. জিয়াউর স্বাক্ষরিত এসংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম বিগত ৬ এবং ৭ মার্চ অনুষ্ঠিত সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি নির্বাচনে ‘সভাপতি’ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য আপনাকে (ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনকে) মনোনীত করে। বিগত দুই বছরের মতো এবারের নির্বাচনেও ক্ষমতাসীনরা নজিরবিহীনভাবে ভোট জালিয়াতি, কারচুপি ও মনগড়া ফলাফল ঘোষণা করে। এমনকি সম্পাদক পদে আওয়ামী লীগ দলীয় দুজন প্রার্থী, প্রথমে নাহিদ সুলতানা যুথি ও পরে শাহ মজুরুল হককে তথাকথিত বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। ক্ষমতাসীন দলের বহিরাগত সন্ত্রাসীরা নির্বাচনের পরে সমিতির অডিটোরিয়ামে হামলা চালিমে আইনজীবীদের মারধর ও ব্যালট বাক্স ছিনতাই করে নিয়ে যায়। উক্ত ঘটনা আওয়ামী লীগের দুজন সম্পাদক পদপ্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘটিত হলেও সরকারের একজন বেতনভুক্ত আইন কর্মকর্তা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেলের সম্পাদক প্রার্থী ও আরও তিনজন আইনজীবী ফোরাম নেতাকে আসামি করে শাহবাগ থানায় একটি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক ফৌজদারি মামলা দায়ের করে। যেখানে নির্বাচন কমিশনে দায়িত্ব পালনকারী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার ওসমান চৌধুরী ও উক্ত নির্বাচনে সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সংগঠনের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস (কাজল)-কে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় গ্রেফতার করে তাদের ৩ দিন ও ৪ দিন ডিবি অফিসে রিমান্ডে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে তারা উভয়েই দুই সপ্তাহ কারাভোগ করেন। তাদের কারাগারে রেখে লুট হয়ে যাওয়া ব্যালট পেপার গণনার নাটক সাজিয়ে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির তথাকথিত ফলাফল ঘোষণা করা হয়। যে নির্বাচনে আমাদের পুরো প্যানেলেরই বিজয় সুনিশ্চিত ছিল, সেখানে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ভোট ডাকাতি জায়েজ করতে (ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন) আপনাকে সভাপতি পদে ও এডভোকেট ফাতিমা আকতার, এডভোকেট মোঃ শফিকুল ইসলাম ও এডভোকেট সৈয়দ ফজলে এলাহী অভিকে নামকাওয়াস্তে সদস্য পদে বিজয়ী দেখানো হয়।
সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে গত ২৪ মার্চ আপনার উপস্থিতিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় সিনিয়র নেতা, উপদেষ্টামণ্ডলী ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি সম্পাদকদের এক যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আপনি (ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন) সহ বিজয়ী ঘোষিত তিনজন সদস্যকে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ২০২৪-২০২৫ মেয়াদকালের দায়িত্ব গ্রহণ থেকে বিরত থাকার জন্য সংগঠনের পক্ষ থেকে এক চিঠিতে আহবান জানানো হয়। সংগঠনের সে আহবানে সাড়া দিয়ে সদস্য পদে (বিএনপি সমর্থিত) বিজয়ী ঘোষিত তিনজন সদস্য দায়িত্ব গ্রহণ থেকে বিরত থাকলেও সংগঠনের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে আপনি (ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন) গত ৪ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এছাড়া, আপনি এক মত বিনিময় সভার মাধ্যমে বিগত ৭ই জানুয়ারী অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ৩ (তিন) জন এম পি প্রার্থী, বিএনএম নেতা, তৃণমূল বিএনপি ও দল থেকে বহিষ্কৃত এবং দলছুট কতিপয় সদস্যকে দিয়ে দলের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ সম্পর্কে বিষোদগার করিয়েছেন। এছাড়া আপনি আপনার বক্তব্যে আইনজীবী ফোরামের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ সম্পর্কে অবমাননাকর ও ভিত্তীহীন অভিযোগ করেছেন এবং দলীয় সিদ্ধান্ত মানবেন না বলে ঘোষণা করেছেন। আওয়ামীলীগ দলীয় একজন সম্পাদকের হাতে হাত রেখে আপনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন মর্মে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গত ৬ এপ্রিল বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানস্থ কার্যালয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটি, উপদেষ্টামণ্ডলী ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও সম্পাদকদের এক জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় বিস্তারিত আলোচনা শেষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে আপনার এহেন কার্যক্রমকে দলীয় চরম শৃংখলা পরিপন্থী হিসাবে গণ্য করে সর্বসম্মতভাবে আপনাকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। যে সিদ্ধান্ত ২০ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে।’







