উবার,পাঠাওসহ ১০টি রাইডশেয়ারিং প্রতিষ্ঠানকে এখনি চূড়ান্ত অনুমোদন দিতে পারছে না বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। কারণ হিসেবে বিআরটিএ বলছে, এই প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো রাইড শেয়ারিং নীতিমালার সব শর্ত পূরণ করতে পারেনি।
চূড়ান্ত অনুমোদন বা রাইড শেয়ারিং এনলিস্টমেন্ট সার্টিফিকেট দেয়ার আগে প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যালয় ও কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করে এসব খুঁজে পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন বিআরটিএ’র পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মো. নুরুল ইসলাম।
চ্যানেল আই অনলাইনকে তিনি বলেন: রাইড শেয়ারিং নীতিমালা বাস্তবায়নে বিআরটিএ আলাদা সেল গঠন করেছে। আমরা আবেদন করা ১০টি রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় ও কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করেছি। পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে প্রতিষ্ঠানগুলো রাইড শেয়ারিং নীতিমালার সব শর্ত সম্পূর্ণ মানছে না। পাঠাও উবারসহ রাইড শেয়ারিং অ্যাপগুলো মনিটরিংয়ের জন্য বিআরটিএর কাছে ‘অনলাইন অ্যাকসেস’ ও ‘পাসওয়ার্ড’ দেওয়ার কথা। কিন্তু কোন প্রতিষ্ঠান তা করেনি। মোটরযান চালকের তথ্যাদি ও যাত্রীর জিপিএস লোকেশন ‘ন্যাশনাল হেল্প ডেস্ক’ (৯৯৯) যাতে দেখতে পারে তার ব্যবস্থা রাখার শর্ত আছে। কিন্তু সে শর্ত মানেনি কেউ। শুধু ৯৯৯ ফোন দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। গাড়ি-মোটরসাইকেলের মালিক-চালকের জাতীয় পরিচয় পত্র (এনআইডি) ভেরিফিকেশনের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে জাতীয় পরিচয়পত্রের সার্ভারে প্রবেশাধিকার থাকার কথা। কিন্তু ৯৯৯ এবং এনআইডি’র ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পর্যাপ্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেনি।
অনুমোদনের আবেদন করা এই ১০টি প্রতিষ্ঠানের ৭টিই যেভাবে চলছে তা নীতিমালার একটি শর্তের সঙ্গে পুরোপুরি সাংঘর্ষিক।
রাইড শেয়ারিং নীতিমালার ‘চ’ অনুচ্ছেদের ৬ নম্বর শর্তটি তুলে ধরে নুরুল ইসলাম বলেন: এখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, রাইড শেয়ারিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানকে রাইড শেয়ারিং সার্ভিসের যাবতীয় তথ্যাবলী বাংলাদেশের মধ্যেই প্রক্রিয়াজাত এবং সংরক্ষণ করতে হবে এবং কোনো তথ্য কোনো ভাবেই বাংলাদেশের বাইরে প্রেরণ করা যাবে না। অথচ দেখা গেছে আবেদন করা ১০ টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭টিরই কেন্দ্রিয় সার্ভার দেশের বাইরে। এটা নীতিমালার সম্পূর্ণ উল্টো।
রাইড শেয়ারিং সেবা বাংলাদেশে নতুন এবং বিআরটিএ তাই পরিবর্তন-পরিমার্জনের মাধ্যমে এই সেবার অভিভাবক হচ্ছে বলে জানান তিনি।
তবে চূড়ান্ত অনুমোদনের আগেই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের কয়েকটি বিভাগীয় শহরে চলমান উবার, পাঠাওসহ এই ১০ টি প্রতিষ্ঠানের সেবাকে একবাক্যে ‘অবৈধ’ বলতে চান না বিআরটিএ’র এই পরিচালক।
তিনি বলেন: এনলিস্টমেন্ট সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করা ১০টি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখিয়ে ভ্যাটসহ ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা ফি দিয়েছে। এখন তাদের অনুমোদন দেয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে। এজন্য কিছুটা সময় লাগছে। তবে এখনি তাদের অবৈধ বলার সুযোগ নেই। এই প্রক্রিয়া শেষে যেসব প্রতিষ্ঠান সব শর্তপূরণ করতে পারবে তাদের অনুমোদন দেয়া হবে। কোন প্রতিষ্ঠান অনুমোদন না পেলে তখন তাকে অবৈধ বলা যাবে এবং রাইড শেয়ারিং সেবা অব্যাহত রাখলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, একেবারে শুরুর দিকে কোন রকম অনুমোদন ছাড়া বাস ও সিএনজি অটোরিকশা চালকদের কাছে অবৈধ আখ্যা পেয়ে যাত্রা শুরু করে উবার,পাঠাওয়ের মতো রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানকে নিয়ন্ত্রণে আনতে অর্থাৎ বৈধতা দিতে এবছরের ১৫ জানুয়ারি ‘রাইড শেয়ারিং নীতিমালা’ অনুমোদন করে সরকার। এরপর ১৯ এপ্রিল জাতীয় দৈনিকগুলোতে রাইডশেয়ারিং প্রতিষ্ঠান ও মোটরযান এনলিস্টমেন্ট সার্টিফিকেটের আবেদনের জন্য ১ মাসের সময় বেঁধে দেয় (বিআরটিএ)। এই সময়ের মধ্যে উবার লিমিটেড, পাঠাও লিমিটেড, সহজ লিমিটেড, ওভাই লিমিটেড, আকাশ টেকনোলজি লিমিটেড, গোল্ডেন রিং লিমিটেড, চালডাল লিমিটেডসহ ১০ টি রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান বিআরটিএ অনুমোদনের জন্য আবেদন করে।







