মোবাইলে টি-২১ ও পি-২৪ নামের দুটি অ্যাপস জুয়াড়িরা ডাউনলোড করে পছন্দমতো গেম বাছাই করে খেলা শুরু করতেন। খেলায় জিতল টাকা জমা হতো জুয়াড়ির নির্দিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্টে, আর হারলে টাকা কাটা যেত ওই একই অ্যাকাউন্ট থেকে।
গেমসগুলোতে পুরোপুরি বাংলায় নির্দেশনা রয়েছে। অনলাইন ক্যাসিনো থেকে অর্জিত আয় বিশেষ পন্থায় সংগ্রহ করে পাচার করা হতো বিদেশে।
বাংলাদেশে অনলাইনে অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসার মূলহোতা সেলিম প্রধানকে আটকের পর বেরিয়ে এসেছে এমন নানা তথ্য।
উত্তর কোরিয়ান নাগরিক দো এর সঙ্গে ৫০/৫০ পার্টনারশিপে পি-২৪ এবং টি-২১ নামে দুইটি অনলাইন ক্যাসিনো পরিচালনা করতেন সেলিম প্রধান। যা তার মালিকানাধীন প্রধান গ্রুপের ওয়েবসাইটেও স্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে সেলিম প্রধানের বাসা ও অফিসে অভিযান শেষে এসব তথ্য জানান র্যাব-১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম।
তিনি বলেন, র্যাবের সাইবার মনিটরিং সেল ধারাবাহিক তদন্তে জানতে পারে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অনলাইনে ক্যাসিনো পরিচালনা করে আসছে। এর ভিত্তিতে আমরা অপারেশন প্ল্যান করি। এর মধ্যেই খবর পাই অনলাইন ক্যাসিনোর মূলহোতা সেলিম প্রধান দেশ ছাড়ছেন।
‘‘তাৎক্ষণিক শাহজালাল বিমানবন্দরে থাইল্যান্ডগামী একটি ফ্লাইট থেকে নামিয়ে আনতে সক্ষম হই। এরপর গতকাল সন্ধ্যা থেকে আমরা সেলিম প্রধানের বাসা ও অফিসে অবস্থান নেই। পুরো প্রক্রিয়াটিকে পূর্ণ নীরিক্ষা করতে আমাদের অভিযান শেষ করতে অনেক সময় লেগেছে।’’
তিনি বলেন, এ অভিযানে তার বাসা ও অফিস থেকে ৪৮ বোতল বিদেশি মদ, ২৯ লাখ টাকা, ২৩টি দেশের মোট ৭৭ লাখ সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা, ১২টি পাসপোর্ট, ২টি হরিণের চামড়া, ২৩টি ব্যাংকের ৩২টি চেক, চারটি ল্যাপটপ এবং অনলাইন গেমিং পরিচালনার একটি বড় সার্ভার জব্দ করা হয়েছে।
আটক সেলিম প্রধানকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে এ র্যাব কর্মকর্তা বলেন, ১৯৭৩ সালে ঢাকায় জন্ম নেওয়া সেলিম ১৯৮৮ সালে ভাইয়ের সহযোগিতায় জাপান চলে যান। এরপর সেখানে গাড়ির ব্যবসা শুরু করেন । এক পর্যায়ে জাপান থেকে থাইল্যান্ডে এসে শিপ ব্রেকিংয়ের ব্যবসা শুরু করেন।
‘‘সেখানে উত্তর কোরিয় নাগরিক দো এর সঙ্গে পরিচয় হয় সেলিম প্রধানের। দো বাংলাদেশে সেলিমের মাধ্যমে বিনিয়োগ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং অনলাইনে ক্যাসিনো ব্যবসার পরামর্শ দেন। তার ব্যবসায়িক সকল নথি পর্যালোচনা করে জানা গেছে মি. দো এবং সেলিমের ৫০/৫০ পার্টনারশিপ রয়েছে।’’
সেলিম প্রধান গত ১ বছর ধরে অনলাইনে ক্যাসিনো ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। এর মাধ্যমে মোট কি পরিমাণ অর্থ উপার্জন হয়েছে এবং বিদেশে পাচার করে আসছিলো তা তদন্ত সাপেক্ষে জানানোর কথা বলেছেন র্যাব-১ অধিনায়ক।
আটক সেলিম প্রধান ও তার সহযোগী আক্তারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইন, ফরেন কারেন্সি আইন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন ও মাদক আইনে অভিযোগ আনা হবে বলেও জানান তিনি।







