যুদ্ধ করার চেয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা অনেক বেশি কঠিন কাজ মন্তব্য করে শান্তিতে নোবেল জয়ী কলম্বিয়ান প্রেসিডেন্ট হুয়ান ম্যানুয়েল সান্তোস বলেছেন, মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বিশ্বকে আবারও নতুন করে ভাবতে হবে।
শনিবার নরওয়ের রাজধানী অসলোতে আনুষ্ঠানিকভাবে নোবেল পুরস্কার গ্রহণের পর এক বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি।
দ্য রেভল্যুশনারি আর্মড ফোর্সেস অব কলম্বিয়া’র (ফার্ক) গেরিলাদের সঙ্গে ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তির মাধ্যমে দেশটিতে পাঁচ দশকের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অবসান ঘটান সান্তোস।
গত ৭ অক্টোবর এবারের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী হিসেবে সান্তোসের নাম ঘোষণা করা হয়।
বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে জিরো টলারেন্স নীতির ক্ষতিকর দিকও তুলে ধরে এ নোবেল জয়ী বলেন, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় যুদ্ধের দামামা বাজছে। সকলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিরাজ করছে-সেখানে জিরো টলারেন্স নীতি বিশ্বকে আরও খারাপের দিকে টেনে তিনি যাচ্ছে। যুদ্ধ করার চেয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা অনেক কঠিন।
গত নভেম্বরে ফার্ক গেরিলাদের সঙ্গে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করেছে সান্তোস নেতৃত্বাধীন কলম্বিয়া সরকার। কয়েক দশক ধরে মার্কসবাদী গেরিলাদের সঙ্গে চলা এ সংঘর্ষে কমপক্ষে আড়াই লক্ষাধিক মানুষ নিহত হয়েছে। এতে বাস্তুচ্যুত হয়েছে আরো কয়েক লাখ মানুষ।
নোবেল পুরস্কার গ্রহণের অনুষ্ঠানে ওই সহিংসতায় নিহত পরিবারদের কথা স্মরণ করে সান্তোস বলেন, আমি যুদ্ধের সময় কলম্বিয়ান মানুষের স্বাধীনতার অধিকার রক্ষার সময়ে নেতৃত্ব দিয়েছি এবং শান্তির সময়েও নেতৃত্ব দিয়েছি। আমি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, যুদ্ধ করার চেয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা অনেক বেশি কঠিন কাজ।
বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, আমি দেখেছি যারা সহিংসতার ভুক্তভোগী নয় তারা শান্তিচুক্তি মেনে নিতে প্রস্তুত নয়। অথচ যারা এর শিকার তারা যেন সহজে ক্ষমা করে দিয়ে ঘৃণাহীন হৃদয় নিয়ে ভবিষ্যতের মুখোমুখি হতে তৈরি।
অসলোর সিটি হলে অনুষ্ঠিত শান্তিতে নোবেল পুরস্কার হিসেবে সান্তোসকে একটি স্বর্ণপদক, ডিপ্লোমা ও ৮ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রাউন দেয়া হয়।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর ফার্ক গেরিলা ও কলম্বিয়া সরকারের মধ্যে ওই শান্তি চুক্তি সই হয়। তবে ২ অক্টোবর গণভোটে কলম্বিয়ার জনগণ ওই চুক্তি প্রত্যাখ্যান করে। যদিও অল্প ব্যবধানে জয় পায় চুক্তি বিরোধীরা।
এরপর কলম্বিয়ার সরকার গেরিলাদের সঙ্গে চুক্তি বাস্তবায়নে আরেকটি সংশোধিত শান্তিচুক্তি কংগ্রেসে উপস্থাপন করে। ডিসেম্বরের শুরুতে তা ১৩০-০ ভোটে পাস হয়। এরআগে দেশটির সিনেটে ৭৫-০ ভোটে পাস হয় চুক্তিটি।







