বিএনপির নব ঘোষিত কেন্দ্রীয় কমিটিতে সবচে বড় চমক একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরীর নাম। যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত সাকাপুত্র হুম্মামকে নিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে রাখা কতটা যৌক্তিক, যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত সাকাপুত্রকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে দলে নিয়ে বিএনপি কি প্রমাণ করল, তা নিয়ে নাগরিক সমাজের সঙ্গে কথা বলেছে চ্যানেল আই অনলাইন।
তারা জানিয়েছেন, যুদ্ধাপরাধীদের পৃষ্ঠপোষকতা করতেই হুম্মাম কাদের চৌধুরীকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে রাখা হয়েছে।
গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার বলেন, বেশ কয়েকদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল তারা জামায়াত থেকে আলাদা হবে, সে সম্ভাবনা তারা যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত সাকাপুত্র হুম্মামকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে রেখে নাকচ করে দিল। এর মাধ্যমে তারা বিএনপি প্রমাণ করল তারা যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে এবং যুদ্ধাপরাধীদের পৃষ্ঠপোষকতা করতেও প্রস্তুত।
ইমরান এইচ সরকার আরও বলেন, মূলত বিএনপি কখনোই চায় না তাদের ১৭ বছরের রাজনৈতিক মিত্র জামায়াতে ইসলামীকে জোট থেকে হারাতে।
জাতীয় সম্মেলনের প্রায় ৪ মাস পর পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করলো বিএনপি। ৫০২ সদস্যের কমিটির ১১৩ জনই নতুন। শনিবার বিএনপি চেয়ারপারসন অনুমোদিত এ কমিটি ঘোষণা করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
নবঘোষিত কমিটিতে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত সাকা চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরীর নাম আসাতে কোনো প্রকার বিচলিত হননি শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী।
শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. আবদুল আলীম চৌধুরীর স্ত্রী বলেন, বিএনপিতো যুদ্ধাপরাধীদের পুর্নবাসিত করেছে। হুম্মামকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে রাখা খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার ও স্বাভাবিক যোগসূত্র। 
বিএনপির হুম্মামকে না নিলে চলবেই না বলে শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী বলেন, এতে প্রমাণিত হয় জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির ঐক্য পুরোপুরি অটুট ।
পাকিস্তানকে খুশী রাখতেই বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে সাকাপুত্র হুম্মামকে রাখা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবির।
তিনি বলেন, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ছিলেন পাকিস্তানের দালাল ও দোসর। যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত পর তার পুত্র হুম্মামকে বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটিতে দলভুক্ত করে যুদ্ধাপরাধীদের প্রতি তাদের আনুগত্য প্রকাশ করল।
শাহরিয়ার কবির বলেন, একাত্তরের যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত সাকা চৌধুরীর ছেলে হুম্মামের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ আমরা মিডিয়াতে দেখেছি। ট্রাইব্যুনালের করা মামলার আসামিও তিনি।
বিএনপি হুম্মামকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান দিয়ে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে পরাজয়ের প্রতিশোধ নগ্নভাবে প্রকাশ করল বলেও জানান শাহরিয়ার কবির। 
একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বলেন, এখন সাকাপুত্র হুম্মামের কাজ হবে তার বাবার অসমাপ্ত কাজ শেষ করা। সাকার অসমাপ্ত কাজ ছিল বাংলাদেশকে পাকিস্তানে রূপান্তরিত করা, যা এখন পিতার ফাঁসির পর, পুত্র ওপর বর্তেছে।







