পরস্পর যুদ্ধরত দুই শেয়ালের ছবি জিতলো ২০১৫ সালের ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার অব দ্যা ইয়ার প্রতিযোগিতা। শখের ফটোগ্রাফার ডন গুটোস্কি কানাডার ওয়াপুস্ক ন্যাশনাল পার্ক থেকে ছবিটি তুলে এই পুরস্কার জেতেন।
ছবিতে দেখা যায় একটি লাল শেয়াল আরেকটি মেরুদেশীয় শেয়ালের রক্তাক্ত মৃতদেহ কামড়ে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। শেয়াল দু’টির মধ্যে ভয়াবহ এক লড়াইয়ের পর লাল শেয়ালের বিজয়ের ওই মুহূর্তকে ক্যামেরাবন্দী করেন ডন।
বিবিসিকে ডন বলেন, ‘এটি আমার জীবনে তোলা সর্বশ্রেষ্ঠ ছবি। প্রাণী দু’টির মাথা, তাদের দেহ, লেজের অবস্থান- এমনকি তাদের চেহারার অভিব্যক্তির মাঝেও একট ভারসাম্য রয়েছে।’
দুই প্রজাতির এই শেয়ালের এলাকা ওয়াপুস্ক ন্যাশনাল পার্কে পাশাপাশি থাকায় অনেক জায়গায়ই একটার মধ্যে আরেকটা ঢুকে গেছে। লাল শেয়াল মেরুদেশীয় শেয়ালের চেয়ে আকারে বড়। ফলে এরা নিজ এলাকার কাছে মেরুদেশীয় শেয়ালের বাসা দেখতে পেলেই আক্রমণ করতে উদ্যত হয়। এর আগেও দুই প্রজাতির শেয়ালের মধ্যে এ ধরনের লড়াই দেখার কথা স্বীকার করেছেন পার্কের গাইডরা। তবে এই প্রথম তা ক্যামেরাবন্দী করা হলো।
ডন গুটোস্কিকে মঙ্গলবার লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামে এক অনুষ্ঠানে ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার অব দ্যা ইয়ারের পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। প্রায় ১শ’ টি দেশ থেকে পাঠানো ৪২ হাজার আলোকচিত্র থেকে বিচারকরা এ বছরের বিজয়ীদের নির্বাচন করেন।
প্রতিযোগিতার অন্যতম বিচারক ক্যাথি মোর্যানের মতে, ঘটনার ভয়াবহতাকে ছবিটিতে অবিশ্বাস্যভাবে হালকা করে দেখানো হয়েছে। ছবিটি দেখে মোটেও তেমন রক্তাক্ত বা নৃশংস মনে হচ্ছিলো না। ‘বরং প্রথম দেখায় অনেকটা লাগছিলো যেনো শেয়ালটা তার শীতের কোটটা দাঁত দিয়ে টেনে খুলছে!’
ক্যাথি মোর্যান ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ম্যাগাজিনের প্রাকৃতিক ইতিহাস বিষয়ক সিনিয়র এডিটর। তার মতে, ছবিটি জলবায়ু পরিবর্তনের শক্তিশালী বার্তা বহন করে। তিনি জানান, পৃথিবীর মেরু ও মেরু-প্রান্তীয় অঞ্চলগুলো যত উষ্ণ হবে, লাল শেয়াল ততই উত্তরের দিকে সরে যাবে। এভাবে তারা মেরুদেশীয় শেয়ালের এলাকায় আরো বেশি করে ঢুকতে থাকবে এবং ভবিষ্যতে এরকম ঘটনা আরো বেশি ঘটবে।
ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার অব দ্যা ইয়ার প্রতিযোগিতাটি গত ৫০ বছর ধরে সাফল্যের সঙ্গে চলে এসেছে। এতে মোট ১৮টি শ্রেণীতে শ্রেষ্ঠ ফটোগ্রাফার নির্বাচন করা হয়।
প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠ পুরস্কারটি হলো জুনিয়র ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার অব দ্যা ইয়ার, যা পেয়েছেন চেক প্রজাতন্ত্রের ১৪ বছর বয়সী ওন্দ্রে পেলানেক তার লড়াইরত ‘রাফ’ পাখির ছবির জন্য। ক্যাথি মোর্যানের ভাষায়, ‘একটি ভালো আলোকচিত্রে যে উপাদানগুলো থাকা প্রয়োজন তার সবই আছে এখানে, তাও এমনভাবে, যা ছবিটিকে ভিন্ন একটি মাত্রা দিয়েছে।’
পানির নিচে তোলা শ্রেষ্ঠ ছবির পুরস্কার পেয়েছে অস্ট্রেলিয়ার মাইকেল অও’র তিমির সার্ডিন মাছ শিকারের ছবি।
‘সিঙ্গেল ইমেজ ফটোজার্নালিস্ট’ পুরস্কার জিতেছেন জার্মান বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ ফটোগ্রাফার ব্রিটা জাসচিনস্কি। চীনের গুইলিনে অবস্থিত সেভেন স্টার পার্কে খেলা দেখানো বাঘ ও সিংহের ছবি তুলে এ পুরস্কার পান তিনি।
লাল-পেয়ে বাজপাখির ছবি তুলে ‘পাখি’ শ্রেণীতে পুরস্কার জিতেছেন ইসরাইলের আমির বেন-দভ। ৫ দিনের চেষ্টায় মনের মতো ছবি তুলতে সফল হন তিনি।
স্পেনের পেরে সোলের আন্দালুসিয়া উপকূলে বাহিয়া দি কাদিজ ন্যাচারাল পার্কে ফুলের ছবি আকাশ থেকে তুলে পুরস্কার পেয়েছেন।
‘শহুরে’ শ্রেণীতে শেয়ালের ছায়ার ছবি তুলে পদক জিতলেন যুক্তরাজ্যের আলোকচিত্রী রিচার্ড পিটার্স।
‘উভচর ও সরিসৃপ’ শ্রেণীতে পুরস্কার পেয়েছেন নেদারল্যান্ডসের এডউইন জিসবার্স। ঝর্ণার স্রোতের ওপর দিয়ে টিকটিকির হেঁটে যাওয়ার ছবি তোলেন তিনি।
ফ্রান্সের জনাথন জাগট মরুভূমিতে উড়ন্ত লাল আইবিস পাখির ছবি তুলে ‘১৫-১৭ বছর’ বয়সীর পুরস্কার জয় করেছেন।
স্পেনের হুয়ান তাপিয়া ‘ইমপ্রেশন্স’ শ্রেণীতে ভাঙ্গা ক্যানভাসের মাঝ দিয়ে পাখি উড়ে আসার ছবি তুলে জিতে নিয়েছেন শ্রেষ্ঠ ফটোগ্রাফারের পুরস্কার।
ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজয়ামে শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে ছবিগুলো প্রদর্শিত হবে।






