যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেয়ার আধা ঘণ্টার মধ্যে এক মেক্সিকান সীমান্তের কাছের একটি ব্রীজের উপর থেকে লাফিয়ে নিচে পড়ে আত্মহত্যা করেছেন।
৪৫ বছর বয়সী গুয়ালুপে ওলিভাস ভ্যালেনসিয়াকে তৃতীয়বারের মতো যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেয়া হয়েছিলো।
নিজের জিনিসপত্র ভরা প্লাস্টিক ব্যাগের পাশেই তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তার কিছুক্ষণ পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে মৃত্যু হয় ওলিভাসের।
তিনি এমন সময় আত্মাহুতি দিলেন যখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নতুন প্রস্তাব দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, ওলিভাস যখন লাফিয়ে পড়েন তার আগে তিনি ‘আমি মেক্সিকো ফিরতে চাই না’ বলে চিৎকার করছিলেন। তাকে খুব হতাশাগ্রস্ত লাগছিলো।

যুক্তরাষ্ট্রের সানডিয়াগো এবং মেক্সিকোর তিজুয়ানা শহরের ই-১ চ্যাপারাল সীমান্ত পাড় হওয়ার রাস্তার একটু দূরে অবস্থিত একটি ব্রিজ থেকে লাফ দেন ওলিভাস।
অভিবাসীদের জিনিসপত্রবহন করতে যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টম অফিসারদের পক্ষ থেকে যেসব প্ল্যাস্টিকের ব্যাগ দেয়া হয়, ওলিভাসের মরদেহের পাশেই এরকম একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ পাওয়া গেছে বলে স্থানীয় সংবাদপত্রে সংবাদ এসেছে।
মেক্সিকোর কর্মকর্তারা বলেছেন, তৃতীয়বারের মতো ওলিভাসকে বের করে দেয়া হয়েছিলো। প্রচ- ধাক্কা ও হৃদযন্ত্র বন্ধ হয়ে তিনি মারা গেছেন।
মেক্সিকোর অন্যতম গোলযোগপূর্ণ এলাকা এবং মাদক চোরাচালানের স্বর্গ সিনালোয়ার স্থানীয় বাসিন্দা ছিলেন ওলিভাস। সহিংসতা থেকে বাঁচতেই সবাই মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেক মেক্সিকান।
সম্প্রতি প্রেডিডেন্ট ডোলান্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রায় ১১ মিলিয়ন কাগজপত্রহীন অভিবাসীরা আশঙ্কা এবং আতঙ্কের মধ্যে আছেন। এসব অভিবাসীর মধ্যে অনেক মেক্সিকানও রয়েছেন।
মেক্সিকোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী লুইস ভিদেগারে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের একপেশে অভিবাসননীতি মেক্সিকো কখনোই মেনে নেবে না। বিষয়টি নিয়ে এখন থেকে আলোচনা চলবে। মেক্সিকানদের অধিকার রক্ষায় মেক্সিকো প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থা নিবে এবং জাতিসংঘে উত্থাপন করবে।







