হাত ধোয়ার জন্য বিশ্বজুড়ে ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসকারী যেসব সাবান ব্যবহার করা হয় সেগুলোতে থাকা ১৯টি উপাদান ক্ষতিকর বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রে সেগুলো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি উপাদান খুবই বিপজ্জনক। মার্কিন ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন আগামী এক বছরের মধ্যে ওইসব উপাদান থাকা হাত ধোয়ার সাবান বাজার থেকে তুলে নিতে বলেছে।
চিকিৎসকরা বলেন, জনস্বাস্থ্যের জন্য হাত ধোয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাত্যহিক কাজ। শুধুমাত্র এই একটি সুঅভ্যাসের মধ্য দিয়ে ছোট-বড় সবাই নানা ধরনের ছোট-খাটো রোগ বালাই দূরে রাখতে পারে। এজন্যই ১৫ অক্টোবর পালিত হয় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস। তবে, মার্কিন বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, হাত ধুয়ে রোগবালাই দূরে রাখতে গিয়ে এমন বিশেষ সাবান ব্যবহার করা উচিত নয় যার নিজের উপাদানগুলোর মধ্যেই ক্ষতিকর কিছু থাকে।
হাত ধোয়ার জন্য এখন বাজারে উপকরণের শেষ নেই। অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবান থেকে শুরু করে হান্ডওয়াশ এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার সব কিছুরই ব্যবহার হচ্ছে ব্যাপকভাবে।
গবেষকরা অবশ্য বলছেন, হাত ধোয়ার কাজে সাধারণ সাবান আর সাধারণ পানিই সবচেয়ে বেশি উপকারী। দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা করলে এর বেশি কিছু ব্যবহার বরং স্বাস্থ্যের জন্য আরো বেশি ক্ষতির কারণ হতে পারে।
ইউএস ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) সম্প্রতি একটি গবেষণা চালিয়ে বের করেছে, হাত ধোয়ার জন্য বিশেষায়িত সাবানে থাকা অন্তত ১৯টি উপাদান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। সঙ্গে সঙ্গে না হলেও দীর্ঘসময়ে এসবের ক্ষতিকারক প্রভাব পড়ে মানুষের স্বাস্থ্যের উপর। তাই সাধারণ সাবান আর সাধারণ পানি ব্যবহারের উপরই গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।
ক্ষতিকর হিসেবে প্রমাণিত উপাদান থাকা কিছু সাবান তাই গত মাসে নিষিদ্ধ করেছে এফডিএ। বাজার থেকে ওইসব পণ্য তুলে নিতে সময় দেওয়া হয়েছে এক বছর। তবে অ্যালকোহলিক স্যানিটাইজার কিংবা হাসপাতাল বা ক্লিনিকগুলোতে ব্যবহার হয় এমন কিছু পরিস্কারককে এ তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে।

এফডিএ তাদের রিপোর্টে বলছে, সাধারণ সাবান আর সাধারণ পানি দিয়ে হাত ধুলেই মানুষ নিজেকে অসুস্থতার হাত থেকে রক্ষা করতে পারে এবং জীবাণু থেকে দূরে থাকতে পারে।
কিন্তু, হাত ধোয়ার জন্য ব্যবহার হয় এমন কিছু বিশেষ সাবানে ট্রিকলোসান এবং টিকলোককার্বন ব্যবহার হয় যাকে ক্ষতিকর হিসেবে মনে করছেন গবেষকরা। এফডিএ’র মতে, এসব উপাদান ছাড়া সম্ভব হলে হাত ধোয়ার সাবান বানানো যাবে। তবে সাধারণ সাবান ও পানির চেয়ে অসুস্থতা দূর করতে এবং ইনফেকশন থেকে বাঁচাতে হ্যান্ডওয়াশ সাবান বেশি কার্যকর কিনা সেটা প্রমাণে কোম্পানিগুলো ব্যর্থ হয়েছে বলে এফডিএ গবেষকরা জানিয়েছেন।
হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা ওয়াইপসের ক্ষেত্রে অবশ্য নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য নয়। কারণ সেখানে পানির ব্যবহার হয় না। নিষেধাজ্ঞাটি বরং তরল সাবান, বার সোপ বা বডি ওয়াশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কারণও এসবে পানি ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু, এইসব সাবানকে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল হিসেবে প্রচার করা হয় এবং ১৯টি উপাদানের অন্ততঃ দুয়েকটি সেখানে থাকে যা দীর্ঘসময় পরে ক্ষতি বয়ে আনতে পারে।
নিষিদ্ধ ঘোষিত সেই সব ওই উপাদানগুলোর মধ্যে আছে ক্লোফ্লুকার্বন, ফ্লুরোসালান, হেক্সাক্লোরোফিন, হেক্সিলরেসরসিনল, আয়োডিন কমপ্লেক্স, আয়োডফর, ননিলফেনোক্সিপলি, পোলোজ্যামার, আনডিকইলিয়াম, মিথাইলবেনজোথোনিয়াম ক্লোরাইড, ফেনোল গ্রেটার দ্যান ১.৫ পারসেন্ট, ফেনোল লেস দ্যান ১.৫ পারসেন্ট, সেকেন্ডারি অ্যামিলটিক্রিসল, সোডিয়াম অক্সিক্লোরোসেন, ট্রিবোমসালান, ট্রিকলোকার্বন, ট্রিকলোসান এবং ট্রিপল ডাই।
সাবান নিয়ে যে বিতর্কই থাকুক, ১৫ অক্টোবর বিশ্ব হাত ধোয়া দিবসটি মানুষকে সচেতন করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
বারডেমের শিশু বিষয়ক সিনিয়র মেডিকেল অফিসার ফাহমিদা রহমান লুনা চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, সুস্থতার জন্য নিয়মিত হাত ধোয়ার কোনো বিকল্প নেই। ‘কিন্তু আমরা হাত ধোয়ার জন্য সবসময় সেটাই বেছে নেবো যেটা আমাদের জন্য ক্ষতিকর নয় এবং কোনো রকম সমস্যার সৃষ্টি করে না। সেক্ষেত্রে ভালো জিনিসটাই সবসময় নিজের জন্য বেছে নেওয়া জরুরি।’










