বিশ্বে প্রতিরক্ষা খাতে বাজেটের দিক দিয়ে এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই খাতে ব্যয়ের দিক দিয়ে অন্যান্য দেশকে পরাস্ত করলেও চলতি বছরে তাদের ব্যয় হ্রাসের বিপরীতে বেড়েছে চীনের প্রতিরক্ষা বাজেট। তবুও তা যুক্তরাষ্ট্রের খরচের অর্ধেকেরও অনেক কম।
বহু বছর ধরে সামরিক খাতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় সর্বাধিক হলেও সাম্প্রতিক সময়ের পরিসংখ্যানে অন্যান্য দেশগুলোকে এই পথে অগ্রসরমান ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করে ৫৬৯ বিলিয়ন ইউএস ডলার। যার অধিকাংশ ব্যয় হয় অভিযান, রক্ষণাবেক্ষণ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেছনে। আন্তর্জাতিক বিনিময় হার হিসাব করা আইএইচএস’এর তথ্য অনুযায়ী এই খাতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ২০১৪ সালে ব্যয় করা ৫৮৭ বিলিয়ন ইউএস ডলার থেকে হ্রাস পেয়েছে।
সর্বাধিক প্রতিরক্ষা বাজেটের হিসেবে বিশ্বের প্রথম ২৫ টি দেশ:
যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যয় কমছে সেখানে চীনের ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। যদিও তা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় নগণ্যই বলা যায়। ২০১৫ সালে এই খাতে চীনের ব্যয় দাড়িয়েছে ১৯১ বিলিয়ন ইউএস ডলার, যা ২০১৪ সালের ১৭৬ বিলিয়ন ইউএস ডলারের থেকে বৃদ্ধি পেয়েছে। চীনের পরেই প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়ের দিক থেকে সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য, রাশিয়া এবং ফ্রান্স।
২০১৪-১৫ সময়ে প্রতিরক্ষা ব্যয়ে সবচেয়ে বৃদ্ধি ও হ্রাস
যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও প্রতিরক্ষা খাতে ২০১৪ ও ২০১৫ সালের মধ্যে ব্যয় হ্রাস পাওয়ার দিক থেকে সবচেয়ে বেশি পতন দেখা গেছে জাপান এবং ব্রাজিলের। অন্যদিকে সাউথ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য এবং চিনের প্রতিরক্ষা খাতের ব্যয় সর্বাধিক বৃদ্ধি পেয়েছে। যেখানে এক বছরে চীনের বৃদ্ধি পেয়েছে ১৪.৭ বিলিয়ন ইউএস ডলার।
বিশ্বের প্রতিরক্ষা খাতে সর্বাধিক ব্যয় করার তালিকায় প্রথম ২৫ টি দেশের মধ্যে এশিয়ার রয়েছে ১৩ টি দেশ। যার সম্মিলিত ব্যয়ের পরিমাণ ৮৪০ ইউএস ডলার। সর্বাধিক ব্যয় করা ২৫ টি দেশের মধ্যে পশ্চিমা দেশ রয়েছে ৭টি ও উত্তর আমেরিকার দেশ দুইটি। এছাড়াও এ তালিকায় রয়েছে অস্ট্রেলেশিয়ার অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আমেরিকার ব্রাজিল এবং আফ্রিকা মহাদেশের আলজেরিয়া।
বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়ের কয়েকটি ভিন্ন হিসাব পাওয়া যায়। আইএইচএস প্রতিটি দেশের প্রতিরক্ষা বাজেটকেই ইউএস ডলারে মূল্যায়ন করেছে। যেখানে ডলারের বিপরীতে রুবলের অবমূল্যায়নের ফলে রাশিয়ার বাজেট অনেকটা কমে গেছে।
আইএইচএস বলেছে নিরাপত্তা খাতে ব্যয় অন্তর্ভুক্ত না করায় অন্যান্য সূত্র থেকে প্রাপ্ত হিসাবের তুলনায় সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা বাজেট কম দেখাচ্ছে। আবার যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশী সামরিক অর্থায়নে (এফএমএফ) বরাদ্দ তাদের হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
সূত্র : দ্য টেলিগ্রাফ






