রাশিয়ার আগ্রাসন নিয়ে যুক্তরাজ্যের হাউস অব কমন্সে নজিরবিহীন ভাষণ দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এই প্রথম অন্য কোনো দেশের নেতা হিসেবে প্রথম হাউজ অব কমন্সে ভাষণ দেয়ার রেকর্ড করলেন তিনি। এছাড়া এক সাক্ষাৎকারে রাশিয়ার সঙ্গে নানা বিষয়ে সমঝোতার বার্তা দেন জেলেনস্কি।
বিবিসি জানায়, ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জেলেনস্কি হাউজ অব কমন্সে তার বক্তব্য পেশ করেন। তার বক্তব্যের শুরুতে এবং শেষে সংসদ সদস্যদেরা তাকে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানায়। রাশিয়ার আক্রমণের পর থেকে যুক্তরাজ্যের সমর্থনের জন্য তাদের ধন্যবাদ জানান তিনি।
জেলেনস্কি এখন পর্যন্ত যুদ্ধ সম্পর্কে প্রতিদিনের ঘটনার বর্ণনা তুলে ধরেন তার বক্তব্যে এবং ইউক্রেন কোনোভাবেই হাল ছাড়বে না এবং তারা লড়াই চালিয়ে যাবে বলে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, এটি এমন একটি যুদ্ধ যা আমরা শুরু করিনি এবং আমরা চাইনি কখনো কিন্তু আমাদের এখন যুদ্ধ করতে হচ্ছে।
তিনি যুক্তরাজ্যের যুদ্ধকালীন নেতা উইনস্টন চার্চিলের বক্তব্য উল্লেখ করে বলেন, তাই ‘আমরাও বনে, মাঠে, তীরে, রাস্তায় সর্বত্র যুদ্ধ করবো।’
তিনি তার বক্তব্যে যুক্তরাজ্যের এমপি’দের ইউক্রেনকে সাহায্যের আবেদন জানান। এছাড়া রাশিয়াকে ‘সন্ত্রাসী রাষ্ট্র’ হিসাবে নামকরণ করার এবং মিত্রদের তাদের আকাশ নিরাপদ কিনা তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেন, জেলেনস্কি নেতা এমন একজন নেতা যে সবার হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। তাকে সাহায্য করতে জনসন রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের চারপাশে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা কঠোর করার জন্য চাপ তৈরি করার প্রতিশ্রুতি দেন।
এনডিটিভি’র প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট এবিসি নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলে, তিনি রুশপন্থী দুটি বিচ্ছিন্ন অঞ্চল যেটিকে পুতিন স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিলো তাদের মর্যাদা দেয়ার বিষয়ে ‘সমঝোতা’ করতে রাজি আছেন।
তিনি আরও বলেন, ইউক্রেনকে ন্যাটো সদস্যপদ দেয়ার জন্য তিনি আর চাপ দিচ্ছেন না। এই ন্যাটো সদস্যপদ দাবি নিয়েই রাশিয়া ইউক্রেনের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
ভ্লাদিমির পুতিন গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে আক্রমণ শুরু করার ঠিক আগে ইউক্রেনের পূর্ব সীমান্তের দুটি বিচ্ছিন্ন অঞ্চল দোনেৎস্ক ও লুহানস্ককে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। কিন্তু একে স্বীকৃতি দিতে নাকোচ করেছিল জেলেনস্কি। তবে গতকাল দেয়া বিবৃতিতে তিনি রাশিয়াকে শান্ত করতে এ বিষয়ে সমঝোতা করার আশ্বাস দেন।
তিনি বলেন, এই দুই রাষ্ট্রকে রাশিয়া ছাড়া কেউ স্বীকৃতি জানায়নি কিন্তু এদের নিয়ে সমস্যা সৃষ্টির হচ্ছে, তাই এই দুইটি রাষ্ট্রের নাগরিক কীভাবে বসবাস করবে বা করতে চায় তা নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত আছি।
তিনি আরও বলে, এই দীর্ঘ সময়ে তিনি বুঝতে পেরেছেন ন্যাটো ইউক্রেনকে তাদের সদস্যপদ দিতে আগ্রহী নয়। কারণ তারা জোট নিয়ে বিতর্কিত কোনো বিষয়ে জড়াতে চায় না এবং রাশিয়ার সাথেও দ্বন্দ্বে জড়াতে চায় না।
জেলেনস্কি বলেন, এসব বিষয় নিয়ে প্রেসিডেন্ট পুতিনের সাথে আলোচনা করতে চাই। তাই পুতিনকে আল্টিমেটাম বা সতর্কবার্তা না ছড়িয়ে আলোচনা শুরু করার আহ্বান জানাচ্ছি।










