যশোরে মাত্র সাড়ে নয়’শ বর্গফুটের ছাদে শতাধিক গাছ-গাছালির পসরা সাজিয়েছেন ফারহানা ইয়াসমিন নামের এক গৃহিনী। তার ছাদকৃষি এখন প্রেরণা হয়ে উঠেছে স্থানীয় নারীদের।
ফারহানা ইয়াসমিন মধ্যবিত্ত এক গৃহিনী। ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল মিশে থাকবেন গাছ-গাছালির সঙ্গে। আগে পাকা ছাদের বাড়ি ছিল না। কিন্তু ফারহানা ইয়াসমিনের ছিল গাছ গাছালির প্রতি অগাধ ভালোবাসা। তাই দিন গুনেছেন, একটি ছাদঅলা পাকা বাড়ি হলেই হাত দেবেন স্বপ্ন পুরনের কাজে। চার বছর আগে যখন ছোট্ট এই বাড়িটির কাজ শেষ হয়, তখনই শুরু হয় গাছের চারা যোগাড় থেকে শুরু করে সব রকমের কৃষি তৎপরতা। এখন এই ছোট্ট পরিসর রীতিমন সেজে উঠেছে বহু রকমের গাছে।
এ প্রসঙ্গে ফারহানা ইয়াসমিন বলেন: ছোট বেলা থেকেই মনে হতো একটা গাছ লাগাই। সে গাছটা আস্তে আস্তে বড় হবে, দেখতে ভালো লাগবে। আমরা আবার অক্সিজেন পাচ্ছি। মনটা একটু খারাপ হলে-একটা টুল নিয়ে এসে গাছের দিকে তাকালে মন ভালো হয়ে যায়। এরা আমার কাছে সন্তানের মতো।

কি নেই এই এক চিলতে ছাদকৃষিতে? রকমারি গাছই এখন ফারহানার উৎসাহের কেন্দ্রবিন্দু। এখানেই শেষ নয়! তিনি চান তার দেখাদেখি দেশের আর সকল মানুষও যেনো উদ্বুদ্ধ হয়।
ফারহানা বলেন, কমলা লেবু-কাগজি লেবু-বাতাবি লেবু; জাম-জামরুল কি নেই আমার এ ছাদ কৃষিতে। আমার এখন মনে হয়: নিজের যদি আরও একখণ্ড জমি কেনার সমর্থ থাকতো তাহলে আমি আরও গাছ লাগাতাম। আমি চাই, আমার দেখা-দেখি দেশের অন্যসকল মানুষ যেনো গাছ লাগানোর প্রতি উদ্বুদ্ধ হয়।
বললেন, সে অর্থে কারোরই সহযোগিতা পাননি তিনি। কিন্তু তাতে থেমে থাকেনি তার উদ্যোগ। এখন মনের চাহিদা পূরনের পাশাপাশি আসছে আর্থিক লাভও। তিনি বলেন, এই সিজনে আমি সাড়ে পাঁচ হাজার টাকার শুধু বেদানা বিক্রি করেছি। এছাড়া তিন হাজার টাকার গাছ বিক্রি করেছি।
এই সমৃদ্ধ ছাদকৃষি এখন এই পরিবারের সবারই প্রিয় ক্ষেত্র। এখানে এসে সবাই স্বপ্ন দেখেন। বিশেষ করে ফারহানা ইয়াসমিনের স্বামী সৈয়দ আকরাম হোসেন। একজন ব্যস্ততম ব্যবসায়ী হয়েও এখন সকাল বিকেল ছাদে এসে গাছ-পালা দেখভাল করেন তিনি।

সৈয়দ আকরাম হোসেন বলেন: বিকালে যখন আমি ছাদে আসি মনটা এমনিতেই ভালো হয়ে যায়। আমরা এখান থেকে অক্সিজেন পাচ্ছি। নির্ভেজাল ফল খেতে পারছি। আমার মনে হয় যাদের বাড়িতে ছাদ রয়েছে, তাদেরও ছাদে কিছু কিছু গাছ লাগানো উচিত।
ফারহানা ইয়াসমিনে মেয়ে আফসানা ইয়াসমিনও মায়ের কাজে উদ্বুদ্ধ। তিনি বলেন, আমরা যখন ছাদে আসি আমাদের খুব ভালো লাগে। সবাই মায়ের কাজের প্রশংসা করে। আমিও সুযোগ পেলে মাকে সহযোগিতা করি।
আর প্রতিবেশী নারীদের কাছে এই ছাদকৃষিই যেন সামনে এগোনোর পথ। সবাই স্বপ্ন দেখেন তাদেরও থাকবে কৃষিতে পূর্ণ এমন ছাদ।
গাছ আর ফসল গ্রামীণ জীবনে গৃহস্থালির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সবারই শেকড় যেহেতু গ্রামে তাই শহরের ছোট্ট পরিসরের জীবনেও সবাই স্বপ্ন দেখেন কৃষিল সঙ্গে থাকবার। এই প্রশ্নে ছাদকৃষিই ভরসার জায়গা। আমরা যখন ফারহানা ইয়াসমিনের ছাদকৃষির চিত্রধারণ করছি তখন আশপাশের কয়েকজন গৃহিনীর সঙ্গেও কথা হলো আমাদের। তারাও অপেক্ষায় আছেন। পাকা ছাদঅলা বাড়ি উঠলেই শুরু করবেন ছাদকৃষি।







