দেশে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গাজীপুর-৫ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন চিত্রনায়ক ফারুক। সব ঠিক থাকলে আগামী নির্বাচনে দলের পক্ষ থেকে নির্বাচনে অংশ নেয়ার সমস্ত প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন বলে চ্যানেল আই অনলাইনকে জানিয়েছেন ‘মিয়া ভাই’ খ্যাত এই অভিনেতা।
আসন্ন নির্বাচনে কারা আওয়ামী লীগের হয়ে ভোট যুদ্ধে সামিল হওয়ার টিকেট পাচ্ছেন, এটা এখনো চূড়ান্ত না হলেও লোকমুখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম শোনা যাচ্ছে। সেই সম্ভাব্যদের তালিকায় আছেন চিত্রনায়ক ফারুক। ঢাকা-১৭ আসন থেকে আওয়ামী লীগের হয়ে টিকেট পেতে পারেন তিনি, এমন কথাই আকাশে বাতাসে ভাসছে। যা জানতে যোগাযোগ করা হয় ‘সারেং বউ’ খ্যাত এই অভিনেতার সাথে।
এমন খবরে ফারুক জানালেন, বৃহস্পতিবার পার্টি অফিস থেকে তাকে ডেকে পাঠানো হয়েছিলো। সেখানে তিনি ‘গ্রীন সিগন্যাল’ পেয়েছেন। তবে পার্টির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের দিকেই আপাতত চেয়ে আছেন।
এরপর ফারুক বলেন, ব্যক্তির চেয়ে পার্টি বড়। এটা আমি বলে দিচ্ছি, আমি আমার পার্টিকে প্রথম দেখি। আওয়ামী লীগ কীভাবে ক্ষমতায় আসবে সেটা আগে চাই। পার্টি ক্ষমতায় কীভাবে আসবে সেটা আমি চাই। তার জন্য যা করণীয় আমি করতে রাজি আছি।
দল থেকে মনোনয়ন পাচ্ছেন কিনা এ বিষয়ে কোনো কিছু জানতে পেরেছেন কিনা জিজ্ঞেস করলে ফারুক বলেন, যতটুকু শুনেছি, আমি যে জায়গার জন্য মনোনয়ন চেয়েছিলাম সেখান থেকে না দিয়ে অন্য জায়গা থেকে আমাকে মনোয়ন দেয়া হচ্ছে। যে জায়গা থেকে পার্টি আমাকে মনোনয়ন দিতে চাইছে, পার্টির এমন সিদ্ধান্তে আমি সাংঘাতিক ভাবে খুশি হয়েছি। আমিতো আগেই বলেছি, পুরো বাংলাদেশকে আমি ধারণ করি। পার্টি যেখান থেকে আমাকে নির্বাচন করতে বলবে আমি সেখান থেকেই প্রস্তুত আছি।
নিজেকে হিরো নয়, আওয়ামী লীগের একজন কর্মী দাবী করে ফারুক বলেন, আমরা হলাম বঙ্গবন্ধুর সৈনিক। আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার কর্মী। পার্টি এবং শেখ হাসিনার যেভাবে নির্দেশনা থাকবে সেভাবেই কাজ করবো। যতোই আমি হিরো ফারুক হই না কেন, পার্টির নির্দেশনা মানতে আমি বাধ্য। আমার নেতা শেখ হাসিনা, তিনি যা বলবেন আমি তাই করবো। দেশের যে প্রান্তে বলবেন সেখানেই আমি দাঁড়াবো।
রাজনীতি দিয়েই জীবন শুরু করেছিলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি লড়াই সংগ্রামে রাজপথে ছিলেন জানিয়ে ফারুক বলেন, ছাত্রলীগ দিয়েই আমি রাজনীতিতে আসি। ছয়ষট্টির ছয় দফা আন্দোলন, আগরতলার ষড়যন্ত্র মামলা, উনষত্তরের গণঅভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তীতে জাতীর জনক ও আমাদের মহান নেতা বঙ্গবন্ধুকে যখন হত্যা করা হয় তখন কাউকে পায়নি, তখনও আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে নিয়ে রাজপথে ছিলাম। এমনকি রক্তাক্ত বাংলায় যখন আপা(শেখ হাসিনা) আসলেন তখনও আমি রাজপথে ছিলাম।








