সদ্যপ্রয়াত মার্কিন সিনেটর জন ম্যাককেইনের শেষকৃত্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও জর্জ ডব্লিউ বুশকে থাকার আমন্ত্রণ জানানো হলেও ডাকা হয়নি বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে।
তাদেরকে আমন্ত্রণ না জানানো ভুলবশত নয়, বরং ম্যাককেইনের শেষ ইচ্ছার প্রতি সম্মান রেখেই করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তার পরিবার।
বুধবার ৮২তম জন্মদিনে আরিজোনায় শুরু হবে ম্যাককেইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর আনুষ্ঠানিকতা।
শনিবার পর্যন্ত পরিবারসহ দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন। এরপর রোববার ইউএস ন্যাভাল অ্যাকাডেমি গোরস্থানে তাকে সমাহিত করা হবে।
শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের শেষ দিন, অর্থাৎ শনিবার ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল ক্যাথেড্রালে নেয়া হবে ভিয়েতনাম যুদ্ধের এই আলোচিত মার্কিন যোদ্ধার মরদেহ। সেখানে বারাক ওবামা এবং জর্জ ডব্লিউ বুশ তাদের শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন।
কিন্তু সেই অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের বদলে ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সকে নিমন্ত্রণ করা হয়েছে।
কারণ হিসেবে ম্যাককেইনের পরিবার জানিয়েছে, এটাই ছিল প্রয়াত সিনেটরের শেষ ইচ্ছা। মৃত্যুর আগে ম্যাককেইন অনুরোধ করে গিয়েছিলেন, তার শেষকৃত্যে যেন ওবামা ও বুশকে আমন্ত্রণ জানানো হয় এবং ট্রাম্পকে থাকতে নিষেধ করা হয়।
বুশ আর ওবামা – এ দু’জনই ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ম্যাককেইনের প্রতিদ্বন্দ্বী। একজন ২০০০ সালে দলীয় প্রাইমারিতে প্রার্থিতার দৌঁড়ে ম্যাককেইনকে হারিয়েছিলেন, আরেকজন ২০০৮ সালে প্রেসিডেন্ট হওয়ার লড়াইয়ে।
তবে দু’জনেই আরিজোনার এই সিনেটরকে গভীরভাবে সম্মান করতেন। তার মৃত্যুতে এই দুই সাবেক প্রেসিডেন্ট হৃদয়গ্রাহী বিবৃতিও দিয়েছেন।
ওবামা বলেছেন, নিজের ভালোর আগে বৃহত্তর স্বার্থকে স্থান করে দেয়ার সাহস ছিল ম্যাককেইনের মধ্যে। আর বুশ তাকে বলেছেন সর্বোচ্চ পর্যায়ের দেশপ্রেমিক একজন মানুষ। ‘কিছু জীবন এতটাই স্পষ্টভাবে অস্তিত্বশীল যে তাদের শেষ হয়ে যাওয়াটা কল্পনা করাও কষ্ট,’ বলেন তিনি।
অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে ওপর প্রকাশ্যেই নিজের বিরোধিতার কথা জানিয়ে আসছিলেন ম্যাককেইন।
জন ম্যাককেইনের মৃত্যুর পর ট্রাম্প টুইটবার্তায় তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। আবার স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক আগেই জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থেকে স্বাভাবিক উচ্চতায় উত্তোলন করে তীব্রভাবে সমালোচিত হয়েছেন তিনি।







