বিশ্বকাপের আগে চোটে পড়ার ঝুঁকি থেকে দূরে রাখতে মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল খেলতে অনেক আগেই বারণ করে দিয়েছে বিসিবি। তবে সাকিবের ব্যাপারে রাখা হয়েছে শিথিলতা। এ অলরাউন্ডার নিজে চাইলে খেলতে পারবেন হাই-ইনটেনসিটির টি-টুয়েন্টি টুর্নামেন্টটিতে।
মেডিকেল টিম সুস্থতার ছাড়পত্র দিলেই সাকিব আল হাসান যোগ দেবেন সানরাইজার্স হায়দরাবাদের ডেরায়, এমনটা মনে করছে খোদ বিসিবিও।
আগামী ২৩ মার্চ শুরু হচ্ছে আইপিএল। তার আগেই সাকিবের ফিট হয়ে ওঠার সম্ভাবনা বাড়ছে। মিরপুরে একাডেমি মাঠে তার নিয়মিত রানিং, ব্যাটিং, জিম সেশন সে সম্ভাবনার পালে দিচ্ছে হাওয়া। তবে ২০ মার্চের আগে খেলায় ফিরতে পারবেন না টাইগার অলরাউন্ডার, সেটি নিশ্চিত করেই জানিয়েছেন বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান আকরাম খান।
বিপিএল ফাইনালে আঙুলের চোট জাতীয় দলের হয়ে অ্যাসাইনমেন্ট পালনে নিউজিল্যান্ড যেতে দেয়নি সাকিবকে। কিন্তু প্রতিবারের মতো আইপিএল শুরুর আগেই সাকিব একটু একটু করে হয়ে উঠছেন ফিট।
বাস্তবতা বলছে, মোস্তাফিজের চেয়ে চোটপ্রবণ ক্রিকেটার বর্তমানে সাকিবই। গত ১৪ মাসে বাঁ-হাতের ভিন্ন ভিন্ন আঙুলে চোটের কারণে বেশিরভাগ সময় মাঠের বাইরে কাটিয়েছেন। তারপরও কেনো ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে সাকিবকে টি-টুয়েন্টি খেলতে বিসিবি বারণ করছে না সেটি নিয়ে ক্রিকেটাঙ্গনে কয়েকদিন ধরেই চলছে নানা আলোচনা।
বুধবার বিসিবি পরিচালক ও মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হলে সাকিব ইস্যুতে প্রশ্নবাণে জর্জরিত হতে থাকেন। রাজধানীর একটি হোটেলে আইসিসির সফট ড্রিংকস পার্টনার কোকা-কোলা আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিসিবির প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি।
টেস্ট ক্রিকেটের আগে সাকিবের সমস্যা থাকে। এবারও নিশ্চিতভাবেই আইপিএলের আগে সে ফিট হয়ে যাবে…
জালাল ইউনুস: যেটা বললেন এটা আপনাদের ধারণা। আমার মনে হয় তা না। ইনজুরি তার আছে। এখন যে ইনজুরিটা ছিল, কিছুটা সেরে উঠেছে। তাকে আরও দশ দিনের একটা বিশ্রাম দেয়া হয়েছে। এই দশ দিনে ফিটনেস চলে আসলেও তৃতীয় টেস্ট খেলার সুযোগ নেই। এরপরে যদি ফিট হতে পারে এবং চিকিৎসক ছাড়পত্র দেয়, তাহলে যেকোনো সংস্করণেই সে খেলতে যেতে পারে। কেবল আইপিএল না, বাংলাদেশের খেলাও যদি থাকত নিশ্চিতভাবেই জয়েন করত।
মোস্তাফিজকে আইপিএলের অনুমতি দিচ্ছেন না কারণ সে ইনজুরির ঝুঁকিতে থাকে। সাকিব আমাদের বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড়। ইনজুরির ঝুঁকি নিশ্চয়ই তারও আছে?
জালাল ইউনুস: এটা কিন্তু বোর্ডের মাথায় আছে। যাতে সাকিবের ওপর কোনো চাপ না থাকে। আইপিএল বলেন বা অন্যকোনো টুর্নামেন্ট খেলতে যাওয়া বলেন, এখন আমাদের আসল টার্গেট হচ্ছে বিশ্বকাপ। এই বিশ্বকাপের জন্য আমরা ডেফিনেটলি একটা গ্যাপ পাব। যতগুলো খেলোয়াড় স্কোয়াডে থাকবে তাদের নিয়ে সিরিয়াসলি একটা ক্যাম্প করার কথা আছে।
আমার মতে বাধানিষেধ (খেলার ব্যাপারে) কোনভাবেই থাকা উচিত না। যদি খেলোয়াড়টি ফিট থাকে খেলতে যেতেই পারে। তবে ওইখানে গিয়ে যাতে ইনজুরিতে না পড়ে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। তাকে নিজেকে রক্ষা করে খেলতে হবে। দরকার হলে কিছু ম্যাচ খেলল, কিছু ম্যাচ খেলে চলে এল, যাতে চাপ না থাকে। তবে আমরা কোনো খেলোয়াড়কে এভাবে মানা করতে পারি না যে, সে কোন টুর্নামেন্ট খেলতে পারবে না। যদি ফিট থাকে এবং বোর্ড মনে করে, সে যেতেই পারে।
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ ছেড়ে সাকিব কেন আইপিএল খেলবেন?
জালাল ইউনুস: সাকিব কিন্তু প্রিমিয়ার লিগে খেলতে চাচ্ছিল। চোট থাকাতেই প্রিমিয়ার লিগে তাকে আমরা অ্যালাউ করিনি।







