কম সময়ে ও সহজে লেনদেন করার মাধ্যম হিসেবে অনেক আগেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে মোবাইল ব্যাংকিং। এখন প্রতিদিনই বাড়ছে এর গ্রাহক সংখ্যা। বাড়ছে লেনদেনের পরিমাণও। গত জুলাইয়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে দৈনিক লেনদেন ছাড়িয়েছে ১ হাজার ২০৮ কোটি টাকা।
মোবাইল আর্থিক হিসাব (এমএফএস) নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মোবাইল ব্যাংকিংয়ে যুক্ত হয়েছে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানির বিল অর্থাৎ সেবা মূল্য পরিশোধ, কেনাকাটার বিল পরিশোধ, বেতন-ভাতা প্রদান, বিদেশ থেকে টাকা পাঠানো অর্থাৎ রেমিট্যান্স প্রেরণসহ বিভিন্ন ধরনের লেনদেন।
তাই দিন দিন এর গ্রাহক সংখ্যা বাড়ছে। ফলে দেশের ব্যাংকিং সেবায় এসেছে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা দিচ্ছে মোট ১৬টি ব্যাংক। এসব প্রতিষ্ঠানে জুলাই শেষে মোট নিবন্ধিত এমএফএস হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৩০ লাখ ৯১ হাজার। এ সময়ে মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৪২ হাজার ৬৪৮ জনে।
এমএফএসের নিয়ম অনুযায়ী, টানা ৩ মাস একবারও লেনদেন না করলে তাদের হিসাবকে নিষ্ক্রিয় হিসাব বলে গণ্য করা হয়। সে হিসাবে জুলাইয়ে সক্রিয় হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৩৫ লাখ ৬৮ হাজার, যা আগের মাস জুনের তুলনায় ১১ লাখ বা ৩.৪ শতাংশ বেশি। গত জুনে সক্রিয় মোবাইল ব্যাংকিংয়ের হিসাব সংখ্যা ছিল ৩ কোটি ২৪ লাখ ৫৮ হাজার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, জুলাইয়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে মোট লেনদেন হয়েছে ৩৭ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকা। জুনে এর পরিমাণ ছিল ৩১ হাজার ৭০৮ কোটি টাকা। লেনদেন বাড়ার পাশাপাশি জুলাইয়ে লেনদেনের সংখ্যাও বেড়েছে ১৪ শতাংশ।
প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, এমএফএস এ গত জুলাইয়ে প্রতিদিন গড়ে ৭৩ লাখ ৩৫ হাজার লেনদেন হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে আদান-প্রদান হয়েছে ১ হাজার ২০৮ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। জুনে মোট লেনদেন হয়েছে ৩১ হাজার ৭০৮ কোটি টাকা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচিত মাসজুড়ে মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবগুলোতে টাকা জমা পড়েছে ১৩ হাজার ৪৬০ কোটি টাকা, যা আগের মাসের চেয়ে ২১.৬ শতাংশ বেশি। উত্তোলন করেছে ১২ হাজার ৯৯৯ কোটি টাকা, যা জুনের তুলনায় সাড়ে ১৩ শতাংশ বেশি। রেমিট্যান্স এসেছে ২৮ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। ব্যক্তি হিসাব থেকে ব্যক্তি হিসাবে অর্থ স্থানান্তর হয়েছে ৮ হাজার ১২২ কোটি টাকা। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বেতন-ভাতা বিতরণ প্রায় ৭৫.৫০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৪৩ কোটি টাকায়। বিভিন্ন সেবার বিল পরিশোধ করা হয়েছে ৫১৯ কোটি টাকা। কেনাকাটার বিল পরিশোধ করা হয়েছে ৩৭১ কোটি টাকা। সরকারি পরিশোধ ৪১৬ কোটি টাকা। এছাড়া অন্যান্য হিসাবে লেনদেন হয়েছে ৬১৬ কোটি টাকা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এমএফএস লেনদেনের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী, একজন গ্রাহক তার অ্যাকাউন্টে দিনে ৫ বারে ৩০ হাজার টাকা ক্যাশ ইন বা জমা করতে পারবেন। মাসে ২৫ বার সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা ক্যাশ ইন করা যায়। আগে প্রতিদিন ২ বারে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা জমা করতে পারতেন একজন গ্রাহক। মাসে ২০ বারে ১ লাখ টাকা ক্যাশ ইন করা যেত।
আর্থিক খাতে লেনদেনের সেবা বাড়াতে ২০১০ সালে মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০১১ সালের ৩১ মার্চ বেসরকারি ডাচ-বাংলা ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালুর মধ্য দিয়ে দেশে এই সেবার যাত্রা শুরু হয়। এর পর ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালু করে বিকাশ। বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং সেবার বাজারের সিংহভাগই বিকাশের দখলে।








