একদিকে দুর্দান্ত ফুটবল খেলে শেষ চারে ওঠে আসা আর্জেন্টিনা অন্যদিকে কলম্বিয়ার বিপক্ষে হোঁচট খেয়ে শুরু করলেও নতুন মোড়কে ঘুরে দাঁড়ানো যুক্তরাষ্ট্র। ২৭ জুনের ফাইনালে শিরোপার লড়াইয়ে কে যাচ্ছে সান্তা ক্লারাতে; সে প্রশ্নের উত্তরের জন্য ফুটবল ভক্তদের অপেক্ষা করতে হবে বুধবার সকাল ৭টার সিয়াটলের সেমিফাইনাল পর্যন্ত।
তবে শুরু থেকেই মেসির জন্য গলা ফাটিয়ে সমর্থন দিয়ে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল পাগল দর্শকরা এদিন কাকে সমর্থন দেবে; সেটাই এখন দেখার বিষয়। সান্তা ক্লারা থেকে শিকাগো-সিয়াটল থেকে ফক্সবরো সব মাঠের মেসিকে মাঠে দেখার জন্য সকার ফুটবল দেশের দর্শকদের সে কি আকুতি! ইনজুরির খোঁড়ায় ডাগ আউটে বসে চিলির বিপক্ষে সতীর্থদের জয়উল্লাস যখন দেখছিলেন মেসি; দর্শকরা তো আগুয়েরো-ইগুয়েইন নয় মেসির নামেই জয়ধ্বনি দিচ্ছিলো।
অবশ্য আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কখনই জয়ের স্বাদ পাওয়া হয়নি সকারদের। ১৯৩০’র প্রথম বিশ্বকাপে ৬-১ গোলের হার দিয়ে শুরু করলেও এখন অনেকটাই বদলেছে ক্লিন্সম্যানের যুক্তরাষ্ট্র্র। শেষ দুই দেখায় অবশ্য জয় পায়নি কোন দলই। ২০০৮ এ তো গোলশূন্য ড্র এরপর ১১’তে এসে ১-১ গোলের সমতায় মাঠ ছাড়ে দু’দল। এটাই সাহস যোগাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রকে।
তবে এ পর্যন্ত কোপায় দু’বার দেখা হয়েছে দু’দলের। দু’টিতেই জয় আর্জেন্টিনার। ৯৫’র উরুগুয়ে কোপায় ৩-০ গোলের জয় পায় আর্জেন্টিনা। আর ২০০৭ সালের ভেনেজুয়েলায় ৪-১ গোলের জয় দেখে ম্যারাডোনার উত্তরসূরীরা।
উরুগুয়ের পর শতবর্ষী এ টুর্নামেন্টে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৪টি শিরোপা আর্জেন্টিনার থাকলেও ২৩ বছর শিরোপা ছুঁয়ে দেখা হয়নি আর্জেন্টাইনদের। আর সে জায়গায় একবারই সেমিফাইনাল খেলেছে যুক্তরাষ্ট্র।
তবে সব ছাপিয়ে স্পট লাইট এখন মেসির ওপর। এ পর্যন্ত ৪ গোল করে চিলিইয়ান স্ট্রাইকার ভার্গাসের সঙ্গে যৌথভাবে রয়েছেন সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে। যদিও ভেনেজুয়েলার ম্যাচ বাদে খুব কম সময়ের জন্যই মাঠে ছিলেন এ ফুটবল জাদুকর। 
গত আসরেও আর্জেন্টিনাকে নিয়ে গিয়েছিলেন কোপার ফাইনালে। কিন্তু চিলির কাছে হারে শিরোপা ছুঁইয়ে দেখা হয়নি। আর জার্মানির কাছে হারে তো চির-কাঙ্খিত বিশ্বকাপ থেকে ফিরেছেন হাত ছোঁয়া দূরত্ব থেকে। ফিফার সাবেক বস সেফ ব্লাটারের সম্প্রতিক এক কথা ওঠে আসে মেসির আক্ষেপের কথা। টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার নেওয়ার সময় মেসি নাকি বিড়বিড় করে বলছিলেন: আমি তো এটা চাইনি। শিরোপা চেয়েছিলাম।
বহু বছর বাদে আর্জেন্টিনাকে অলিম্পিক ফুটবলের শিরোপা এনে দেওয়া মেসির হাত ধরেই যে আবার বিশ্বসেরার মুকুট পরবে আরর্জেন্টিনা সে ব্যাপারে বাজি ধরার লোকের কম নেই। তবে কোপা শিরোপাও অনেক কাঙ্খিত ফুটবলের এ ক্ষুদে জাদুকরের কাছে। আর তার জন্য সর্বোচ্চটাই বাজি ধরতে প্রস্তুত আছেন এ কাতালায়ন স্ট্রাইকার।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে জয়টা যে খুব একটা সহজ হবে না; সেটার ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন আর্জেন্টাইন কোচ জেরার্ডো মার্টিনো। শুধু মেসিই নয় এ ম্যাচে আলো ছড়াতে পারেন বার পোস্টের নিচে দাঁড়ানো সার্জিও রোমেরো। ভেনিজুয়েলার বিপক্ষে দু’টি দুর্দান্ত সেভ এবং একটি পেনাল্টি সেভ করে দিয়ে রেখেছেন সে ইঙ্গিত।

ব্যক্তিগত মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে মেসি চাইছেন সর্বোচ্চ গোল কিংবা সেরা খেলোয়ায়াড় নয় শিরোপা নিয়েই ঘরে ফিরতে। ৫৪ গোল করে গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতার সঙ্গে আর্জেন্টিনার জার্সিতে সর্বোচ্চ গোলের মালিক এখন তিনি। বস মার্টিনোও চাইছেন এ আসরেই যেনো মেসি বাতিগোলকে ছাড়িয়ে যান।
কোপায় এখন পর্যন্ত ৪ ম্যাচে ১৪ গোল করা আর্জেন্টিনা যেমন শিরোপার অন্যতম দাবিদার। পিছিয়ে নেই ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন চিলিও। মেক্সিকোর জালে ৭ বার বল জড়িয়ে ৪ ম্যাচে তাদের গোলও ১৪। যদিও এবারের আসরে প্রথম দেখায় আলবিসেলেস্তাদের বিপক্ষে ২-১ গোলের হার দেখে চিলি। তবে এতো সমীকরণ নয় যুক্তরাষ্ট্রের দর্শদের মনে আপাতত শুধু মেসিই।







