দুই দলের কী আকাশ-পাতাল পার্থক্য! ভিনিসিয়াস জুনিয়র প্রথম সুযোগে একা পেয়েও বল তুলে দিলেন বার্সেলোনা গোলরক্ষকের হাতে। আর লুইস সুয়ারেজ প্রথম শটেই করলেন গোল! লিওনেল মেসিকে খাঁচায় বন্দী করতে গিয়ে সুয়ারেজ যে ফাঁকায় রয়ে গেলেন, সেটাই যেন ভুলে গেলেন রিয়াল মাদ্রিদ ডিফেন্ডাররা!
ডিফেন্ডারদের হিসাবে গড়মিলের ভুলটাই সর্বনাশ করে ছাড়ল রিয়ালের। মেসিকে আটকে রাখতে গিয়ে সুয়ারেজ হয়ে গেলেন স্বাধীন-বাঘ। উসমানে ডেম্বেলের সঙ্গে দুর্দান্ত বোঝাপড়ায় বার্সাকে ৩-০ গোলে জিতিয়ে কোপা ডেল রের ফাইনালে নিয়ে গেছেন এ উরুগুয়ে ফরোয়ার্ড। দুই লেগ মিলিয়ে বার্সার অগ্রগামিতা ৪-১ গোলের। সুয়ারেজ নিজে করেছেন জোড়া গোল।
অথচ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে কী সুযোগগুলোই না হাতছাড়া করেছে রিয়াল। ভিনিসিয়াস শুরু থেকেই যেভাবে খেলেছেন তাতে একটা গোল পাওনাই ছিল লস ব্লাঙ্কোসদের। ভিনিসিয়াস নিজে ভীতি ছড়িয়েছেন, করিম বেনজেমাকে দিয়ে সারাক্ষণ বার্সা রক্ষণকে আতঙ্কে রেখেছেন। প্রথমার্ধে দুজনে মিলে গোটা তিনেক সহজ সুযোগ হাতছাড়া না করলে ম্যাচের ফলটা উল্টোই হতে পারতো।
দ্বিতীয়ার্ধে এসে হঠাত গা ঝারা দিয়ে ওঠে বার্সা। ৫০ মিনিটে ডেম্বেলের পাসে আলতো করে পা ছুঁয়ে প্রথম গোল করেন সুয়ারেজ। এই গোলেই হিসেব ভুলে খেই হারিয়ে ফেলে রিয়ালের রক্ষণ।
ম্যাচ শেষে জোড়া গোল নামের পাশে থাকলেও আসলে হ্যাটট্রিকই দাবী করতে পারেন সুয়ারেজ। তাকে আটকাতে গিয়ে ৬৯ মিনিটে নিজেদের জালে বল জড়িয়ে দেন রাফায়েল ভারানে। খেলা তখনই শেষ।
এর আগে কোপা ডেল রেতে সাত দেখায় রিয়ালের বিপক্ষে একটিও গোল পাননি মেসি। ৭৩ মিনিটে আর্জেন্টাইন সুপারস্টারের সামনে সুযোগ এসেছিল খরা কাটানোর। রিয়াল ডি-বক্সে সুয়ারেজ ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় বার্সা। কিন্তু নিজের খরা কাটানোর চেয়ে বন্ধুর ফর্মহীনতা দূর করতে বেশি মনোযোগ দিলেন বার্সা অধিনায়ক। সুযোগে গোল করে ২ মার্চের এল ক্লাসিকোতে আরও একবার ভীতি ছড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাখলেন সুয়ারেজ।






