ঘটনাটা গতবছরের আগস্টের। এক অলসদিনে ক্লিফিন ফ্রান্সিসকে তার বন্ধু জিজ্ঞেস করেন, বিশ্বকাপে মেসিকে দেখতে রাশিয়া যাবে কিনা? কৌতুকের ছলেই ফ্রান্সিস উত্তরে করেছিলেন, ‘অবশ্যই। কে বলতে পারে আমি রাশিয়া যাবো না।’
পেশায় ফ্রিল্যান্স গণিত শিক্ষক ক্লিফিন সেদিন জানতেনও না কীভাবে তার কথা বাস্তবে ফলে যাবে! দিনে ৪০ ডলার আয় করা এ দক্ষিণ ভারতীয় যুবক স্বপ্নের নায়ক লিওনেল মেসিকে দেখতে রাশিয়া পাড়ি দিয়েছেন। তবে বিমানে করে নয়, সাইকেলে চেপে!
কীভাবে মাথায় চাপল এই ভূত? ক্লিফিন বলছেন, ‘আমি চিন্তা করলাম রাশিয়ায় যাওয়া আর একমাস সেখানে থাকার জন্য আমার যথেষ্ট টাকা নেই। তারপরই নিজেকে প্রশ্ন করতে থাকি তাহলে কম অর্থে কি উপায় হতে পারে? সেই উত্তর হল বাইসাইকেল।’

চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয় ক্লিফিনের মহাকাব্যিক যাত্রা! শুরুতে দুবাই পর্যন্ত বিমান যাত্রা। এরপর ফেরি করে ইরান। তারপর সেখান থেকে ২ হাজার ৬শ মাইল সাইকেলে চেপে রাশিয়ায়।
এত কষ্ট করে যাত্রা পাড়ি দেয়ার পুরষ্কার ক্লিফিন পাবেন হাতেনাতেই। সেটি হল মেসির সাক্ষাৎ, ‘আমি সাইক্লিং ভালোবাসি। আর আমি ফুটবল বলতে পাগল। আমি শুধু এই স্বপ্নের যোগসাজশ ঘটিয়েছি।’
‘আমি সমর্থন করি আর্জেন্টিনা এবং লিওনেল মেসি আমার প্রিয়। তাকে পুজো করি আমি। তার সাথে দেখা করা আর তাকে আমার সাইকেলে একটা অটোগ্রাফ দেয়ার কথা বলাটাই আমার স্বপ্ন।’
পথে অম্ল-মধুর দুই স্মৃতি আছে ক্লিফিনের। দুবাইয়ে ৭০০ ডলার খরচ করে নতুন সাইকেল কিনতে হয়েছে। আটকে ছিলেন জর্জিয়ার নো-ম্যান্স ল্যান্ডে।

সবচেয়ে মধুর স্মৃতিটা এসেছে ইরানে। ইরান সম্পর্কে যে ধারণা ছিল, সেটা বদলে গেছে ক্লিফিনের, ‘ইরান বিশ্বের চমৎকার একটি দেশ এবং মানুষগুলোও চমৎকার। ৪৫ দিন ওখানে কাটিয়েছি। অথচ এরমধ্যে হোটেলে ছিলাম মাত্র দুদিন।’
বেশিরভাগ সময়ই ইরানিরা ক্লিফিনকে নিজেদের বাড়িতেই রেখেছেন। অবশ্য প্রতিশ্রুতিও আদায় করে নিয়েছেন। বিশ্বকাপে যেন ইরানকে সমর্থন করেন ক্লিফিন।
একদিন ভারতও বিশ্বকাপ খেলবে বলে বিশ্বাস ক্লিফিনের। সেদিন তার কষ্ট সার্থক হবে বলে বিবিসিকে বলেছেন এ ভারতীয় যুবক।







