মেক্সিকোর বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট সাংবাদিক, অ্যাক্টিভিস্ট এবং আইনজীবী তাদের বিরুদ্ধে সরকার গুপ্তচরবৃত্তি করেছে উল্লেখ করে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছেন। গুপ্তচরবৃত্তির জন্য তাদের ফোন হ্যাক করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
সরকারের বিরুদ্ধে দেশের নয়জন নাগরিক এখন পর্যন্ত এই গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ দায়ের করেছেন। এ ব্যাপারে মেক্সিকো সিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগকারীরা বলেছেন, এর মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটাচ্ছে।
এর আগে নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, এসব পেশার মানুষদের ওপর নজরদারির জন্য এমন একটি স্পাইওয়্যার ব্যবহার করা হচ্ছিল যা অপরাধী এবং জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়।
ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়, ফরেনসিক বিশ্লেষকরা সংশ্লিষ্ট কিছু মেসেজ পরীক্ষা করে সিদ্ধান্তে এসেছেন ওই স্পাইওয়্যার জাতীয় সফটওয়্যর সরকারের সমালোচকদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হতো।
তবে মেক্সিকো সরকারের মুখপাত্র তখন এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছিলেন।
নিউইয়র্ক টাইমসের ওই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ‘পেগাসাস’ নামের ওই সফটওয়্যার মেক্সিকান গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে বিক্রি করেছিল ইসরায়েলি কোম্পানি এনএসও গ্রুপ।
তবে বিক্রির সময় শর্ত দেয়া হয়েছিল, সফটওয়্যারটি শুধু অপরাধী এবং জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে তদন্তের কাজে ব্যবহার করতে হবে।
কিন্তু এর বদলে মেক্সিকান সরকার ওই সফটওয়্যার অনুসন্ধানী সাংবাদিক, দুর্নীতিবিরোধী অ্যাক্টিভিস্ট এমনকি বেশ কয়েকজন আইনজীবীর বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ করা হয়।
পেগাসাস যেকোন স্মার্টফোনে সহজে অনুপ্রবেশ করতে পারে এবং ব্যবহারকারীর অগোচরে ফোনকল, টেক্সট মেসেজসহ অন্যান্য সব ধরণের যোগাযোগ মনিটর করে। শুধু তাই নয়, এই স্পাইওয়্যার নিজ থেকে ফোনের মাইক্রোফোন বা ক্যামেরা চালু করতে পারে, যার ফলে যে কারো ব্যক্তিগত আলোচনায়ও আড়ি পাতা সম্ভব।







