বিসিবি থেকে অনাপত্তিপত্র ছিল এক মাসের। কিন্তু এসেক্সে যোগ দেয়ার চার দিন বাদেই দেশের পথ ধরলেন তামিম ইকবাল। ইংলিশ কাউন্টি ক্লাবটির পক্ষ থেকে ‘ব্যক্তিগত কারণে’র কথা বল হয়েছে। তামিমের কোনও বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছিল না। এর মাঝেই কিছু গণমাধ্যম খবর প্রকাশ করে, ‘মুসলিম বিদ্বেষে’র শিকার হতে হতে বেঁচে যাওয়া তামিম আতঙ্কে ইংল্যান্ড ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
পরে প্রায় চব্বিশ ঘণ্টার কাছাকাছি এসে টাইগার তারকা মুখ খুললেন। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে তামিম জানালেন, এসেক্স ছাড়ার পেছনে আছে কেবল ‘ব্যক্তিগত কারণ’ই! সেইসঙ্গে হেইট ক্রাইম বা মুসলিম বিদ্বেষের মত কারণের গল্পটিও উড়িয়ে দিয়েছেন লাল-সবুজের তারকা।
মঙ্গলবার দুপুর নাগাদ ইংলিশ কাউন্টি ক্লাব এসেক্স তাদের ওয়েবসাইটে এক বিবৃতিতে জানায়, ‘ব্যক্তিগত কারণে এই মুহূর্ত থেকে আর দলের সঙ্গে নেই তামিম। তার জন্য আমাদের শুভকামনা রইল, তার ব্যক্তিগত কারণের প্রতিও থাকছে আমাদের শ্রদ্ধা।’
তামিমের ব্যক্তিগত কারণটা ঠিক কী, সেটি তখন জানায়নি এসেক্স। ৮ ম্যাচের জন্য চুক্তিতে এসে এক ম্যাচ পরই ফিরে যাওয়া তারকার ব্যক্তিগত কারণকে কেবল শ্রদ্ধার চোখে দেখেই শেষ টেনেছে ক্লাবটি। ব্যক্তিগত সমস্যা কাটিয়ে তামিম আবারো এসেক্সে যোগ দেবেন কিনা সেটিও জানায়নি তারা। ২৮ বছর বয়সী টাইগার বাঁহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান গত রোববার এসেক্সের জার্সিতে নেমে দলের হারা ম্যাচে ৭ বলে ৭ রানের ইনিংস খেলেছেন। সেখানেই ইতি ঘটেছে এসেক্স-রোমাঞ্চের।
এরপরই কিছু গণমাধ্যম সূত্রের বরাতে খবর দেয়, সোমবার রাতে সপরিবার খাবার খেয়ে রেস্টুরেন্ট থেকে বাসায় ফিরছিলেন তামিম। তখন কয়েকজন অজ্ঞাতব্যক্তি তাদের ধাওয়া করে। দৌড়ে কোনমতে নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছে বেঁচেছেন তামিমরা। তখনই স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা ও পুত্র আরহাম ইকবাল খানকে নিয়ে লন্ডন থেকে দেশের বিমান ধরার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
আক্রমণকারী অজ্ঞাত ব্যক্তিদের হাতে অ্যাসিড ছিল বলেও গণমাধ্যমে আসে। ইংল্যান্ডের রাস্তাঘাটে কিছুদিন ধরে ভিন্ন মত ও বর্ণের মানুষের ওপর অজ্ঞাতরা অ্যাসিড ছুঁড়ে সন্ত্রাস করছে। তামিমের স্ত্রী আয়েশা মাথায় হিজাব পরেন। সেকারণে তাদের লক্ষ্য বানানো হয়েছিল কিনা সেটি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। ঘটনার পরপরই দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন তামিম।

গণমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশের পর বুধবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দিয়েছেন তামিম। তাতে হেইট ক্রাইমের বিষয়টি উডিয়ে দিয়ে লিখেছেন, ‘আমি সকল ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের জানাতে চাই, আমি এসেক্সের সঙ্গে চুক্তি সংক্ষিপ্ত করে ব্যক্তিগত কারণে দেশে ফিরে আসছি। কিছু গণমাধ্যম খবর প্রকাশ করেছে আমি সেখানে হেইট ক্রাইমের শিকার হয়েছি। যেটা আদতে সত্যি নয়। ক্রিকেট খেলার জন্য ইংল্যান্ড আমার খুব পছন্দের একটি জায়গা, এবং ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেয়ার পরও এসেক্স আমার প্রতি সমর্থনই জানিয়েছে। আমার সকল ভক্ত, সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের ধন্যবাদ, যারা মেসেজ ও নানাভাবে আমার খবর জানতে উদগ্রীব ছিলেন। ভবিষ্যতে আবারো ইংল্যান্ডে ফিরে ক্রিকেট খেলার জন্য মুখিয়ে থাকব।’







