পরিশ্রম দিয়ে কতদূর যাওয়া সম্ভব, তার উত্তম উদাহরণ যেন মুশফিকুর রহিম। যারা মাঠের মানুষ তারা জানেন মুশফিক কতটা পরিশ্রমী। পরিশ্রম দিয়ে সীমাবদ্ধতার শেকল ছিঁড়ে তিনি এখন বাংলাদেশের ব্যাটিং নির্ভরতার প্রতীক। টেস্ট দলের অধিনায়কও। অথচ মুশফিক ভাবতেও পারেননি কখনও বাংলাদেশ দলের প্রতিনিধিত্ব করা হবে তার।
বিকেএসপিতে পড়ার সুবাদে মুশফিক কোচ হিসেবে পেয়েছিলেন মানজিত সিংকে। মুশি যখন অনূর্ধ্ব-১৭ দলে, তখন মানজিত বলেছিলেন- ‘তুমি একদিন দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করবে।’ কোচের কথা সেদিন বিশ্বাস হয়নি মুশফিকের। উত্তরে বলেছিলেন- ‘না, না… আমি পারব না।’ তখন কোচ আরও জোর দিয়ে বলেছিলেন, ‘তুমি ঠিকই পারবে।’
মুশফিক জাতীয় দলের চৌকাঠে পা রাখেন পরের বছরই, ২০০৫ সালে।
বিকেএসপির সেদিনের ছাত্রের কথা মনে করে মুচকি হাসলেন মানজিত, ‘মুশফিককে, যখন সে অনূর্ধ্ব-১৭তে খেলে, বলেছিলাম তুমি একদিন জাতীয় দলে খেলবে। মুশফিক তখন বলতো, না না আমি পারবো না। আমি বলেছিলাম, তুমি পারবে। ও আসলে খুবই পরিশ্রমী ছেলে।’
২০১১ সালে বিকেএসপির কোচের চাকরি থেকে ইস্তফা দেওয়া এই ভারতীয় ঢাকায় এসেছেন মেয়েদের প্রিমিয়ার লিগের দল রুপালি ব্যাংকের কোচ হয়ে। মিরপুরের একাডেমি মাঠে রুমানা-শুকতারা-ফারজানাদের অনুশীলন করিয়ে কথা বললেন চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে। আলাপে উঠে এল তার বিকেএসপির শিষ্য সাকিব-সৌম্য লিটনদের কথাও।
‘বর্তমান দলের সৌম্য সরকার, লিটন দাস সেই ব্যাচের; যখন আমি ২০০৮ থেকে ২০১১ পর্যন্ত বিকেএসপিতে ছিলাম। সৌম্য একজন স্ট্রোকপ্লেয়ার। এভাবেই তাকে বিশ্ব চিনে এখন। আশা করি সে দীর্ঘদিন খেলে অনেক সফল হবে। লিটন দাসও এখন লাইমলাইটে আছে। মুশফিক এখন বাংলাদেশ দলে প্রতিষ্ঠিত। লিটনের জন্য হয়ত আরও একটু সময় লাগবে। ২০০২ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত যখন বাংলাদেশে ছিলাম, তখন সাকিব-মুশফিক বিকেএসপির ছাত্র ছিল। তখন তারা অনূর্ধ্ব-১৭ দলে খেলে। তাদেরকে কোচিং করিয়েছি। সাকিব তো ‘সাইলেন্ট-ওয়ার্কার’। সে চুপেচুপে সব কাজ করে যায়। বলে না। এটাই তার সিক্রেট। তার সফলতা আসলে তার কঠোর পরিশ্রম থেকেই আসে।’

মানজিত ২০০২ সালে যখন বিকেএসপির কোচ হয়ে আসেন তখন ক্রিকেটার তৈরির সূতিকাগার ছিল প্রতিষ্ঠানটি। তখন ক্রিকেটার তৈরিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) তেমন কার্যক্রম ছিল না।
কখন থেকে বোর্ড কাজ শুরু করল মানজিত সে গল্পও বললেন বিসিবির একাডেমি মাঠে বসে, ‘২০০২ সালে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড খুবই ছোট ছিল। ক্রিকেটের সব মনোযোগ ছিল বিকেএসপির দিকে। বিসিবির তেমন কোনও পরিকল্পনা ছিল না। পরে যখন বিসিবির পরিকল্পনাগুলো হল, ২০০৬ সালের পরের ঘটনা, তখন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বিদেশি কোচ নিয়োগ দিলো, নানা ধরনের কার্যক্রম হাতে নিলো। তার আগে বাংলাদেশের ক্রিকেট ছিল বিকেএসপিকেন্দ্রিক।’
ভিডিও রিপোর্ট:







