‘আপনি এভাবে বললেই তো হবে না, আমরা অনেক চিন্তাভাবনা করে দল সাজাই।’ মুমিনুল সংক্রান্ত এক প্রশ্নে সংবাদ সম্মেলনে এভাবে কথা বলতে শোনা যায় প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নুকে। সাংবাদিকদের দিক থেকে বারবার উড়ে আসা বাউন্সারগুলো সচেতনভাবে ছেড়ে দিতে পারলেও কয়েকবার বিব্রত হন নির্বাচক কর্তা।
মুমিনুল কেন প্রথম টেস্টের দলে নেই? এই প্রশ্ন ঘিরেই সংবাদ সম্মেলন কক্ষ প্রায় পুরোটা সময় সরগম ছিল। নির্বাচকদের পক্ষ থেকে যেটা বলা হল তাতে বারবার দুটি শব্দ উচ্চারিত হল, ‘সামগ্রিক পারফর্ম্যান্স।’ তবে সেই সামগ্রিক পারফর্ম্যান্সটা কী, সেটা ঠিক বোঝা গেল না।
‘মুমিনুল শেষ জানুয়ারি থেকে শ্রীলঙ্কা সিরিজ পর্যন্ত ৬ ইনিংসে মাত্র একটি ফিফটি করেছেন, তাকে বাদ দেয়া হয়েছে মূলত সামগ্রিক পারফর্ম্যান্সের কারণে।’ বলছিলেন নান্নু।

ছয় ইনিংসে এক ফিফটি, তথ্যটা মিথ্যে নয়। তবে অন্য একটা দিকও আছে। বাংলাদেশে এ যাবতকালে যত টেস্ট ক্রিকেটার এসেছেন, তাদের ভেতর মুমিনুল অন্যতম সেরা। ঘরের মাঠে তার গড় ৬০’র কাছাকাছি। অথচ সেই তিনি দেশের মাটিতে এমন একটা সিরিজে দলে নেই!
তিন নম্বর পজিশনে মুমিনুলের জুড়ি মেলা ভার। কিন্তু প্রধান নির্বাচকের কণ্ঠে ভিন্ন সুর, ‘তিন নম্বরে আমরা সৌম্য অথবা ইমরুলকে তার চেয়ে এগিয়ে রাখছি।’
মুমিনুল সংক্রান্ত গরম গরম সব প্রশ্নে এক সময় নান্নু বলতে বাধ্য হলেন, ‘তাকে হয়তো প্রথম টেস্টে রাখা হয়নি। দ্বিতীয় টেস্ট কিংবা দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে ডাকা হতে পারে।’
এ কথায় আলোচনা থামবে কি না, সেটা পরের প্রশ্ন। যে ছেলেটি বাংলাদেশের ব্রাডম্যান বলে পরিচিত, যে ছেলেটি শুধু টেস্ট খেলবেন বলেই সারা বছর অনুশীলন করে যান, যে ছেলেটি জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে তিন দিনের ম্যাচেও ৭২ রান করেছিলেন, সেই ছেলেটি বাদ পড়ায় ক্রিকেটাঙ্গন আরও কয়েকদিন উত্তপ্ত থাকবে সেটা নিশ্চিত করে বলা যায়।
প্রথম টেস্টের বাংলাদেশ দল: তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, সৌম্য সরকার, লিটন কুমার দাস, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, নাসির হোসেন, সাব্বির রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন সৌকত, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, শফিউল ইসলাম।







