রাজধানী ঢাকার সেগুনবাগিচায় তোপখানা রোডস্থ রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আজ (১১ জুলাই ২০২৬) প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য কমিউনিটি-পরিচালিত রান্না করা খাদ্য বিতরণ কর্মসূচির পুষ্টিগত মান উন্নয়ন, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং অংশীজনদের (স্টেকহোল্ডার) ভূমিকা শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানটির মিডিয়া পার্টনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে দেশের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘বাংলা এফএম’।
আজ সকাল ১১টায় অনুষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য এবং প্রারম্ভিক আলোচনা করেন আশার আলোর নির্বাহী পরিচালক আব্দুর রহমান।
এরপর মূল প্রকল্প উপস্থাপন করেন আশার আলো সোসাইটির টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার (ফুড সিস্টেম অ্যান্ড নিউট্রিশন) মো. শাহজাহান মাতুব্বর। তিনি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য পরিচালিত খাদ্য কর্মসূচির পুষ্টিগত মান নিশ্চিতকরণের বিভিন্ন দিক এবং এর চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেন।
উপস্থাপনায় প্রকল্পের প্রধান অর্জন, বাস্তবায়নকালীন চ্যালেঞ্জ, অর্জিত শিক্ষা (Lessons Learned) এবং ভবিষ্যৎ করণীয় বিষয়সমূহ তুলে ধরা হয়। মূলপ্রবন্ধে উপস্থাপিত প্রকল্পের ফলাফল অনুযায়ী, বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন তাদের খাদ্য বিতরণ কার্যক্রমে একটি মানসম্মত ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্যতালিকা সফলভাবে অন্তর্ভুক্ত করেছে। পূর্বে যেখানে সীমিত কয়েকটি খাদ্যগোষ্ঠীর খাবার পরিবেশন করা হতো, বর্তমানে সেখানে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি, দুধ এবং মৌসুমি ফলসহ অধিক বৈচিত্র্যময় ও পুষ্টিকর খাদ্য সংযোজিত হয়েছে।
মাঠপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও কার্যক্রমের বিবরণ শেয়ার করেন বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের পরিচালক (অর্থ) মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন। অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সময় তিনি উল্লেখ করেন, বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন এই প্রকল্প ৬০০ উপকারভোগীদের খাদ্যের পুষ্টিমান উন্নয়নের জন্য কাজ করলেও বর্তমানে তারা বছরে ২০ লক্ষ্য মানুষের মধ্যে যে রান্না করা খাবার বিতরণ করে সেখানেও তারা এই পুষ্টিকর মান অনুসরণ করে খাদ্য বিতরণের অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
এরপর অতিথিদের উন্মুক্ত মতামত ও আলোচনা পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন আমন্ত্রিত অতিথিসহ বিভিন্ন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানে ‘গেস্ট অব অনার’ হিসেবে উপস্থিত থেকে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন:
ড. আলী আব্বাস মোহাম্মদ খোরশেদ (সহযোগী অধ্যাপক, ইনস্টিটিউট অব নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড সায়েন্স, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়): খাদ্যের পুষ্টিগত বিষয়ের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, পুষ্টির ক্ষেত্রে বিভিন্ন বয়স ও জেন্ডার বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। বয়স ও জেন্ডার অনুযায়ী পুষ্টির চাহিদা ভিন্ন হয়। যেহেতু এমন একটা উদ্যোগ শুরু হয়েছে। আমরা চাই দিন দিন এর মান বৃদ্ধি পাক।
সাইফুল আলম মল্লিক (কমপ্লায়েন্স ম্যানেজার, সাউথ এশিয়া, অশান রিটেইল এবং প্রজেক্ট ইন চার্জ অশান ফাউন্ডেশন): নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্যে বিষয়ে আলোকপাত করে তিনি বলেন, ২০১৬ সাল থেকে অশান ফাউন্ডেশন “Good Food that brings people together” এই স্লোগান মাথায় রেখে ঝুঁকিপূর্ণ ও অসহায় জনগোষ্ঠীর পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে বিশেষ ভূমিকা রেখে কাজ করে যাচ্ছে।।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শাহ জাহান। তিনি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পুষ্টির মান উন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে বলেন, আপনারা খাবার দিয়ে হেল্প করছেন, আপনাদের সাধুবাদ জানাই। আপনাদের কাছে অনুরোধ, এই শিশুদের আরেকটু ভালো জীবন দেওয়া যায় কি না, তাদের কোন কাজ দেওয়া যাতে তারা নিজেরাই স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারে।
এই গোল টেবিল আলোচনায় আরোও উপস্থিত ছিলেন দীপ্ত টিভির বার্তা প্রধান এস. এম. আকাশসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, গণমাধ্যম কর্মী ও এই প্রকল্পের সাথে যুক্ত ব্যক্তিবর্গ।
সবশেষে উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন বাংলা এফএম এর সম্পাদক রাশেদ মানিক। ধন্যবাদ জ্ঞাপনকালে তিনি বলেন, বিদ্যানন্দ এবং অশান ফাউন্ডেশনের মতো আমরা সকলেই যদি এগিয়ে আসি তাহলে যেসকল মানুষ প্রতিদিন খাবারের জন্য লড়াই করে তাদের খাদ্যের ব্যবস্থা করতে পারব। এক্ষেত্রে আমাদের যার যার অবস্থান থেকে যথাযথ ভূমিকা রাখা উচিত।

গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা সকলেই একমত প্রকাশ করেন যে, সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক মানুষের ক্ষুধা নিবারণের পাশাপাশি তারা যাতে সঠিক পুষ্টি উপাদান পায়, তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি এবং এর জন্য সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনকে একযোগে কাজ করতে হবে।
উক্ত অনুষ্ঠান আশার বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন, আশার আলো সোসাইটি এবং বাংলা এফএমকে বিশেষ সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।







