প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট দেশের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে আমরা সমগ্র বিশ্ব সম্পর্কে জানতে পারছি এবং আমাদের সন্তানেরা মহাকাশ বিজ্ঞান, পরমাণু প্রযুক্তি, সমুদ্র বিজ্ঞান ও বিজ্ঞানের অন্যান্য ক্ষেত্র, সংস্কৃতি ও প্রকৃতি সম্পর্কে জানতে পারবে, যা দেশের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সম্প্রতি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সজীব ওয়াজেদ জয়ের নামে দুটি ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রের উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন। বঙ্গবন্ধু–১ স্যাটেলাইটের সেবা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে প্রধানমন্ত্রীর ছেলে এবং তার তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের নামে গাজীপুর ও বেতবুনিয়াতে দুটি ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রের’ স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন উদ্বোধন করেছেন।
গ্রাউন্ড স্টেশন দুটির নামকরণ করা হয়েছে সজীব ওয়াজেদ ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র গাজীপুর এবং সজীব ওয়াজেদ ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র বেতবুনিয়া।
উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু ১৯৭৪ সালের ১৪ জুন এই বেতবুনিয়াতে ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র উদ্বোধন করেন এবং সেখান থেকেই আমাদের যাত্রা শুরু হয় এবং তারই পদাঙ্ক অনুসরণ করে আমরা এখন মহাকাশ জয় করেছি।
তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আমাদের বেতবুনিয়াতে এই উপগ্রহ ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রটি দিয়ে গেছেন। আর সজীব ওয়াজেদ জয় তাঁর পরামর্শ এবং উদ্যোগে আমরা মহাকাশে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করতে সক্ষম হয়েছি।
কাজেই সেই মুজিব থেকে সজীব—সেখানেই আমরা পৌঁছেছি। গত ১২ মে বাংলাদেশ সময় ভোর ২টা ১৪ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে সফলভাবে বঙ্গবন্ধু–১ স্যাটেলাইট মহাকাশে উৎক্ষেপণের মধ্যে দিয়ে বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট এবং পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের মাধ্যমে পরমাণু ক্লাবের ৩৪তম সদস্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
ইতিমধ্যেই বঙ্গবন্ধু–১ স্যাটেলাইট তার কার্যক্রম শুরু করেছে। এ দুটি ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র উদ্বোধনের মধ্যে দিয়ে স্যাটেলাইট সেবা আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহীতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু হলো। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-এর গাজীপুরের তেলীপাড়ার ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র প্রাইমারি গ্রাউন্ড স্টেশন এবং রাঙামাটির বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র ব্যাকআপ গ্রাউন্ড স্টেশন হিসেবে যুগপৎ ব্যবহৃত হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আপনাদের কাছে দোয়া চাই। দোয়া করবেন, যাতে দেশ ও জাতির সেবায় আমরা সব সময় নিয়োজিত থাকতে পারি। আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জনগণের সেবায় কাজ করে। জনগণের সেবায় কাজ করে যাবে। জনগণের কল্যাণই আমাদের একমাত্র চিন্তা।
‘ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার বক্তব্য দেন।
বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট লিমিটেডের চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন দুটির নাম সজীব ওয়াজেদ জয়ের নামে নামকরণ করার প্রস্তাব করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। পরে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের অন্যতম রূপকার বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের নামে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রাউন্ড স্টেশন দুটির আনুষ্ঠানিক নামকরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, নৌ ও বিমানবাহিনী প্রধানেরা, সংসদ সদস্য, সরকারের পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, বিদেশি রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিক, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটে থাকছে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার সক্ষমতা। প্রতিটি ট্রান্সপন্ডার প্রায় ৩৬ মেগাহার্টজ বেতার তরঙ্গের সমপরিমাণ। অর্থাৎ ৪০টি ট্রান্সপন্ডার থেকে পাওয়া যাবে প্রায় ১ হাজার ৪৪০ মেগাহার্টজ পরিমাণ বেতার তরঙ্গ। এর মধ্যে ২০টি ট্রান্সপন্ডার বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ প্রয়োজনে ব্যবহার করবে। আর ২০টি ট্রান্সপন্ডার বিদেশি রাষ্ট্রের কাছে ভাড়া দেওয়ার জন্য রাখা হবে। ৪০টি ট্রান্সপন্ডারের মধ্যে ২৬টি হচ্ছে কেউই ব্যান্ডের এবং ১৪টি সি ব্যান্ডের।
গাজীপুর ও চট্টগ্রামের বেতবুনিয়ায় স্থাপিত দুটি ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র থেকে নিয়ন্ত্রিত হবে বঙ্গবন্ধু–১ স্যাটেলাইট। উৎক্ষেপণের পর নির্দিষ্ট দূরত্বে দ্রাঘিমাংশে প্রায় ৩৬ হাজার কিলোমিটার দূরে ১১৯ দশমিক ১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে স্যাটেলাইটটি অবস্থান করছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র-ফ্রান্স-ইতালি থেকে স্যাটেলাইটটি সম্পূর্ণভাবে কন্ট্রোল করা হলেও বর্তমানে গাজীপুর গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে ট্র্যাকিং এবং কন্ট্রোলিং করা হচ্ছে। প্রকৌশলীরা এখান থেকে স্যাটেলাইটে সিগন্যাল পাঠিয়ে আবার তা রিসিভ করছে।
প্রয়োজন হলে সিগন্যাল পাঠিয়ে স্যাটেলাইটটিকে ১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশ পজিশনে নির্দিষ্ট অবস্থানে ধরে রাখার জন্য যা যা করা দরকার তা করছে। নিয়মিত ট্র্যাকিং ও কন্ট্রোলিং করা হচ্ছে।
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের সংযোগ পেতে দেশের টেলিভিশন স্টেশনগুলো আলাদা ডিভাইজ স্থাপন করতে হবে- ড. শাহজাহান মাহমুদ চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলিইট কোম্পানী লিমিটেড, সাবেক চেয়ারম্যান, বিটিআরসি
প্রশ্ন: ভু-উপগ্রহের মাধ্যমে কিভাবে কাজ করছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট এবং কিভাবে সামনের দিনে এই সেবা এগিয়ে নেওয়া যাবে?
ড. শাহজাহান মাহমুদ: বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট আমাদের পৃথিবী থেকে প্রায় সাড়ে বাইশ হাজার মাইল উপরে থেকে মিনিটে একশো মাইলেরও বেশি গতিতে পশ্চিম থেকে পূর্বে ছুটে যাচ্ছে। এটার জন্যে একটি নির্দিষ্ট শ্লট আছে অর্থ্যাৎ ওই জায়গায় সবসময়ই থাকতে হবে। জিই ষ্টেশন মানে কি? ওটাও নড়ে পৃথিবীও নড়ে। দুইটা যদি একসাথে নড়ে তাহলে দুইটা একই জায়গায় দেখা যাবে । তো এই যে একটা জায়গায় রাখা- তা অত্যন্ত দুরূহ ব্যাপার এবং তার জন্যেই গ্রাউন্ড ষ্টেশন তৈরী করা হয়েছে। এটাকে ট্রাকিং বলে। স্যাটেলাইটের ভেতরে যত যন্ত্রপাতি আছে মেজর যন্ত্রপাতি তাদের যে প্যারামিটারগুলো তাদের টেলিমিটার বলে। ওই টেলিমিটার নীচে আসে। ২৪ ঘন্টায় ক্রমাগতভাবে ওটাকে মনিটর করতে হয়। গ্রাউন্ড ষ্টেশনের কাজ হলো এই। গাজীপুরের টা প্রাইমারী। চট্টগ্রামের বেতবুনিয়ারটা সহজে ইউজ হবে না। যদি কোন কারণে গাজীপুরটা ফেইল করে তাহলে বেতবুনিয়ারটা ইউজ হবে। এটি আসলে ব্যাক আপ।
প্রশ্ন: আগামী ১লা সেপ্টেম্বর থেকে স্যাটেলাইটের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হবে- এই রকম একটি তথ্য আমাদের কাছে আছে। এই কার্যক্রম কবে এবং কিভাবে শুরু হবে এবং টেলিভিশনও এর সাথে যুক্ত আছে?
ড. শাহজাহান মাহমুদ: আমার দায়িত্ব নেওয়ার পরে আমার প্রথম দায়িত্ব হিসেবে নিয়েছি যে, এইখানে যে টেলিভিশন ষ্টেশনগুলো আছে এখন আপনারা যে স্যাটেলাইট কোম্পানীর সাথে আছেন সেখান থেকে সরিয়ে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে আনতে চাই এবং এখানে একটু টেনিক্যাল ডিফিকাল্টি আছে। কি রকম? এখন টেলিভিশনগুলো যে স্যাটেলাইট ইউজ করছে তা সি ব্র্যান্ডে আছে। কিন্তু আমাদের ট্রান্সপন্ডারের যে ফ্রিকোয়েন্সি তা শুধু এক্সটার্নাল সি না- আরও পরে ওটাকে বলে ইনসেপ সি ইন্ডিয়ান স্যাটেলাইট সিষ্টেম সি একটু হায়ার ফ্রিকোয়েন্সি তে। সুতরাং এখনকার টেলিভিশনগুলোর কিছু যন্ত্রপাতি চেঞ্জ করতে হবে। আপনি ইতিমধ্যে হয়তো খবর পেয়েছেন আমাদের কোম্পানী থেকে ইতিমধ্যে মার্কেটিং রিপ্রেজেন্টিভ বিভিন্ন টেলিভিশন ষ্টেশনে যাচ্ছে।
প্রশ্ন: সেবার জন্যে আলোচনা চলছে?
ড. শাহজাহান মাহমুদ: আলোচনা না? কাজ শুরু হয়ে গেছে।
আগামীর বাংলাদেশ কোন বিদেশের উপরে নির্ভরশীল হবে না–জুনাইদ আহমেদ পলক, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী
প্রশ্ন: বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটকে কেন্দ্র করে আগামীর বাংলাদেশ কেমন হচ্ছে?
জুনাইদ আহমেদ পলক: সমৃদ্ধ আগামীর যে বাংলাদেশ সেই বাংলাদেশের সমৃদ্ধ আগামীর প্রতিচ্ছবি হলেন জনাব সজীব ওয়াজেদ জয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যথার্থই বলেছেন যে, মুজিব থেকে সজীব এই যে যোগসূত্র ১৯৭৫ এর ১৪ ই জুন বঙ্গবন্ধুর হাতে বেতবুনিয়ায় যে আর্থ ষ্টেশন স্থাপিত হয়েছিল বাংলাদেশ স্যাটেলাইটের প্রথম সংযুক্ত হয়েছিল। তারপরে সেই ৪৩ বছর পরে এসে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটি-১ উৎক্ষেপণ হয়েছে সফলভাবে তার সম্পুর্ণ নেতৃত্ব দিয়েছেন সজীব ওয়াজেদ জয়।
আজকে তার নামেই আমাদের দুটি গ্রাউন্ড ষ্টেশন। আমাদের সকলের আবেদনের প্রেক্ষিত্রেই বলতে গেলে জোর অনুরোধ করেই আমরা এই নামকরণ করেছি এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তা গ্রহণ করেছেন। তাই জয় ভাইয়ের নামেই এটি করা হয়েছে। আমাদের প্রাচীন সভ্যতা গড়ে উঠতো সমুদ্র তীর কিংবা নদী অববাহিকায়। কারণ কানেকটিভিটি। তারপরে আধুনিক বিশ্বে বসতি গড়ে উঠতো রেল অথবা রোড কানেকটিভিটির ধারে। আর এখন এই মিলেনিয়াল যুগে অর্থ্যাৎ এই যে ওয়াইটুকে যা ইয়ার টু থাউজেন্ট এ ইন্টারনেটের সভ্যতার সময়ে এখন কিন্তু অর্থনৈতিক কর্মকান্ড গড়ে ওঠে যেখানে ফাইবার অপটিক কেবল আছে কিংবা যেখানে ইন্টারনেট কানেকটিভিটি আছে।
সুতরাং আপনি যে আগামীর বাংলাদেশের কথা বলছেন যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যা মাননীয় উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ভাই বলেছেন যে, আগামীর বাংলাদেশের প্রতি ইঞ্চি মাটি ইন্টারনেটে কানেকটেড থাকবে। আর তার জন্যে আমরা আইসিটি ডিভিশন থেকে ইনফো ওয়ান টু থ্রি বাস্তবায়ন করে চলেছি বিভাগ থেকে জেলা, জেলা থেকে উপজেলা এবং উপজেলা থেকে ইউনিয়ন পর্যন্ত। আমরা দুই হাজার ইউনিয়ন কানেকটিভিটি করেছি।
প্রশ্ন: সজীব ওয়াজেদ জয় দ্বীপ চর এলাকায় কানেকটিভিটি প্রসঙ্গেও বলেছেন?
জুনাইদ আহমেদ পলক: মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন দর্শন কি? বহুমাত্রিক এবং ইনক্লুসিভ অর্থ্যাৎ শহর এবং গ্রামের বৈষম্য দূর করা। তো সেখানে তিনি রাস্তা নির্মাণ করছেন গ্রামে যোগাযোগ নিশ্চিত করার জন্যে। বিদ্যুত ঘরে ঘরে দিচ্ছেন গ্রামের মানুষের শহরের সাথে বৈষম্য দূর করার জন্যে।কিন্তু আধুনিক এই ডিজিটাল দুনিয়ায় এখন যদি ইন্টারনেট কানেকটিভিটি না থাকে তাহলে সেই ডিজিটাল বৈষম্য কিন্তু থেকে যাবে।
যে কারণে আমরা বলছি যে-এই দ্বীপ, চর, ছিটমহল এবং পাহাড় এই দূর্গম অঞ্চলে আমাদের বঙ্গবন্ধু কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট থেকে আমরা প্রতি ইঞ্চি মাটিকে ডিজিটাল ইন্টারনেট কানেকটিভির আওতায় আনবো।
সুতরাং আমাদের আগামীর সমৃদ্ধ প্রতিচ্ছবির ভবিষ্যত নেতা তরুণ প্রজন্মের গর্ব জনাব সজীব ওয়াজেদ জয় এর নির্দেশনায় ধাপে ধাপে এমনভাবে পরিকল্পনা করছি যে, ২০২১ সালে প্রকৃতপক্ষে দেশে শহর আর গ্রামের পার্থক্য থাকবে না। দেশের ষোল কোটি মানুষ একেবারে নিরবিচ্ছিন্ন দূর্গম অঞ্চল পর্যন্ত তারা ইন্টারনেট কানেকটিভিটির আওতায় আসবে।
প্রশ্ন: আমাদের দেশীয় টিভি চ্যানেলগুলো তো এখন সিঙ্গাপুর ভিত্তিক স্যাটেলাইট ইউজ করছে?
জুনাইদ আহমেদ পলক: গত ২৯ জুলাই মাননীয় আইসিটি উপদেষ্টার নেতৃত্বে আমরা ডমেষ্টিক নেটওয়ার্ক কো-অর্ডিনেশন কমিটির মিটিং করেছি।প্রায় ৩ ঘন্টার একটা গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছে। সেইখানে আইডেন্টিফাই করা গেছে- আমাদের যে ২৫/৩০ টা টেলিভিশন চ্যানেল আছে ইনক্লুডিং চ্যানেল আই আপনাদের যে ব্যান্ড আছে সি এক্সটার্নাল ভার্সন তারও উপরে। এখানে দেখা গেছে যে, আপনাদের প্রতিটি চ্যানেলে একটি ডিভাইস বসাতে হবে পাঠানোর জন্যে অর্থ্যাৎ আপনি যে সেন্ড করবেন ইন্টারনেট থেকে সিগন্যালটা তার জন্যে একটি পরিবর্তন দরকার।
প্রশ্ন: প্রযুক্তির প্রয়োজনেই আপডেট?
জুনাইদ আহমেদ পলক: এই ধরণের যখনই আমরা কোন বড় বড় কর্মসূচী নেই বা কোন বড় ধরণের সাফল্য জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আসে- তখন একদল জনগোষ্ঠী আছে যারা সমালোচনা কিংবা মিথ্যা অপপ্রচার করে আমাদের সাফল্যগুলোকে ম্লান করে দিতে চায়। তাই আমি বলতে চাই- এই ডিভাইসগুলোর দাম খুব বেশি নয় যা রিপ্লেস করা সম্ভব। আরেকটা হলো ৩ হাজারের মত যে কেবল অপারেটর আছেন সেখানেও আপনার যে রিসিভারটা দিতে হয় সেটার দামও খুব বেশি না ২৮ বা ২৫ ডলারের মত।
গত ২৯ তারিখের বৈঠকে সবকিছু টেকনিক্যাল পার্সনদের সাথে আলোচনা হয়েছে এবং মাননীয় উপদেষ্টা মহোদয়ের নির্দেশনা হলো- এটি আমরা এখন টেলিভিশন চ্যানেল এবং স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল কোম্পানী তাদের সাথে বসে আমরা সুন্দর সমাধান করবো যাতে দ্রুত এটা রিপ্লেস করে সেপ্টেম্বর বা সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে এটি ফুল ফ্লেজেড ফাংশনাল হবে এর এর বিজনেস যে মডিউল তা কিন্তু ইন্ট্রডিউস হবে।
প্রশ্ন: তার মানে আগামীর স্যাটেলাইটের বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পুর্ণ হবে?
জুনাইদ আহমেদ পলক: আগামীর বাংলাদেশ কোন বিদেশের উপরে নির্ভরশীল হবে না।আগামীর বাংলাদেশ নিজের পায়ে দাঁড়াবে।
প্রশ্ন: ইন্টারনেটের গতি বাড়বে? আইটি প্রজন্ম গড়ে উঠবে?
জুনাইদ আহমেদ পলক: শিওর। একটা বিষয় দেখনু এখানে জয় ভাইয়ের নির্দেশনা আপনি ফাইবার অপটিক কেবল কিন্তু সব জায়গায় আমরা নিয়ে যাব। যতো জায়গায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব সেখানে নিয়ে যাব। কারণ এখানে আপনি ষ্পিডটা পাবেন আনলিমিটেড। কারণ আমরা জিবিপিএস ষ্পিডে যেতে পারছি। কিন্তু স্যাটেলাইট থেকে যখন আপনির দেবেন তখন ইমার্জেন্সিতে আমরা ব্র্যান্ডউইথটা সেখানে কম পাবো ।
কারণ স্যাটেলাইট থেকে প্রচুর ষ্পিড বা ব্র্যান্ডউইথ দেওয়া সম্ভব না। সেখানে আমরা বলছি যে যেখানে ফাইবার অপটিক কেবল যাওয়াটা কঠিন সেই সব জায়গায় আমরা স্যাটেলাইট দিয়ে যাব।আমরা দেখেছি প্রায় ৪ হাজার ইউনিয়নে ফাইবার কেবল অপটিক দিয়ে যেতে পারবো।
ফলে যেটা হবে তা হলো- গ্রাম গ্রাম ভিত্তিক ছোট ছোট ডিজিটাল ইকনোমিক হাব তৈরী হবে। তখন আমিাদের তরুণ তরুণীরা ওই ইউনিয়নে বসে- এখন যেমন জেলা উপজেলায় বসে ফ্রিল্যান্সিং করছে, ই-কমার্স করছে তখন কিন্তু তারা ইউনিয়নে বসে আউটসোর্সিং করতে পারবে, অনলাইন মার্কেট প্লেস এ কাজ করতে পারবে। ফলে তখন আর শহর এবং গ্রামের কোন পার্থক্য থাকবে না।
প্রশ্ন: বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ নিয়েও চিন্তা ভাবনা শুরু হয়েছে?
জুনাইদ আহমেদ পলক: এটা নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। কারণ একটি স্যাটেলাইটের মেয়াদ ১৫ বছর।তো আমাদের সুবিধা হচ্ছে দেড় বছরের এক্সট্রা ফুয়েল আমরা ফ্রি অব কস্টে পেয়েছি। নতুন স্যাটেলিইট স্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে। খুব শিগগিরই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ২ এর ব্যাপারে সবকিছু চূড়ান্ত করা হবে।
(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে)







