মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের আপিলের রায় হবে ১৬ জুন। বুধবার রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আপিল বিভাগ রায়ের তারিখ ঘোষণা করেছেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর দেওয়া মৃত্যুদন্ডাদেশের বিরুদ্ধে জামায়াত নেতা আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের আপিলের উপর ২৯ এপ্রিল শুনানি শুরু হয়েছিলো।
নানা প্রক্রিয়া শেষে টানা দু’ দিনে মঙ্গলবার আইনি যুক্তি উপস্থাপন শেষ করে আসামীপক্ষ। এরপর দু’দিন রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তি উপস্থাপন করে।
সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী হত্যা এবং সাম্প্রদায়িক হত্যা-নির্যাতনের সাত অভিযোগের মধ্যে পাঁচটি প্রমাণিত হওয়ায় ২০১৩ সালের ১৭ জুলাই মুজাহিদকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
মুজাহিদ মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীকে সহযোগিতা করতে গঠিত আলবদর বাহিনীর কমান্ডার ছিলেন এবং ওই বাহিনীর ওপর তার কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ছিল বলে রায়ে বলা হয়। রায়ের বিরুদ্ধে ওই বছরের ১১ আগস্ট আপিল করেন আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ। আপিল বিভাগে আসামীপক্ষের বক্তব্য উপস্থাপনের মধ্যে শুনানি শুরু হয় ২৯ এপ্রিল। পরে ২৬ মে শুরু করে দুদিন আইনি যুক্তি উপস্থান শেষ করে রাষ্ট্রপক্ষ। আপিলের রায়ে মুজাহিদের মৃতুদণ্ড বহাল থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল।
রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষ হলে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বে ৪ সদস্যের বেঞ্চে আপিলটি রায়ের জন্য অপেক্ষমান রেখে রায়ের তারিখও ঘোষণা করা হয়।
এর আগে আপিল বিভাগে শুনানি শেষে রায়, পূর্ণাঙ্গ রায় এবং অন্যান্য প্রক্রিয়া শেষে ২০৬ দিনের মাথায় কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর হয়েছে আপিল বিভাগে শুনানি শেষ হওয়ার ১১০ দিনের মাথায়।
দু’ আপিলেই রায়ের সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা ছাড়া রায় অপেক্ষমান রাখা হয়েছিলো। তবে মুজাহিদের মামলায় রায়ের দিন-তারিখও জানিয়ে দিলেন আপিল বিভাগ।
কাদের মোল্লার ক্ষেত্রে রায় ঘোষণার জন্য আপিল বিভাগের যেখানে ৫৫ দিন আর কামারুজ্জামানের মামলায় ৪৬ দিন সময় লেগেছিলো, সেখানে মুজাহিদের আপিল শুনানি শেষ হওয়ার ২০ দিনের মাথায় রায় ঘোষণা করতে যাচ্ছেন আপিল বিভাগ।
কাদের মোল্লার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল।
আপিল বিভাগে শুনানি শেষ হওয়ার ৫৫ দিনের মাথায় ওই বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় দেন আপিল বিভাগ। রায়ের ৪৮ দিনের মাথায় ৫ ডিসেম্বর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয়। পূর্ণাঙ্গ রায়ের ৭ দিনের মাথায় কার্য্কর হয় ফাঁসি।
অর্থাৎ আপিল বিভাগে শুনানি শেষ হওয়ার ১১০ দিনের (৫৫+৪৮+৭) মাথায় কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর হয়েছে।
কামারুজ্জামানের মামলায় ট্রাইব্যুনালে ফাঁসির রায় হয় ২০১৩ সালের ৯ মে।
আপিল বিভাগে শুনানি শেষ হওয়ার ৪৬ দিনের মাথায় ৩ নভেম্বর, ২০১৪ মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায় দেন আপিল বিভাগ। রায়ের ১০৭ দিনের মাথায় চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয়। রিভিউ আবেদন খারিজ হলে পূর্ণাঙ্গ রায়ের ৫৩ দিনের মাথায় ১২ এপ্রিল ফাঁসি কার্যকর হয়েছে।
অর্থাৎ কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে আপিল বিভাগে শুনানি শেষ হওয়ার ২০৬ দিনের (৪৬+১০৭+৫৩) মাথায়।
ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগের একটি মামলায় ২০১০ সালের ২৯ জুন আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে গ্রেপ্তার করার পর ২ আগস্ট তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায়ও মুজাহিদকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন বিচারিক আদালত। ওই মামলার জেল আপিল ও ডেথ রেফারেন্স শুনানির অপেক্ষায় আছে হাইকোর্টে।







