সাংবাদিক, সহকর্মী, রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীপেশার অসংখ্য শুভার্থী শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রয়াত সাংবাদিক মুক্তিযোদ্ধা তিমির লাল দত্তকে।
তিমির লাল দত্ত (৬৩) রোববার ভোরে বারডেম হাসপাতালে পরলোক গমন করেন। সকাল ১১ টার পর জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয় ।
শনিবার রাতে রাজধানীর বাসাবোর রাজারবাগ বাসভবনে তিমির দত্ত অসুস্থ হয়ে পরেন। পরিবারের সদস্যরা ভোরে দ্রুত বারডেম হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সকালে তার মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব এবং সহকর্মীরা বারডেমে ছুটে যান। নৌ পরিবহন মন্ত্রী মো: শাহজাহান খান হাসপাতালে এসে পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা জানান।

পরে তার মরদেহ বাসাবোর বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হয় । সেখান থেকে নিয়ে আনা হয় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে । সেখানে অস্থায়ী বেদিতে রাখা প্রয়াতের কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান সংগঠনটির সভাপতি জামাল উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরিন আখতার এমপিও এসময় প্রয়াতের কফিনে শ্রদ্ধা জানান। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি তিমির লাল দত্তের মৃত্যুতে তিন দিনের শোক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ।

জাতীয় প্রেসক্লাবে তিমির লাল দত্তের মরদেহ এসে পৌঁছানোর পর প্রথমে তাকে গার্ড অব অনাার দেওয়া হয় । ঢাকা জেলা প্রশাসকের পক্ষে ম্যাজিস্ট্রেট দিপ্তীমান জামানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করেন।
পরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয় প্রয়াতের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন। শ্রদ্ধা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরিন আখতার এমপি, জাতীয় প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি এবং বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, বিএফইউজের মহাসচিব ওমর ফারুক, ডিউজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম ভূইয়া, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী, প্রেসক্লাবের কোষাধ্যাক্ষ ও মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক কমান্ড কাউন্সিলের নেতা কার্তিক চাটার্জ্জী প্রমুখ।
শ্রদ্ধাজ্ঞাপন অনুষ্ঠান শেষে জাতীয় প্রেসক্লাব, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটি, জাসদ, পটুয়াখালি জার্নালিস্ট ফোরাম, স্বজন, কর্মজীবী নারীসহ বিভিন্ন সংঠনের নেতৃবৃন্দ প্রয়াতের কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
পরিবার সূত্রে জানাগেছে বরিশাল শ্মশানে তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
তিমির লাল দত্ত স্ত্রী, এক মেয়ে, এক ছেলে, আত্মীয়-স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি তার কর্মজীবন শুরু করেন দৈনিক খবর পত্রিকার মাধ্যমে, পরে তিনি সমকালসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাজ করার পর ২০১১ সালের ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থায় (বাসস) যোগদান করেন। চলতি বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর তিনি চাকরী থেকে অবসর গ্রহণ করেন।









