একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর ফাঁসি আজ কার্যকর করা হবে না বলে জানিয়েছেন কাশিমপুর কারাগারের জেলার। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে কারা বিধি মেনে পরিবারের সঙ্গে শেষ দেখা করতে দেওয়া হবে চট্টগ্রামের জল্লাদ খ্যাত এ যুদ্ধাপরাধীর। এজন্য কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে যারা তার সঙ্গে দেখা করতে চান, তাদের তালিকা চেয়ে পাঠানো হয়েছে।
তবে আজ ফাঁসির দণ্ড কার্যকর করা না হলেও কারা ফটকের সামনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। র্যাব-পুলিশের পাশাপাশি ব্যাপক সংখ্যক সাদা পোশাকের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সন্ধ্যার পরপরই কারা ফটাকের সামনে থাকা দোকানপাট বন্ধ করে দেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এর আগে, মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে অপহরণ, গুম, খুন ও নির্যাতনসহ ১৪টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ গঠন করেছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
যার মধ্যে ১১ অভিযোগে জন্য তাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয় আদালত। অভিযোগে বলা হয়, একাত্তরে পবিত্র ঈদুল ফিতরের পরদিন কিশোর মুক্তিযোদ্ধা জসিমকে আটক করে আলবদর সদস্যরা ডালিম হোটেলের নির্যাতন কেন্দ্রে নিয়ে যায়।
২৮ নভেম্বর মীর কাসেমের নির্দেশে আলবদররা তাকে দিনভর নির্যাতন করে। নির্মম অত্যাচারে জসিম মারা গেলে আরো পাঁচজনের সঙ্গে তাকে কর্ণফুলী নদীতে ফেলে দেয়া হয়। এ অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল সর্বসম্মতভাবে মীর কাসেমকে সর্বোচ্চ সাজার আদেশ দেন, আপিল বিভাগও সর্বসম্মতভাবে তা বহাল রাখেন।
শেষ সুযোগ হিসেবে কাসেম আলীকে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণ ভিক্ষার সুযোগ দেওয়া হলেও তিনি সে সুযোগ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান।
বিচার কাজ শেষে ২০১৪ সালের ২ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালের রায়ে ১০টি অভিযোগ প্রমাণিত হয়। পরে সর্বোচ্চ আদালত আপিল বিভাগের রায়ে একটি অভিযোগে ফাঁসি ও পৃথক ছয়টি অভিযোগে বিভিন্ন মেয়াদে সাজার দণ্ড পান মীর কাসেম। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার আসামির রিভিউ আবেদন খারিজ করে রায় বহাল রাখা হয়।









