বানোয়াট তথ্য দিয়ে ঘৃণা ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ তৈরি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অ্যাকাউন্ট ও অর্ধশতাধিক পেজ বন্ধ করে দিয়েছে ফেসবুক।
এমনকি মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর প্রধান মিন অং হ্লাই’র ফেসবুক অ্যাকাউন্টও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আজ সোমবার ফেসবুক নিউজ রুমে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানায় শীর্ষ সামাজিক মাধ্যমটি।
ফেসবুকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্পষ্ট প্রমাণ থাকায় মিয়ানমার সেনাবাহিনী সংশ্লিষ্ট ১৮ টি অ্যাকাউন্ট, মোট ১ কোটি ২০ লাখ ফলোয়ার থাকা ৫২ টি ফেসবুক পেজ এবং একটি ইন্সটাগ্রাম অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। 
নিউজ রুমের এই খবরে ফেসবুকের পক্ষ থেকে বলা হয়, মিয়ানমারে জাতিগত সংঘাত সত্যিই ভয়াবহ। আমরা এসব বন্ধে প্রথমে অত্যন্ত ধীর গতিতে এগিয়েছি। কিন্তু এখন আমাদের হাতে বানোয়াট তথ্য সনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার সব পদ্ধতি আছে। তাই আজ আমরা মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছি। সুনির্দিষ্টভাবে আমরা মিয়ানমারের ২০ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে নিষিদ্ধ করছি। এসবের মধ্যে দেশটির সামরিক বাহিনীর প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাই ও সেনাবাহিনীর ‘মায়াওয়াদি’ টেলিভিশনও আছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে এসব পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানায় সামাজিক মাধ্যমটি। জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদন থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি-সংস্থার বিরুদ্ধে চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রমাণ পায় ফেসবুক।
এই প্রমাণের পর ফেসবুক বলে, ‘তারা যেনো আমাদের উপর ভর করে আর জাতিগত ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ছড়াতে না পারে সেজন্যই তাদের বিরুদ্ধে এই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা।’
এছাড়াও উদ্দেশ্যমূলক বানোয়াট খবর প্রচারের দায়ে ৪৬টি পেজ এবং ১২টি অ্যাকাউন্ট সরিয়ে ফেলার কথা জানায় ফেসবুক। সাম্প্রতিক এক তদন্তে এসব পেজ ও অ্যাকাউন্ট থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর পক্ষে ছদ্মবেশি সংবাদ পরিবেশন করার পায়তারা টের পায় ফেসবুক।
এব্যাপারে ফেসবুক বলে,‘এধরনের আচরণ ফেসবুকে নিষিদ্ধ। কারণ আমরা চাই এই প্ল্যাটফর্মে যোগাযোগ যেন বিশ্বাসযোগ্য হয়, আস্থা রাখার মতো হয়।
মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ফেসবুকের এই পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে জানিয়ে বলা হয়,‘ মিয়ানমারে ফেসবুকের অপব্যবহার প্রতিরোধে আমাদের কাজ অব্যাহত থাকবে।’
ফেসবুক নিউজ রুমের এই খবরে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর হাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটির অপব্যবহারের প্রমাণসহ স্ক্রিনশটও তুলে ধরা হয়।








