মুজদালিফায় রাত যাপন করে হাজিরা রওয়ানা হয়েছেন মিনার উদ্দেশে। মিনায় শয়তানের উদ্দেশ্যে পাথর মারবেন তারা। এখানেই পশু কোরবানি দিয়ে ঈদ উল আজহা পালন করবেন হাজিরা। রোববার আরাফাত ময়দানে হজের প্রধানতম আনুষ্ঠানিকতায় হাজিরা খুতবা শেষে বিশ্ব মানবতার মঙ্গল কামনা এবং মহান আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য লাভের জন্য দোয়া করেন।
রোববার দিনভর মহান আল্লাহ রব্বুল আল আমিনের দরবারে এভাবেই নিজেকে সমর্পন করেছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নানা বর্ণের লাখো মুসল্লি।
আরাফাতের এই পবিত্র ময়দানে বিদায় হজে ভাষণ দিয়েছিলেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম।
হজের আনুষ্ঠানিকতার মূল অনুসঙ্গ পবিত্র এই আরাফাত ময়দানের মসজিদে নামিরার মিম্বারে দাঁড়িয়ে খুতবা দিয়েছেন সৌদী আরবের গ্র্যান্ড মসজিদের ঈমাম শেখ সালিহ বিন হামিদ। বলেছেন, দুনিয়াতে যারা ফ্যাসাদ
সৃষ্টি করে তারা ইসলামের বন্ধু নয়। ইসলামে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের স্থান নেই।
স্বাস্থ্যের কারণ দেখিয়ে ১৯৮১ সাল থেকে একটানা ৩৫ বছর খুতবা দেয়া সৌদী আরবের গ্র্যান্ড মুফতি আব্দুল আজিজ আল শাইখ এ বছর খুতবা দেয়া থেকে বিরত ছিলেন। এজন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন। প্রথমবারের মতো দেয়া খুতবায় শেখ সালিহ বিন হামিদ বলেছেন যারা জঙ্গি তৎপরতা চালায় তাদের বড় পরিকল্পনা রয়েছে ইসলামকে ধ্বংস করার। আবার কথায় কথায় কাফের বলে যারা ফতোয়া দিচ্ছেন তারাও সঠিক পথে নেই বলেও খুতবায় দাবি করেন তিনি।
জোহর ও আসরের মাঝামাঝি সময়ে আরফাতের খোলা ময়দানে সকল হাজি এক সঙ্গে কসরের নামাজ আদায় করে মুসলিম উম্মার শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় মোনাজাত করেন তারা।
এরপর নিয়ম অনুযায়ী তারা চলে যান মুজদালিফায়। মুজদালিফায় মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করে সেখানেই খোলা আকাশের নিচে রাত্রি যাপন করেছেন আল্লাহর এই মেহমানরা। সেখান থেকেই শয়তানকে মারার প্রয়োজনীয় পাথর সংগ্রহ করেন তারা।
ভোরে ফজরের নামাজ পড়ে হাজিরা রওয়ানা হয়েছেন মিনার উদ্দেশ্যে। সেখানে ৩ দিন অবস্থান করে পর্যায়ক্রমে শয়তানকে উদ্দেশ্য করে পাথর ছুড়বেন হাজিরা। এরপর পশু কোরবানি করে পালন করবেন পবিত্র ঈদুল আজহা।







