যেহেতু বাংলাদেশের মিডিয়াকে পাবলিক বিশ্বাস করে না, মিডিয়া যাকে অ্যান্টি-হিরো বানানোর চেষ্টা করে- গণমানুষের তাকে হিরো ভাবার ঝুঁকি বাড়ে। এরপরও সাকা-মুজার এই ফাঁসি কাভারেজ নিয়া মিডিয়া যা করতে পারতো:
১. ঠিক যে যে কারণে এই সাকা-মুজাহিদের ফাঁসি হইলো, সেই অপরাধের বিবরণটা প্রতি বুলেটিনে অনএয়ার করতে পারতো। তারা যে অপরাধী, এইটাকে সর্বোচ্চ হাইলাইট করতে পারতো।
২. ট্রাইব্যুনালে সাকা-মুজার বিরুদ্ধে আনা স্পেসিফিক অভিযোগগুলো নিয়ে আলাদা আলাদা ডকুফিকশন করা যেতো।
৩. একাত্তরে এদের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্তদের নিয়ে রিপোর্ট অনএয়ার করা যেতো।
৪. সাকা-মুজার দম্ভোক্তিমূলক বক্তব্য নিয়ে একটা কম্পাইলেশন খুব একটা কঠিন ছিল না।
টিভিগুলো এ ক্ষেত্রে ব্যর্থ হলেও ফাঁসি কাভারেজে তাদের দৌঁড়ঝাপ অনেকক্ষেত্রে যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষেই গেছে! যেমন-
১. বিধিবর্হিভূতভাবে আইনজীবীরা মুজাহিদের সাক্ষাৎ চাইলেন। টিভি স্ক্রল বললো, আইনজীবীদের সাক্ষাতের আবেদন নাকচ। আবেদন যে আইনসম্মত নয়, এটা বলা হয়নি।
২. শুক্রবার রাতে আইনজীবীদের সাথে নিয়ে বাপের সাথে দেখা করতে কারাগারে গেলেন হুম্মাম। টিভি স্ক্রলে যথারীতি ব্রেকিং- পাবলিক বলতে শুরু করলো, দেখা করতে দিলে কি এমন হইতো? এটা যে জেলকোডে নাই- সেটা বলার কেউ নাই।
৩. যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি নিয়ে রাতভর লাইভের যে প্রতিযোগিতা টিভি চ্যানেলগুলোর মধ্যে, যে কাউন্টডাউন; তাতে দর্শকের মনে অপরাধীর জন্য সহানুভূতি তৈরির সুযোগ আছে। ফাঁসির রাতে চায়ের দোকানের আড্ডায় এমনই মনে হচ্ছিল। ঝানু দুই রাজনীতিকের পরিবার এটাই চাইছিলেন।
৪. সিনেমায় যখন ভিলেন মার খায়, তখন তার প্রতিও নরম বাঙালি মনের এক আশ্চর্য সহানুভূতি জাগে; বাস্তবের ভিলেনদের প্রতি অনুকম্পায় বাঙালিয়ানার ছাপও স্পষ্ট-এর জন্য মিডিয়া একাই দায়ী।
(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)







