পাকিস্তানে নিহত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মাশাল খান হত্যাকাণ্ডের তদন্তের জন্য তার ‘আসল ফেসবুক অ্যাকাউন্ট’ চিহ্নিত করতে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা এফআইএ’র সহায়তা চেয়েছে খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের পুলিশ।
সোমবার এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে প্রদেশটির পুলিশের আইজি জানান, মাশাল খানের সামাজিক মাধ্যমে আসল অ্যাকাউন্ট কোনটি, তা খুঁজে বের করার দায়িত্ব এফআইএ’র কাছে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ।
এই হত্যা মামলার বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ইতোমধ্যে সংগ্রহ করা হয়ে গেছে। বাকি তদন্ত এখন এফআইএ করবে বলে ব্রিফিংয়ের সূত্রে জানিয়েছে জিও নিউজ।
সামাজিক মাধ্যম এবং বাস্তবে ইসলাম অবমাননাকর কথা বলার অভিযোগ এনে বৃহস্পতিবার মারদানের আবদুল ওয়ালি খান ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মাশাল খানকে ওই বিশ্ববিদ্যালয়েরই বহু শিক্ষার্থী মিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে পিটিয়ে হত্যা করে।
এরপর অনলাইনে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ২৩ বছর বয়সী ওই শিক্ষার্থীকে একদল মানুষ অর্ধনগ্ন করে লাথি মেরে এবং পিটিয়ে রক্তাক্ত করছে। তার নিথর দেহ মাটিতে পড়ে থাকা অবস্থায়ও তার দিকে পাথর ও বড় বড় তক্তাসহ অন্যান্য জিনিসপত্র ছুঁড়ে মারতে দেখা যায় ভিডিওচিত্রটিতে। এক মিনিট তিন সেকেন্ডের ওই বীভৎস ভিডিওতে চরমতম বর্বরতার প্রমাণ পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নতুন সাতজনসহ এখন পর্যন্ত মোট ২২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডন।
পাকিস্তানে সামাজিক মাধ্যমে ধর্মীয় অবমাননাকর কনটেন্ট চিহ্নিত এবং সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনার কট্টর সমর্থক দেশটির প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ নিজে। অথচ বৃহস্পতিবারের ওই হত্যাকাণ্ডে তিনিই তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দেন।
মাশালের মৃত্যু এবং এরপর ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো পাকিস্তানে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে। শনিবার পাকিস্তানের বেশকিছু শহরে মানবাধিকার কর্মীরা ছোট ছোট প্রতিবাদ মিছিল করেন। এ ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নিতে এবং অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানায় পাকিস্তানে জাতিসংঘ কার্যালয়।
রোববার মাশালের নামাযে জানাযা এবং এরপর দাফন সম্পন্ন হয়। কিন্তু সোয়াবি শহরে স্থানীয় একটি মসজিদে মরদেহ নিয়ে গেলে মসজিদটির ইমাম জানাযা পড়াতে অস্বীকৃতি জানান বলে জানিয়েছেন স্থানীয় এক অধিবাসী। সেখানকার এক খাদেম বহু অনুরোধে নামাযে জানাযা পড়ালে এরপর বেশ কিছু মানুষ এর প্রতিবাদে ওই খাদেমের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে।








