শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে এশিয়া কাপে দুর্দান্ত শুরু করা আফগানিস্তান গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচটিও স্মরণীয় করে রাখল। বাংলাদেশকে ১৩৬ রানে হারিয়ে সুপার ফোরে নামার আগে আত্মবিশ্বাসের রসদ বাড়িয়ে নিল তারা। সেখানে লঙ্কানদেরই গুঁড়িয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করা বাংলাদেশ আত্মবিশ্বাসের পালে খেল বড় এক ধাক্কা!
বৃহস্পতিবার আবু ধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে ছিল টাইগার সমর্থকদের নজরকাড়া সমর্থন। সেটি জ্বালানি হয়ে উঠতে পারেনি ব্যাটিং ব্যর্থতায়। ২৫৬ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ গুটিয়ে গেছে ১১৯ রানে।
বড় হারের ধাক্কা নিয়ে শুক্রবার দুবাইয়ে সুপার ফোরের ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে নামবে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার দল। খেলা শুরু বাংলাদেশ সময় বিকাল সাড়ে ৫টায়। একই সময়ে আবু ধাবিতে সুপার ফোরের অন্য ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলবে আফগানিস্তান।
শ্রীলঙ্কাকে ১৩৭ রানে হারিয়ে দারুণ শুরু করেছিল বাংলাদেশ। এশিয়া কাপে ফেভারিটের ট্যাগও লেগে গিয়েছিল টাইগারদের গায়ে। আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে এগিয়ে যাওয়ার রসদ বাড়িয়ে নেয়া হল না আফগানিস্তানের কাছে হেরে।
দেরাদুনে আফগানিস্তানের কাছে টি-টুয়েন্টি সিরিজে বাংলাদেশের হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন লেগস্পিনার রশিদ খান। সেই রশিদই অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ওয়ানডেতে ম্লান করলেন বাংলাদেশের স্বপ্নযাত্রা। প্রথমে ৩২ বলে ৫৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন, পরে বল হাতে নিয়েছেন সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। অসাধারণ পারফরম্যান্সে ২০তম জন্মদিন স্মরণীয় করে রাখলেন এ তরুণ।
টাইগারদের ইনিংসে সর্বোচ্চ ৩২ রানে এসেছে সাকিব আল হাসানের ব্যাটে। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ২৭ ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ২৬ রানে অপরাজিত থাকেন।
বাংলাদেশের ইনিংসে শুরুতেই আঘাত হানেন অফস্পিনার মুজিব-উর-রহমান। তামিম ইকবাল এশিয়া কাপ থেকে ছিটকে যাওয়ায় ওয়ানডে অভিষেকের মঞ্চ পাওয়া নাজমুল হোসেন শান্ত সাজঘরে ফেরেন শুরুতেই। আউট হওয়ার আগে করেন ৭ রান।
আরেক ওপেনার লিটন দাস দায়িত্ব নিতে ব্যর্থ হন। ৬ রান করে ডানহাতি পেসার আফতাব আলমের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন। ১৭ রানে দুই ওপেনারকে হারিয়ে ব্যাকফুটে চলে যায় বাংলাদেশ।
দায়িত্ব নিয়ে লড়াইয়ের আভাস দেন সাকিব আল হাসান। এ বাঁহাতি বেশ কিছুক্ষণ উইকেটে কাটালেও উইকেট হারানোর মহামারী চলতেই থাকে। তিন বছর পর ওয়ানডে খেলার সুযোগ পাওয়া মুমিনুল হক ফিরে যান, ১৭ বল খেলে করেন ৯ রান।
আগের ম্যাচে বিপদের সময় ৬৩ রানের ইনিংস খেলে প্রতিরোধ গড়া মোহাম্মদ মিঠুন এদিন নিতে পারেননি প্রত্যাশার চাপ। ২ রান করে গুলবাদিন নাঈবের বলে বোল্ড হন। ৪৩ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ।
প্রতিরোধ গড়ার কিছুটা আশা টিকে থাকে সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ জুটিতে। দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার পথে সাকিব রশিদের শিকার হলে ৩৬ রানে কাটা পড়ে জুটিটি। দলীয় ৯০ রানের মাথায় মাহমুদউল্লাহ একই বোলারকে উইকেট তুলে দিলে সব আশা শেষ হয়ে যায়। শেষে আরও ভজঘট পাকিয়ে ৪২.১ ওভারে গুঁড়িয়ে যায় টাইগাররা।
এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে বেছে নেয়া আফগানিস্তানের শুরুটাও ভালো ছিল না। তবে শেষের লড়াই তারা পেয়ে যায় মজবুত ভিত। ১৬০ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ফেলার পরও গুলবাদিন নাইব ও রশিদ খানের ব্যাটে আড়াইশ পেরিয়ে যায় দলটি। অষ্টম উইকেট জুটিতে ৫৫ বল খেলে অবিচ্ছিন্ন থেকে তারা যোগ করেন ৯৭ রান।
শেষপর্যন্ত ৭ উইকেট হারিয়ে ২৫৫ রান তোলে আফগানরা। রশিদ ৫৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন আর নাইব অপরাজিত থাকেন ৩৮ বলে ৪২ রান করে।
ওয়ানডে ক্যারিয়ারে অষ্টমবারের মতো ৪ উইকেট নেন সাকিব আল হাসান। দুটি উইকেট নিয়েছেন অভিষিক্ত পেসার আবু হায়দার রনি। রুবেল হোসেন নেন একটি উইকেট।
সাকিব ১০ ওভারের কোটা শেষ করেন ৪২ রান খরচায়। রুবেল ৬ ওভারে দেন ৩২ রান। আবু হায়দার ৯ ওভারে দেন ৫০ রান।
আবু ধাবির ২২ গজ বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের কাছে একেবারেই অচেনা। সেই মাঠেই বোলারদের নিয়ে ব্যাপক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালান অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। ব্যবহার করেন আট বোলার। এশিয়া কাপের আসল লড়াই সুপার ফোরের আগে অবশ্য আনুষ্ঠানিকতায় রূপ নেয়া ম্যাচে সফলতা পেলেন মূল বোলাররাই। তবে ব্যাটসম্যানরা দায়িত্ব নিতে পারলেন না।








