স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রকে রীতিমতো উড়িয়ে দিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো কোপা
আমেরিকার ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। স্ট্রাইকারদের দাপটে মার্কিনিদের জালে
গুনে গুনে এক হালি গােল দিয়েছে মেসি-হিগুয়েন-লাভেজ্জিরা।
দলের হয়ে জোড়া
গােল করেছেন হিগুয়েন, একটি করে গােল করেন লাভেজ্জি ও মেসি। ২৭ জুনের
ফাইনালে মেসিদের প্রতিপক্ষ দ্বিতীয় সেমিফাইনালজয়ী চিলি অথবা কলম্বিয়া।
ব্যাপক ফর্মে থাকা আর্জেন্টিনা শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রকে চেপে ধরে। কোনাে কিছু বুঝে ওঠার আগেই টেক্সাসের রেলিয়্যান্ট স্টেডিয়ামসহ পুরো যুক্তরাষ্ট্র স্তব্ধ করে দেন এসকুয়েল লাভেজ্জি। গােলদাতা লাভেজ্জি হলেও মূল কারিগর সেই মেসি। ডি-বক্সের সামান্য বাইরে থেকে বল পেয়ে বাঁ পায়ের আলতো টোকায় ডিফেন্ডারদের মাথার উপর দিয় বল দেন ফাঁকায় থাকা লাভেজ্জিকে। হেড দিয়ে সেই বল জালে জড়াতে ভুল করেননি সাবেক পিএসজি ফরোয়ার্ড। মার্কিন গোলকিপারের বল দেখা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না।
দ্বিতীয় গােল পেতে প্রায় আধাঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় আর্জেন্টিনার। ম্যাচের ২৯ মিনিটে দলকে দ্বিতীয়বারের মতো লিড এনে দেন অধিনায়ক মেসি। ডি-বক্সের বেশ বাইরে থেকে চুলচেড়া ফ্রি-কিকে গােল করেন তিনি। আগের ম্যাচেই বাতিস্তুতাকে স্পর্শ করেছিলেন। আর এই ম্যাচে গোল করে আর্জেন্টিনার জার্সিতে সর্বোচ্চ গােলের মাইলফলক স্পর্শ করলেন বার্সেলোনা রাজপুত্র।
লাভেজ্জি-মেসির দুই গােলের লিড নিয়ে বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা। দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে গােল পেতে সময় লাগেনি তাদের। ৫০ মিনিটে দলের তৃতীয় গােল করেন গঞ্জালো হিগুয়েন। আর ম্যাচের অন্তিম মুহুর্তে (৮৬ মিনিটে) মেসির বাড়ানো বল থেকে মার্কিনিদের কফিনে শেষ পেরেক ঠোকেন হিগুয়েন। পুরো আর্জেন্টিনার রক্ষণে দু-চারবার হানা দিলেও কাঙ্ক্ষিত গােলের দেখা পায়নি স্বাগতিকরা।
কোপার গত চারটি আসরেই সেমিফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। আর টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে উঠলো তারা। আর ১৯৯৫ সালের ব্রাজিল আসরের পর দ্বিতীয়বারের মতো সেফিতে উঠা যুক্তরাষ্ট্রের হতাশ হতে হলো এবার ঘরের মাঠে।
এই জয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষ সম্মুখ লড়াইতেও এগিয়ে গেল মেসিরা। এর আগের দুইবার মুখোমুখি হয়েছিল দুদল। ১৯৯৫ সালে আর্জেন্টিনাকে ৩-০ গােল হারিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে ২০০৭ সালে পরের সাক্ষাতে মার্কিনিদের ৪-১ হারিয়ে শোধটা ভালই নিয়েছিল আর্জেন্টাইনরা।







