গামছায় চোখ বাঁধা। হাতে উদ্যত লাঠি। এক তরুণ এগিয়ে যাচ্ছে। পা গুনে গুনে। তরুণের প্রতিটি কদমে যেন উত্তেজনা আর আনন্দের উপাদান। উপস্থিত দর্শক হৈ-হুল্লোড় করছে তার হাঁটার সাথে সাথে। একজন পাশ থেকে বলে উঠল, ‘মারো বাড়ি-ভাঙ্গো হাঁড়ি’। কয়েক পা এগিয়ে পেশি শক্ত করে গায়ের জোরে লাঠি দিয়ে বাড়ি মারল তরুণ। উদ্দেশ্য তার সামনে উল্টো করে রাখা হাঁড়ি। এই হাঁড়ি ভাঙ্গতে পারলে মিলবে এক লিটার সেভেন আপ। লাঠি আঘাত করল কালো পিচে। হাঁড়ি ভাঙ্গা হলো না তরুণের। তরুণের ব্যর্থতা দর্শকদের যে আনন্দে ভাসিয়ে দিচ্ছে তার প্রমাণ পাওয়া গেল তাদের উচ্ছ্বাস আর হৈ-হুল্লোড়ে।
আজ পহেলা বৈশাখ কারওয়ানবাজার থেকে বাংলামটর মোড়ের রাস্তার পুরোটাই ‘মানুষের’ দখলে। নেই কোনো যানবাহন। সব থামিয়ে দেওয়া হচ্ছে কারওয়ানবাজার মোড়েই। এই সুযোগে পুরো রাস্তা দখলে নিয়েছে সাধারণ মানুষ। দখলে নিয়েছে হকার। হরেক রকম গ্রামীণ পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছে তারা। কেউ কেউ আয়োজন করেছে গ্রাম্য খেলার। তারই একটা খেলা হাঁড়ি ভাঙ্গা।
খেলার আয়োজক রতন উদ্দিন বললেন, ‘পহেলা বৈশাখ আমাদের গ্রামের কথা মনে করিয়ে দেয়। আমরা স্কুলের অনুষ্ঠানে ও পারিবারিক অনুষ্ঠানে হাঁড়ি ভাঙ্গা খেলেছি। সেই অনুভূতি ফিরিয়ে আনতেই এই আয়োজন। বিশ টাকায় একটা একবার বারি মারার সুযোগ পাবে। হাঁড়ি ভাঙ্গতে পারলে সে পাবে এক লিটার সেভেন আপ।’
খেলায় অংশ নেওয়া চাকরিজীবী আব্দুল মতিন বলেন, ‘হাঁড়ি ভাঙ্গতেই পারব এমন আশা ছিল না। তারপরেও খেলায় অংশ নিয়েছি, কারণ খেলাটা দেখেই আমার স্কুলের কথা মনে পড়েছে। অংশ নিয়েই খুশি লাগছে।’










