রোববার রাতে প্রথম ফেসবুকে দেখি ১৩ বছরের কিশোর রাজনকে পিটানোর ভিডিও। ভিডিওটি মিনিট খানেক দেখে আর সহ্য করতে পারিনি, বন্ধ করে দিয়েছি। নিজেকে শান্ত করতে ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে। প্রথম যে দুইটা প্রধান প্রশ্ন মনে দানা বেধেছে তা-
১। ওই চারজন লোকের এতো সাহস কীভাবে হলো?
২। ওই এলাকায় কি আর কোন মানুষ ছিল না এদের বাধা দেয়ার?
আমার প্রথম প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে, যারা এই কাজ করেছে তারা নিশ্চয়ই প্রভাবশালী, আর প্রভাবশালী মানেই রাজনৈতিক ছত্রছায়া, ফলে তারা নিজেদেরকে মনে করে সকল আইনের উর্ধ্বে।
বর্তমান রাজনীতি তাদের সকল আইনের উরধে মনে করার সংস্কৃতি শিখিয়েছে।
দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে, আজকাল মানুষ রাজনৈতিক প্রভাবশালী ও জুলুমবাজদের কাছ থেকে নিজেকে দূরে রাখতে চায় কারন তারা দেখেছে এই দেশের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক নেতৃত্ব যেখানে চরমভাবে লাঞ্ছিত ও অপমানিত হয় সেখানে প্রভাবশালীদের কাছ থেকে দূরে থাকা ছাড়া আর উপায় কি।
সমাজের মানুষের মনোজগৎ বিকশিত হয় ঐ সমাজের রাজনৈতিক চর্চার উপর। রাজনীতি সমাজের মানুষকে আইন মানার সংস্কৃতি শেখায়। সমাজের সকল মানুষের প্রতি সম্মানজনক আচরন শেখায়।
রাজনীতি সমাজকে শেখায় আইন কী, কেনো আইন মানতে হবে, আইন না মানলে কী হবে ইত্যাদি। সমাজে রাজনীতির মাধ্যমে রাষ্ট্রের সাথে সাধারন মানুষের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। রাষ্ট্রের অধীনে বসবাসের নিয়ম কানুনের শিক্ষা আসে রাজনীতি থেকেই।
১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় প্রায় এক সপ্তাহ কোন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে ছিলো না। আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারি এযাবৎ কালের বাংলাদেশে ওই এক সপ্তাহ (১৯৯০ সালের) মানুষ ছিলো সবচেয়ে বেশি নিরাপদ। কারন রাজনীতি মানুষকে কখনও বিপথে পরিচালিত করে না। ওই এক সপ্তাহ ছিলো সমাজের উপর রাজনৈতিক কর্তৃত্ব।
বাংলাদেশের রাজনীতি নিজেদের মধ্যে সংঘাত করতে করতে এতো বেশি সময় পার করেছে যে রাজনৈতিক নেতৃত্ব আর রাজনীতিবিদদের হাতে নেই। রাজনৈতিক নেতৃত্ব দখল করেছে সুযোগসন্ধানী মাফিয়া চক্র। যারা রাজনীতিকে দখল করছে তারা রাষ্ট্রকে একটি মাফিয়া রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করছে। এই মাফিয়াদের কাজ হচ্ছে সমাজে ভীতি তৈরির মাধ্যমে নিজদের নেতৃত্ব কতৃত্ব বজায় রাখা। তাদের অনুসারীরা থাকে আইনের উর্ধ্বে। আইনের উর্ধ্বে না থাকলে ভীতি সঞ্চার সম্ভব নয়। এই ধরনের মাফিয়া রাজনৈতিক সংস্কৃতি সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ভারতে। বর্তমানে বাংলাদেশেও দেখা যাচ্ছে।
তারই প্রতিফলিত অনেক রুপ এর একটি হচ্ছে কিশোর রাজন হত্যাকাণ্ড। রাজনীতিকে সঠিক রাস্তায় পরিচালনা করা জনগণের স্বার্থে রাষ্ট্রেরই প্রয়োজন।






