বিশ্বে প্রথমবারের মত মানবভ্রুণের রোগ উপশমে সুনির্দিষ্ট ‘রাসায়নিক অস্ত্রোপচার’ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। চীনা গবেষকরা বিবিসি’কে এ তথ্য দিয়েছেন। চীনের সান ইয়েৎ সান বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক গবেষণাগারে তৈরী ভ্রুণে ‘বেস এডিটিং’ কৌশলের মাধ্যমে কাজটি করেছেন। মানবজিনের তিন বিলিয়ন ‘লেটার’ থেকে রোগাক্রান্ত সুনির্দিষ্ট জিনকে মুছে দিতে সক্ষম হয়েছেন বলে দাবি করেছেন গবেষকরা।
তারা আশা করছেন, এ প্রক্রিয়ায় একদিন উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত জিনগত রোগ নিরসন সম্ভব হবে।
মানুষের জিনমানচিত্র ‘ডিএনএ’র মৌলিক কাঠামো চারটি বেস তথা ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। এগুলো হল ‘অ্যাডেনাইন’, ‘সাইটোসাইন’, ‘গাইনিন’ এবং ‘থেইমিন’। ভিত্তিগুলো বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় ‘এ’, ‘সি’, ‘জি’ ও ‘টি’ অক্ষর নামে পরিচিত। এই ভিত্তিগুলো মানবজিন প্রকৌশল নিয়ন্ত্রণ করে। জীবননাশি রক্তের বিশৃঙ্খলা তৈরী করা রোগ বেটা থ্যালাসেমিয়া জিনের কোন একটি অক্ষরের ওলটপালটে সৃষ্টি হয়। যা ‘পয়েন্ট মিউটেশন’ নামে পরিচিত।
বিবিসিকে গবেষকদলের একজন জানজু হুয়াং জানান, জিনের ত্রুটি বের করতে প্রথমে স্ক্যান করেন তারা। পরে জি থেকে এ তে বদলে যাওয়া ‘অক্ষর’কে রাসায়নিক অস্ত্রপচারের মাধ্যমে রুপান্তরিত করতে সক্ষম হয়েছেন।
গবেষকরা জানান, এই সাফল্য বেটা থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত সদ্যজাতদের সুস্থ করতে পথ দেখাবে। এছাড়াও উত্তরাধিকার সুত্রে প্রাপ্ত এ রোগাক্রান্তদের জন্য আশার আলো দেখাবে।
পরীক্ষাটি কৃত্রিমভাবে তৈরী ভ্রুণের ওপর করেছিলেন গবেষকরা। ক্লোনিং গবেষণায় এ সাফল্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করছেন তারা।
পাশাপাশি এ গবেষণা নিয়ে বিতর্কও উঠেছে। লন্ডনে ফ্রান্সিস ক্রিক ইনস্টিটিউট’র প্রফেসর রবিন লোভেল-ব্যাজ গবেষণাটির নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, মানবজিনের চেয়ে প্রাণীর জিনে এ গবেষণা বেশি করা উচিত। কারণ অপস্বার্থে এর ব্যবহার হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। এ বিষয়ের নৈতিকতা এবং সামাজিকতার বিষয়ে আরো গভীরভাবে ভেবে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।







