যে সকল দেশ মানবতার কথা বলেন তারাই বঙ্গবন্ধু এবং জাতীয় চার নেতার খুনিদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। ওই সকল খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের সহযোগিতা চাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
৭৫ এর ৩ নভেম্বর সকালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সেলে আটক থাকা জাতীয় চার নেতাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে ঘাতকরা। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে কারাগারের সেই সেলটি এবং পাশে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু যে সেলে বন্দি ছিলেন সেটিকে জাদুঘরে রূপান্তরিত করা হয়।
প্রতিবছরের মতো এবারো শোকাবহ এই দিনটি স্মরণে সকালে কেন্দ্রীয় কারাগারে শ্রদ্ধা জানাতে সমবেত হন চার নেতার পরিবারের সদস্য এবং আওয়ামী লীগ নেতারা। প্রথমে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এবং পরে জাতীয় চারনেতার পরিবারের সদস্যরা এবং আওয়ামী লীগ নেতারা।
এরপরে জাতীয় চার নেতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান তারা। জাতীয় চার নেতার পরিবারের পক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জিয়া-মোশতাক প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে এই খুনের সঙ্গে জড়িত ছিলো। তারপর এরশাদ সাহেব ক্ষমতায় ছিলেন, খালেদা জিয়া ক্ষমতায় ছিলেন। কিন্তু কেউই কোনো সময় এই হত্যাকাণ্ডের বিচারের উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। বরং সেই কালো আইনটি লালন করেছে এবং সেই আইনের বেষ্টনীতে বঙ্গবন্ধুর খুনীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে পুরস্কৃত করা হয়েছে, তাদের সরকারি চাকরি দেওয়া হয়েছে। এখন যখন দেখি,খালেদা জিয়া লন্ডনে বসে আইনের শাসনের কথা বলেন, তখন এর চেয়ে বড় তামাশার কথা আর হতে পারে না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, অনেক দেশের সঙ্গে বন্দি বিনিময় চুক্তি না থাকায় বঙ্গবন্ধু এবং জাতীয় চার নেতার খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনা যাচ্ছেনা।
তিনি বলেন, পলাতকদের ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। অনেক দেশের সঙ্গে আমাদের ফিরিয়ে আনার আইনটি নেই বলে অনেক ক্ষেত্রে অসুবিধা হচ্ছে। আমরা চেষ্টা অব্যাহত রাখছি। চেষ্টা চলবে।
জাতীয় চার নেতার স্মরণে কারা কর্তৃপক্ষের আয়োজনে মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।






