সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিহত ব্লগার নাজিমুদ্দিন সামাদের অ্যাকউন্টে চলছে বন্ধু-বান্ধব স্বজনদের প্রিয়জন হারানো কষ্ট আর আজাহারি।
অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও প্রবাসী ব্লগার মাহমুদুল হক মুন্সী তিন বছর আগে নাজিমুদ্দিনের একটি পোস্ট শেয়ার করেন।
সেখানে নাজিমুদ্দিন লেখেন, “আমায় যদি এ আন্দোলনে হত্যা করা হয় তাহলে কেউ আমার জন্য হায়হায় করবিনা, কান্না-কাটি, লাশ নিয়া মিছিল করবিনা। যদি আমার লাশের পাশে বসে নাকী কান্না করিস তাহলে থাপড়াইয়া তোর দাঁত ফেলাইয়া দিব। যদি পারিস তাহলে দেশের শত্রু, মানবতার শত্রু, জামাত শিবিরের রক্ত দিয়া আমায় শেষ গোসল করাইস নতুবা এইসব আন্দোলন-ফান্দোলন রাইক্কা ঘরে বইসা মুড়ি চাবাইস।মরার পর তর কান্না কাটি দিয়া আমি কী করুম।জামাত-শিবির বাইচ্চা থাকলে এই দেশ বাচবেনা আর তার মানুষও বাচবেনা। তাই হুশিয়ার!সাবধান!!!”
এর আগে মাহমুদুল হক মুন্সী নাজিমুদ্দিন সামাদের হত্যাকাণ্ডে শোকপ্রকাশ করেন। এছাড়াও আরেক প্রবাসী ব্লগার শাম্মী হক ও নাজিমুদ্দিন হত্যাকাণ্ডে শোক ও নিন্দা জানান।
শেখ মিজান রহমান নামের একজন নাজিমুদ্দিনের টাইমলাইনে লিখেছেন, ‘প্রিয় নাজিমুদ্দিন সামাদ Mutual-367 বন্ধুদের রেখে তুমিও চলে গেলে? কে বলেছে তুমি নেই, তুমি আছো, থাকবে —বিচার চাই না, প্রতিশোধের আগুন দাউ দাউ করে বুকে জ্বলছে — তুমি লিখেছিলে- যুগে যুগে ফিরে আসবে !!!’
আব্দুল করিম কিম নামের একজন লিখেছেন, ‘নাজিমুদ্দিনের হত্যার খবর শুনেই সাথে সাথে গুগলে সার্চ দিলাম। আমার বন্ধু তালিকায় নাম থাকা ‘নাজিমুদ্দিন সামাদ’-এর নাম পেলাম নিহত সেই ছেলে হিসাবে । বিশ্বাস হয় নাই । ফেইসবুকে তার দেয়ালে ঢুকলাম। শোক প্রকাশ চলছে। চোখ থমকে গেলো একটি লেখায়। তার এক শিক্ষকের সাথে সাম্প্রতিক আলোচনার স্ক্রিন শট। সে ৩১শে মার্চ লিখেছে- “মাথা নত করে চুপ হয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে এ মরাটাই বোধ হয় ভালো।” 
দেবজ্যোতি দেবু লিখেছেন, ‘গত প্রায় একবছরে ফেইসবুকে যে কয়জন প্রিয় মুখ ছিল তার মধ্যে একজন নাজিমুদ্দিন সামাদ। যতদূর মনে পড়ে সিলেটে গণজাগরণ মঞ্চের মিছিলে একসাথে হেঁটেছি রাজপথে। ছেলেটা আমাদের পাশে সেই সময়টাতেও ছিল যখন পরিচিত অনেকেই হাত ছেড়ে চলে গেছেন বহুদূরে। মিছিলে নিরব পদচারণা থাকলেও ফেইসবুকে সব সময় মৌলবাদ বিরোধী কথাবার্তার কারণে ছেলেটাকে খুব পছন্দ করতাম। কিছুদিন আগেও ফেইসবুক ছেড়ে দেবে বলায় খুব হতাশ হয়ে ওকে অনেক কিছুই বুঝানোর চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু সে আইডি বন্ধ করে দিয়ে পরিবারের আবদার রক্ষা করেছিল। শেষ পর্যন্ত আর প্রতিবাদ ছেড়ে থাকতে পারেনি বলে ফিরে এসেছিল ফেইসবুকে। খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু আজ মনে হচ্ছে আমাদের খুশির চেয়ে পরিবারের খুশির কথা ভাবাটাই মনে হয় ওর জন্য মঙ্গলজনক হত। নষ্ট সমাজে সত্যিই আমাদের কোন স্থান নেই। সামাদদের কোন স্থান নেই। নষ্ট সমাজ জানে শুধু প্রাণ নিতে, রক্তের হোলি খেলতে। তবুও রাষ্ট্রের লজ্জা হয় না, রাষ্ট্রনায়কের লজ্জা হয় না।’
অরুন চৌধুরি লিখেছেন, ‘ক্ষমা করে দিও ভাই। হাত জোড় করে ক্ষমা চাইছি। এই ক্ষমতাটুকুই আমার আছে…এই জাতির কপালে অনেক অনেক ভয়াবহ কালো দিন অপেক্ষা করছে। রাষ্ট্রের চরম ব্যর্থতার বলি এভাবে দিতে হবে নাজিমুদ্দিন সামাদ ভাইয়ের মত মানুষদের জীবন দিয়ে। এটা একটা স্বাধীন দেশ…!!! ঘৃণা জানাই। ধিক ধিক…।
এছাড়াও ফেসবুকে নাজিমুদ্দিনের টাইমলাইনে তার অসংখ্য বন্ধু বান্ধব লিখেছেন বন্ধু ক্ষমা করে দিস।
রাজধানীতে বুধবার রাতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, ব্লগার এবং অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নাজিমুদ্দিন সামাদকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
নাজিমুদ্দিন বঙ্গবন্ধু জাতীয় যুব পরিষদের সিলেট জেলা শাখার তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।







