মাত্র ৯০ ডলারের চুক্তিতে নর্থ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং-উনের সৎভাই কিম জং-ন্যামকে হত্যা করে ইন্দোনেশীয় এক নারী। শনিবার ইন্দোনেশিয়ার দূতাবাসের কর্মকর্তারা কুয়ালালামপুরে গ্রেফতার সিতি আইসিয়াহ নামের ওই নারীর সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় তিনি ৯০ ডলার নেয়ার কথা স্বীকার করেন। বাংলাদেশী মুদ্রায় মাত্র ৭ হাজার টাকার মতো।
কর্মকর্তাদের সিতি বলেন, কোনো এক ব্যক্তি তাকে কাজটি করতে বলেন। তাকে বলা হয়, এ জন্য তাকে ৪০০ মালয়েশীয় রিংগিত (৯০ ডলার/৭২ পাউন্ড) দেয়া হবে। তাকে বেবি ওয়েলের মতো এ ধরনের মলম দেওয়া হয়।
সিতি জানিয়েছেন, ৯০ ডলারের চুক্তি অনুযায়ী, তার কাজ ছিল ভাড়ের মতো আচরণ করে কিম জং-ন্যামের মুখে ‘বেবি ওয়েল’-এর মতো মলম ঘসে দেয়া।
ন্যামের মরদেহের পরীক্ষায় উচ্চমাত্রার বিষাক্ত ভিএক্স প্রয়োগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। মানবদেহে ভিএক্স প্রবেশ করালে শিরা-উপশিরা অকেজো হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে মানুষ।
গত সপ্তাহে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে ফ্লাইটের জন্য অপেক্ষা করার সময় খুন হন ন্যাম। দুজন নারীকে তার মুখে কিছু ছিটিয়ে দিতে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, এই হত্যার পেছনে নর্থ কোরিরা সরকারের হাত রয়েছে।
এই হত্যায় জড়িত সন্দেহে ভিয়েতনামের পাসপোর্টধারী এক নারী ও নর্থ কোরিয়ার এক পুরুষকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। আরো সাত সন্দেহভাজন ওয়ান্টেড তালিকায় রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন, মালয়েশিয়ায় নর্থ কোরিয়া দূতাবাসের এক কূটনীতিক।
ভিএক্স নামে পরিচিত এই বিষাক্ত গ্যাসটিকে জাতিসংঘ গণবিধ্বংসী মারণাস্ত্র হিসেবে বিবেচনা করে থাকে। রাসায়নিক যুদ্ধাস্ত্রের মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী বলে মনে করা হয় ভিএক্স নামে পরিচিত এই নার্ভ গ্যাস।
মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ এখন কুয়ালালামপুরের বিমানবন্দর্ অন্য সব এলাকা, যেখানে সন্দেহভাজন হত্যাকারীরা গিয়েছিল, সেসব জায়গায় এই রাসায়নিকের সম্ভাব্য দূষণ থেকে মুক্ত করার চেষ্টা করছে।
এই হত্যাকান্ড নিয়ে মালয়েশিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সম্পর্কে ইতোমধ্যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।







