মরমী সঙ্গীত শিল্পী আব্দুল আলীমের ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। কণ্ঠস্বরের অসাধারণ ঐশ্বর্য নিয়ে লোকসঙ্গীতকে অবিশ্বাস্য এক উচ্চতায় নিয়ে যান আব্দুল আলীম। পল্লীগীতি, ভাটিয়ালি, দেহতত্ত্ব, মুর্শিদী, ইসলামী গানের শিল্পী হিসেবে তিনি আজও অপ্রতিদ্বন্দ্বী।
১৯৭৪ সালের এ দিনে ভক্তকুলকে কাঁদিয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কালজয়ী সঙ্গীত শিল্পী আব্দুল আলীম। আব্দুল আলীম নেই কিন্তু আছে তার গান। এ গানের মাঝে তিনি সঙ্গীতপিপাসু মানুষের মাঝে বেঁচে থাকবেন যুগ যুগ।
দরাজ কণ্ঠের সঙ্গীত শিল্পী আব্দুল আলীমের জন্ম পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার তালিবপুর গ্রামে ১৯৩১’র ২৭ জুলাই। শুধু বেতারে গান শুনেই এদেশের মানুষ তাকে আত্মীয় হিসেবে গ্রহণ করেছিল। আব্বাস উদ্দীনের পরে আমাদের লোকসঙ্গীত ইতিহাসে অবিস্মরণীয় ছিলেন আব্দুল আলীম।
মাত্র ১৩ বছর বয়সে তার প্রথম গানের রেকর্ড হয়। অর্থনৈতিক অনটনের কারণে কোন শিক্ষকের কাছে গান শেখার সৌভাগ্য হয়নি তাঁর। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর আব্দুল আলীম কলকাতা ছেড়ে ঢাকা চলে আসেন। সে বছরই বেতারে অডিশন দিয়ে পাশ করেন তিনি। ১৯৪৮ সালের ৯ আগস্ট প্রথম গান করেন আব্দুল আলীম।
পল্লীকবি জসীমউদ্দিনের পরিচয়ের সুবাধে যোগাযোগ হয় সঙ্গীতজ্ঞ মমতাজ আলী খানের সঙ্গে। মমতাজ আলী খানই তাকে নিয়ে আসেন গানের জগতে।
পরবর্তীতে তিনি কানাই শীলের কাছে সঙ্গীত শিক্ষা লাভ করেন। বাংলাদেশের প্রথম চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’সহ প্রায় পাঁচশ চলচ্চিত্রে গান করেন তিনি। পেশাগত জীবনে আব্দুল আলীম ছিলেন ঢাকা সঙ্গীত কলেজের লোকগীতি বিভাগের অধ্যাপক।
যাদুকরী কণ্ঠের অধিকারী আব্দুল আলীম পূর্বাণী চলচ্চিত্র পুরস্কার, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি পুরস্কারসহ বিভিন্ন পুরস্কার অর্জন করেন।
জীবদ্দশায় ও মরণোত্তরসহ বেশ কয়েকটি জাতীয় পুরস্কার পান তিনি। ১৯৭৭ সালে তাকে মরণোত্তর একুশে পদক দেয়া হয়।







