চ্যানেল আই অনলাইন
Advertisement
English
  • সর্বশেষ
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • খেলাধুলা
  • বিনোদন
  • অপরাধ
  • অর্থনীতি
  • আদালত
  • ভিডিও
  • জনপদ
  • প্রবাস সংবাদ
  • চ্যানেল আই টিভি
  • আরও
    • কর্পোরেট নিউজ
    • কৃষি
    • তথ্যপ্রযুক্তি
    • মতামত
No Result
View All Result
চ্যানেল আই অনলাইন
En

মন্ত্রীদের ‘নৈতিকতা হারানো’ সর্বক্ষেত্রে কেতাবি ব্যাখ্যার বিষয় নয়!

কবির য়াহমদ কবির য়াহমদ
১০:৩০ পূর্বাহ্ণ ৩০, মার্চ ২০১৬
মতামত
A A

দাপ্তরিক কাজে ব্যর্থতা, বিভিন্ন কাজ ও মন্তব্যের কারণে বিতর্কিত হয়ে পড়া সহ অনেক কিছু আছে কিন্তু এবার দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট থেকে শাস্তিপ্রাপ্ত হয়ে সরকারের দুই মন্ত্রী তাদের মন্ত্রিত্বের বৈধতা নিয়ে প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছেন। প্রশ্ন ওঠেছে তারা নৈতিকতা হারিয়ে শপথ ভঙ্গ করেছেন কিনা।

খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার কারণে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ গত রোববার (২৭ মার্চ) অর্থদণ্ড, অনাদায়ে বিনাশ্রম কারাদণ্ডের দেন। এ দণ্ডের মধ্যে রয়েছে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অথবা সাত দিনের কারাবাস।

আওয়ামী লীগ সরকারের দুই মন্ত্রীর অপরাধ ছিল তারা সরকারের থাকাবস্থায় ঢাকায় একটি সংগঠনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছিলেন। গত ৫ মার্চ একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির এক আলোচনা সভায় খাদ্যমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেম আলীর আপিলের রায়ের ক্ষেত্রে মামলার যুক্তিতর্ককালিন সময়ে করা  প্রধান বিচারপতির এক মন্তব্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে এ যুদ্ধাপরাধীকে বাঁচানোর চক্রান্ত চলছে বলে অভিযোগ আনেন।

Banglabid

এ জন্যে তারা নিয়মনীতি বহির্ভূতভাবে আপিল পুনশুনানির দাবি করে প্রধান বিচারপতির অপসারণের দাবি জানান। দুই মন্ত্রীর এ বক্তব্যে টালমাটাল হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। দেশব্যাপী এর প্রভাব পড়ে। মানুষের মনে সন্দেহ দানা বাঁধে আসলেই কী ঘটতে চলেছে!

দুই মন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, বিভিন্ন মিডিয়া, রাজনৈতিক সংগঠনগুলো এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানালে রায় ঘোষণার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত একটা অনিশ্চয়তার দোলাচলে দুলতে থাকে সবাই। সত্যি কি ‘বায়াসড’ রায় আসছে, শীর্ষ এ যুদ্ধাপরাধী কি পার পেয়ে যাচ্ছে এমন প্রশ্ন দেখা দেয়। বিশাল এক প্রশ্নবোধক চিহ্ন ঘুরতে থাকে আদালতের দিকে।

এ অনিশ্চয়তার কারণও ছিল অনেক, কারণ যুদ্ধাপরাধের বিচারপ্রক্রিয়া শুরু থেকেই অঢেল অর্থবিত্তের মালিক এসব যুদ্ধাপরাধী ও তাদের দল জামায়াতে ইসলামী দেশে-বিদেশে বিভিন্ন অপপ্রচার চালিয়ে আসছিল। কেবল দেশেই অর্থের ছড়াছড়ি ছিল না, দেশের বাইরেও যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়াকে বানচাল করতে বিদেশি লবিস্ট নিয়োগ দেওয়ার খবর এসেছিল বিভিন্ন মিডিয়ায়।

Reneta

আর মীর কাসেম আলীর পক্ষ থেকে এসব করা হচ্ছিল। তবে আশার কথা শেষ পর্যন্ত আদালত কোনোভাবে প্রভাবিত হন নি, এবং এ দুই মন্ত্রী ও অন্যরা যে ভুল ছিলেন সে প্রমাণ দিয়েছেন রায়ের ক্ষেত্রে। সব আশঙ্কাকে অমূলক ও মিথ্যা প্রমাণ করে দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রাখেন আপিল বিভাগ।

দুই মন্ত্রীর অবমাননাকর বক্তব্যে ক্ষুব্ধ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নয় সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ রায়ে আগমুহূর্তে এধরনের বক্তব্যে আদালত স্তম্ভিত বলে মন্তব্য করেন, এবং দুই মন্ত্রীকে কারণ দর্শাতে নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি ১৫ মার্চ আদালতে সশরীরে উপস্থিত থাকারও  নির্দেশ দেন। মন্ত্রীগণ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শোকজের জবাব দেন।

খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের বক্তব্যে আদালত সন্তুষ্ট না হয়ে ফের  নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে বলেন, মন্ত্রী তাই করেন। এবং অবশেষে আরও শুনানির পর ২৭ মার্চ সংক্ষিপ্ত আদেশে মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে শাস্তির ঘোষণা দেন। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন, পুরো বিষয়টিকে আদালত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচনায় নিয়েছিলেন। ফলে আপিল বিভাগের ফুলবেঞ্চ শুনানি শেষে মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে শাস্তি ঘোষিত হয়েছে।

রোববার শুনানিকালে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা মন্ত্রীদ্বয়ের আইনজীবীদের কাছে প্রশ্ন রেখেছিলেন শপথ ভঙ্গের শাস্তি কী? এর ফলে আদালত হয়ত মনে করছে মন্ত্রীগণ তাদের মন্ত্রিত্বগ্রহণকালীন শপথ ভঙ্গ করেছেন, যদিও পূর্ণাঙ্গ রায় এখনও আসে নি। তাই শপথভঙ্গের মীমাংসা হয় নি। পূর্ণাঙ্গ রায়ে হয়ত এবিষয়ে আদালত তাদের পর্যবেক্ষণ দেবেন। এটা আইনগত দিক, এবং আইনেই এর সমাধা আছে।

রায় ঘোষণার পর প্রশ্ন ওঠেছে মন্ত্রীরা নৈতিকতার শপথ ভঙ্গ করেছেন কিনা। এমন পরিস্থিতিতে তারা মন্ত্রী হিসেবে থাকতে পারেন কিনা। এ নিয়ে আইনজ্ঞ ও সংবিধান বিশেষজ্ঞরা তাদের অভিমত জানিয়েছেন।

সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ জানিয়েছেন, ‘সংবিধানে সংসদ সদস্যদের জন্যে নৈতিকতার কথা থাকলেও মন্ত্রীদের ক্ষেত্রে সেটা নেই’। কিন্তু উল্লেখিত দুই মন্ত্রী টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী হন নি বলে প্রথমে তারা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ দিয়েছেন এবং এরপর মন্ত্রিত্বের। ফলে তারা কি কোনোভাবে এ দায় এড়াতে পারেন- প্রশ্ন থেকেই যায়!

এ প্রসঙ্গে সাবেক এ আইনমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘দুই মন্ত্রী পদে বহাল থাকবেন কি না, এটি নৈতিকতার প্রশ্ন জড়িত। নৈতিকতার বিষয়টি ভিন্ন, সংবিধানে নৈতিকতার বিষয়টি বলা হয়েছে সংসদ সদস্য পদের জন্য। কারণ সংবিধানে বলা হয়েছে, ফৌজদারি অপরাধে নৈতিকতা জনিত কারণে যদি দুই বছর সাজাপ্রাপ্ত হয়, তাহলে তাদের সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকবে না। আমি মনে করি, দুই মন্ত্রী যে সাজা পেয়েছেন, এতে তাদের মন্ত্রিত্ব যাবে না’।

সাবেক আইনমন্ত্রীর বক্তব্য পুরোটাই সংবিধান ও আইনকে কেন্দ্র করে। স্বভাবত জনসাধারণের দৃষ্টিভঙ্গিগত কোন বিষয়কে ধারণ করে না।

খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক জনসাধারণের কাছে মন্ত্রী হিসেবে মর্যাদার আসনে সমাসীন। মন্ত্রীগণ পুলিশ প্রটোকল নিয়ে ঘোরাফেরা করেন, এটা তাদের প্রতি মানুষের সর্বশেষ পরিচয়স্মারক নয়। তাদের পদ, অবস্থান মর্যাদা এবং সম্মানের সঙ্গেই উচ্চারিত হওয়াই সঙ্গত।

কিন্তু যখন কোনো মন্ত্রী আদালতের কাছে অপরাধী হিসেবে দণ্ডপ্রাপ্ত হন তখন মানুষ তাদেরকে ভিন্নচোখে দেখতে বাধ্য, দেখেও থাকে। সে হিসেবে এ দুই মন্ত্রীও অপরাধী হিসেবে দণ্ডপ্রাপ্ত; হোক না তা আদালত অবমাননার কারণে, অথবা অন্য কোনো কারণে। ফলে কেবল মন্ত্রী নয়, আদালত কর্তৃক দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধী হিসেবে মানুষজন ভেবে নিলে সেখানে অন্যায়ের কিছু থাকে না। যে কারণে শ্রদ্ধা ও সম্মানের আসন নড়বড়ে হয়ে পড়ে। ব্যক্তির অপরাধের দায় তখন প্রতিষ্ঠানের ওপর গিয়ে পড়ে। এতে করে প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়ে পড়ে, ক্রমশ।

দুই মন্ত্রী শাস্তি প্রসঙ্গে সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও আইনজ্ঞ ড. শাহদীন মালিকের মন্তব্য প্রণিধানযোগ্য। তিনি বলেছেন, ‘আদালতে আদেশের পর এই দুই মন্ত্রী তাদের নৈতিকতা হারিয়ে ফেলেছেন। দেশের মানুষ জেনে গেছেন, তারা দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। দোষী সাব্যস্ত হয়ে মন্ত্রিত্বে দায়িত্ব পালন করলে দেশের মানুষ কি বলবে?’  নৈতিকতা সম্পর্কে তাঁর মন্তব্য কেবল আইনগত দিকেই ব্যাপ্ত না, এটা মানুষের কাছে জবাবদিহির ইঙ্গিত প্রদর্শনপূর্বকও, একই সঙ্গে প্রভাবিত জনমতকে তুলে আনে।

খাদ্যমন্ত্রী ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ কর্তৃক অর্থদণ্ড, অনাদায়ে সাত দিনের কারাবাসের দণ্ডের পর রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা মাহবুবে আলম বিষয়টি ছেড়ে দিয়েছেন মন্ত্রীসভার উপর। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই দুই মন্ত্রী নৈতিকতা হারিয়েছেন কিনা এবং তাদের মন্ত্রিত্ব থাকবে কিনা সে বিষয়ে এখন সিদ্ধান্ত মন্ত্রীসভার।’

তিনি আরও বলেন, ‘আদালত তার রায়ে বলেছেন, এই দুই মন্ত্রী চরমভাবে আদালত অবমাননা করেছেন। এজন্য তাদের নিঃশর্ত ক্ষমার আবেদন গ্রহণ করেনি আদালত। তাদের আবেদন না-মঞ্জুর করেছেন। তাদের অপরাধের গুরুত্ব এত বেশি যে তাদের ক্ষমা করা যাবে না। আগামী সাত দিনের মধ্যে এই জরিমানার টাকা দাতব্য দুটি প্রতিষ্ঠানে জমা দিতে হবে।’

দুই মন্ত্রীর মন্ত্রিত্ব প্রসঙ্গে আইন ও বিচারমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের কাছে বলেন, ‘দুই মন্ত্রী দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। কিন্তু তাঁদের শপথ ভঙ্গ হয়নি’।  বার কাউন্সিলের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং কামরুল ইসলামের আইনজীবী বাসেত মজুমদার বলেন, ‘তাদের মন্ত্রিত্বের শপথ ভঙ্গ হয়েছে কিনা সেটি আদালত এখনো ক্লিয়ার করেনি। পূর্ণাঙ্গ রায় বের হওয়ার আগে এ ব্যাপারে মন্তব্য করা যাচ্ছে না’।

সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, ‘শপথ ভঙ্গের অপরাধে সর্বোচ্চ আদালত দোষী সাব্যস্ত করে দুই মন্ত্রীকে সাজা দিয়েছে। নৈতিকতার বিষয় থাকায় তাদের অবিলম্বে মন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করা উচিত। যদি তারা পদত্যাগ না করেন তবে প্রধানমন্ত্রীর উচিত তাদের মন্ত্রীসভা থেকে সরিয়ে নেয়া।’

রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা, সাবেক আইনমন্ত্রী, বর্তমান আইনমন্ত্রী, সরকারপক্ষ ও সরকারবিরোধী আইনজীবী সকলের মন্তব্যকে যদি আলোচনায় নিয়ে আসা হয় তবে এটা নির্দ্বিধায় বলা যায় আদালত তাদের পূর্ণাঙ্গ রায়ে মন্ত্রীগণ তাদের নৈতিকতা হারিয়েছেন উল্লেখ করা হোক, অথবা নাই হোক পুরো বিষয়টি রাজনৈতিক সমীকরণের দোলায় দুলছে।

রায়ে ‘নৈতিকতা হারিয়েছেন’ বলা হলে তখন যুক্তি আসবে নৈতিকতা আইনগতভাবে মন্ত্রীদের জন্যে না, সংসদ সদস্যদের জন্যে। আর নৈতিকতা হারান নি, অথবা এ প্রসঙ্গে কোন মন্তব্য না থাকলে যুক্তি আসবে তাহলে কেন পদত্যাগ করতে হবে যেখানে আইন ও সংবিধান পদত্যাগে বাধ্য করছে না। এক্ষেত্রে আদালত কর্তৃক দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার পর মন্ত্রীদের প্রতি সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিগত পরিবর্তন ও মন্ত্রী পদের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা হ্রাসের বিষয়টিকে কেউ হয়ত পাত্তাই দেবে না কেতাবিব্যাখ্যার দোহাই দিয়ে।

পূর্ণাঙ্গ রায়ে কী লেখা থাকবে সেটাও নিয়ে মানুষজন ভাবিত নয়। রায় এসেছে এবং সে রায়ে মন্ত্রীগণ দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন এটাই মানুষের কাছে পৌঁছানো বার্তা। এক্ষেত্রে দায় নিয়ে পদত্যাগ হলে তখন মানুষজন একে সাধুবাদ জানিয়ে বলত ‘অপরাধীরা’ মন্ত্রী হলেও তাদের ক্ষমা নেই!

দুই মন্ত্রী আদালত কর্তৃক শাস্তিপ্রাপ্ত। এখানে ব্যক্তি পদমর্যাদাকে ধারণ করতে পারে নি, ব্যক্তির অনিয়ন্ত্রিত আচরণ মন্ত্রী পদমর্যাদাকে মানুষের কাছে ছোট করেছে- এটাই চূড়ান্ত সত্য। আইন, কিংবা সংবিধান তাদেরকে এ পদে রাখবে কিনা সেটা কেতাবি জ্ঞান-ব্যাখ্যা, ভিন্নমুখি যুক্তি ও পালনের বিষয়। কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে মন্ত্রী পদ ও অবস্থানের মর্যাদা ও সম্মানের বিষয়টি একান্তই ব্যক্তিক পর্যায়ে, এবং তা কখনও কোনোকালে আইন-সংবিধান ঘেঁটে হয় না।

ফলে আচার-আচরণের নৈতিকতাকে আইনের জালে না ঘুরিয়ে সরাসরি জনমতের দিকে নিবদ্ধ করা উচিত। আর যখন মন্ত্রীগণ রাজনৈতিক নেতা, মন্ত্রীসভার প্রধান ব্যক্তিও রাজনৈতিক নেতা এবং দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের প্রধান- আর রাজনৈতিক দল জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও মুখাপেক্ষী সে হিসেবে আপাত কঠোর হলেও জনমতকে প্রাধান্য দিয়ে মন্ত্রীসভা থেকে তাদেরকে বাদ দেওয়া অথবা পদত্যাগ করা উচিত।

যতদূর ধারণা করি খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক স্বেচ্ছায় মন্ত্রীসভা থেকে পদত্যাগ করবেন না। এটা পুরোপুরি তাদের দোষও হয়ত নয়, কারণ দায় স্বীকারে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেওয়ার সংস্কৃতি আমাদের দেশে গড়ে ওঠে নি, আর এটা রাজনীতিবিদদের ক্ষেত্রে নয়ই। ফলে পুরো বিষয়টি আদতে নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রীর ওপর। রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তাও বলছেন এটা এখন প্রধানমন্ত্রীর ওপর নির্ভর করছে। প্রধানমন্ত্রী চাইলে দুই মন্ত্রী মন্ত্রিত্ব ছাড়তে পারেন, অথবা পদচ্যুত হতে পারেন। এর বাইরে খুব বেশি পথ খোলা নেই।

প্রধানমন্ত্রী এ নিয়ে কি চাইছেন, কতখানি চাইছেন সেটা দণ্ডাদেশের পর তাতক্ষণিকভাবে জানা যায় নি। অন্য অনেক বিষয়ের মত এ বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর নিস্পৃহভাব দীর্ঘায়িত হলে ভাবমূর্তিজনিত ক্ষতিটা তাঁর সরকারেরই। কারণ আদালতের আদেশের সঙ্গে সঙ্গেই পুরো দেশে এ দণ্ডের খবর প্রচার হয়ে গেছে, দেশের বাইরেও প্রচার হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এ দুই মন্ত্রীর প্রাথমিক বক্তব্যকে তাঁর সরকারের বক্তব্য নয় বলে আগে মন্তব্য করেছিলেন। তাই রায়ের পর এ বিষয়ে জনমতপ্রাধান্য দেওয়া কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি বৈকি!

খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক আদালত কর্তৃক শাস্তিপ্রাপ্ত হয়ে নৈতিকতাবিচ্যুত কিনা সেটাকে যদি সর্বক্ষেত্রে আইনিবিচার্য্য বিষয় ভাবা হয় তবে এভাবে সব সময় ভাবা উচিত হবে না। কারণ দেশবাসী ইতোমধ্যেই জেনে গেছে উচ্চ আদালত এ দুই মন্ত্রীকে শাস্তি দিয়েছেন। কী শাস্তি দিয়েছেন, কেন দিয়েছেন, কী সে শাস্তির মাত্রা- সেটা হয়ত কেতাবি জ্ঞান ও বিশদ আলোচনার বিষয়। কিন্তু সকল ক্ষমতার উৎস যদি হয় জনগণ তবে জনগণের প্রতিক্রিয়াকে গুরুত্ব দেওয়া দরকার।

হ্যাঁ, দেশবাসী হয়ত কোনোভাবেই মন্ত্রীদের পদত্যাগে বাধ্য করানোর মত কোন আন্দোলনের নামবে না ঠিকই, কিন্তু মন্ত্রিত্বে বহাল থাকলে তারা ধরেই নেবে মন্ত্রীসভায় আদালত কর্তৃক দণ্ডপ্রাপ্ত মানুষজন আছে, এবং সরকার প্রধান তাদের আগলেও রেখেছেন!

এটা শেষ বিচারের সরকারেরই ক্ষতি। শেখ হাসিনার নামে যখন সরকার পরিচালিত হয় তখন এর দায়টা অনেকাংশে তাঁরই!

(এ বিভাগে প্রকাশিত
মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির
সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

Channel-i-Tv-Live-Motiom

ট্যাগ: যুদ্ধাপরাধীর বিচার
শেয়ারTweetPin
পূর্ববর্তী

কানাডায় বিমান বিধ্বস্ত, মন্ত্রীসহ ৭ জন নিহত

পরবর্তী

অর্ধশত বছর পর মিয়ানমারে বেসামরিক প্রেসিডেন্ট

পরবর্তী

অর্ধশত বছর পর মিয়ানমারে বেসামরিক প্রেসিডেন্ট

‘ভারত মাতা’ ইউরোপের আমদানি

সর্বশেষ

সাব্বিরের ফিফটি, বাংলাদেশ এইচপির টানা দুই জয়

আগস্ট ২৩, ২০২৬

ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে ‘হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ’ শীর্ষক সেমিনার

আগস্ট ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

গ্যাস সংকটে ফুয়াং ফুডের কারখানা ৬ মাসের লে-অফ

আগস্ট ২৩, ২০২৬
গণপতি চক্রবর্তী, স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী ও ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী এক ফ্রেমে বন্দি সেই সুখের দিনগুলো এখন শুধুই স্মৃতি

রংপুরে সন্তান স্ত্রীসহ শিক্ষক হত্যা: কেন বারবার বদলে যায় তদন্তের গল্প

আগস্ট ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু

আগস্ট ২৩, ২০২৬
iscreenads
চ্যানেল আই অনলাইন লোগো, বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংবাদ পোর্টাল. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
সম্পাদক: জাহিদ নেওয়াজ খান
ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড , ৪০, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সরণী, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮, বাংলাদেশ
www.channeli.com.bd,
www.channelionline.com 

ফোন: +৮৮০২৮৮৯১১৬১-৬৫
[email protected]
[email protected] (Online)
[email protected] (TV)

  • আর্কাইভ
  • চ্যানেল আই অনলাইন সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In

Add New Playlist

No Result
View All Result
  • সর্বশেষ
  • প্রচ্ছদ
  • চ্যানেল আই লাইভ | Channel i Live
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • স্বাস্থ্য
  • স্পোর্টস
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • কর্পোরেট নিউজ
  • আইস্ক্রিন
  • অপরাধ
  • আদালত
  • মাল্টিমিডিয়া
  • মতামত
  • আনন্দ আলো
  • জনপদ
  • আদালত
  • কৃষি
  • তথ্যপ্রযুক্তি
  • নারী
  • পরিবেশ
  • প্রবাস সংবাদ
  • শিক্ষা
  • শিল্প সাহিত্য
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

© 2023 চ্যানেল আই - Customize news & magazine theme by Channel i IT