ছোটবেলায় তৈলাক্ত বাঁশে বানরের উঠানামার পাটিগণিতে মনে হতো, এই অংক শিখে কী লাভ! এখন বুঝতে পারছি, আমাদের গণিতবিদরা কতো দূরদর্শী! তারা সেই অংক শিখিয়েছিলেন বলেই না আজ ভ্যাটের অংকটা করতে পারছি।
চলুন অংকটা শুরু করি। ধরা যাক, আমাদের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোক্তা মহান কারিগর যাদের আইন অনুযায়ী মুনাফা না করার কথা থাকলেও এখান থেকে ব্যবসা করছেন তারা টিউশন ফি বাজেটের আগের অবস্থায় নিয়ে গেলেন।
অর্থাৎ তখন যদি ১০০ টাকা ফি হয়ে থাকে, তা হলে সেটাই করা হলো। বাজেটের পর যে ৭.৫০ টাকা ভ্যাট হিসেবে বাড়তি নেওয়া হচ্ছিলো সেটা বাতিল।তাহলে এনবিআরের কথা অনুযায়ী টিউশন ফি না বাড়লে এখন ৭.৫% ভ্যাটসহই টিউশন ফি হলো ১০০ টাকা। সে হিসাবে, আসল টিউশন ফি ৯৩.০২ টাকা হবে। বাড়তি ৬.৯৮ টাকা দেওয়া হচ্ছে ভ্যাট হিসেবে।
এখন এই টাকাটা কে দিচ্ছে? অবশ্যই শিক্ষার্থী। তাহলে যে বলা হচ্ছে ভ্যাট দেবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ!সেটা আসলে সম্ভব না। কারণ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আয়ের পথ টিউশন ফি। ভ্যাটটাতো আর প্রভিডেন্ট ফান্ড না যে কর্মচারি দিলো অর্ধেক আর মালিকপক্ষ অর্ধেক।বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আসলে ভ্যাট পরিশোধের কোনো সুযোগ নেই। যা দেওয়ার শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদেরই দিতে হবে।
ভাষার মারপ্যাঁচে বলতে পারেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সরকারের কোষাগারে জমা দিচ্ছে বলে তারা দিচ্ছে। সেটাতো গত চারমাস যেটা শিক্ষার্থীরা পরিশোধ করেছে, সেটাও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষই সরকারি কোষাগারে জমা করেছে। মানে তারা দিয়েছে!
আসলে একটা গুবলেট পাকিয়ে সেটা ভাঙতে গিয়ে আরো ১০টা পাকানো হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি ছিলো সেরকম একটা গুবলেট। ওই গুলির কারণেই এখন এতোবড় আন্দোলন। সরকার নিশ্চয়ই এটা খতিয়ে দেখবে না, যেমন খতিযে দেখবে না যে কোন বিশেষজ্ঞের পরামর্শে ভ্যাট আরোপ, পরে আবার বলা যে এটা শিক্ষার্থীরা দেবে না। হতে পারে বেসরকারি শিক্ষার অনিয়মে সরকার ত্যক্ত-বিরক্ত ছিলো।
এখন সরকার যদি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিয়ম দুর্নীতি বন্ধ করতে চায়, তারা অবৈধভাবে যে মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছে সেটাকে করযোগ্য করতে চায়, তাহলে আইনে পরিবর্তন আনলেই হয়। বেসরকারি শিক্ষাকে লাভজনক সেবা খাত ঘোষণা করলেই ল্যাঠা চুকে যায়। তখন সরকার সরাসরি ট্যাক্স আদায় করুক।বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকে যে অনৈতিক চর্চা করছে সেটা ঠেকাতে গিয়ে সরকার না হয় একটু ব্যবসায়িক আচরণই দেখালো।
(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)







