ভারত, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানে মৃতের সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিনশ’তে দাঁড়িয়েছে। পাকিস্তানেই মারা গেছে আড়াইশ’রও বেশি মানুষ। আহত হয়েছে দুই হাজারেরও বেশি মানুষ। বিভিন্ন জায়গায় বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে,বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। হতাহতদের উদ্ধারে কাজ করছে উদ্ধার কর্মীরা।
নেপালের ভূমিকম্পের রেশ কাটতে না কাটতেই সোমবার আবারো কেঁপে উঠলো দক্ষিণ এশিয়া। ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে কিরগিজস্তান, উজবেকিস্তান ও তাজিকিস্তানেও। ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলের হিন্দুকুশ পর্বত।
যুক্তরাষ্ট্রের জিওলজিক্যাল সার্ভে বিভাগ জানিয়েছে, ভুকম্পনটি প্রায় ৪০ সেকেন্ড স্থায়ী ছিল। প্রথম ভূমিকম্পের ৪০ মিনিট পর আবারো ৪ দশমিক ৮ মাত্রার আরেকটি ভুকম্পন অনুভূত হয়।
ভূকম্পনে ব্যাপক হতাহত এবং ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পাকিস্তানে। খাইবার পাখতুনখাওয়া ও ফাতা এলাকায় হতাহতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। পাঞ্জাব ও জম্মু কাশ্মীরেও হতাহত হয়েছেন অনেকে। নিহতের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আহতের সংখ্যা। এখনো ধ্বংস স্তুপের নিচে চাপা পড়ে রয়েছে অসংখ্য মানুষ। আটকে পড়াদের উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। ত্রাণ সহায়তা দেয়া হচ্ছে দুর্গতদের। আহতদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে বিভিন্ন হাসপাতালে।
আফগানিস্তানেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় একশো’তে। কাবুলে একটি স্কুলে আতঙ্কে হুড়োহুড়ির সময় পায়ের নিচে পড়ে মৃত্যু হয়েছে ১২ জন ছাত্রীর। এছাড়া বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন রয়েছে বিভিন্ন এলাকায়।
ভারতের দিল্লি, কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ, রাজস্থান, হরিয়ানা ও পাঞ্জাবের বিভিন্ন এলাকায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। তবে হতাহতের খবর পাওয়া যায় নি। বিচ্ছিন্ন হয়েছে বিভিন্ন এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ। ফাটল দেখা দিয়েছে সড়কগুলোতে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টুইট বার্তায় পাকিস্তান ও আফগানিস্তানকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। দুর্গতদের সহায়তায় সর্বোচ্চ তৎপরতার নির্দেশ দিয়েছেন মোদি।






