বিশ্বকাপের পর্দা নামতে আর বাকি কেবল দুটি ম্যাচ। আগামী রোববার নিউ ইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। ফাইনালে ভাঙতে যাচ্ছে ফুটবলের চিরাচরিত একটি নিয়ম। প্রথমবারের মত প্রথমার্ধের বিরতির সময়সীমা বাড়িয়ে ২৫ থেকে ৩০ মিনিট করার পরিকল্পনা করছে ফিফা। তবে বিরতির সময় এভাবে বাড়িয়ে দেয়ার ফলে খেলোয়াড়দের চোটের বড় ঝুঁকি দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
সাধারণত ফুটবলের নিয়ম অনুযায়ী হাফ-টাইমের সর্বোচ্চ সময়সীমা ১৫ মিনিট। কিন্তু ফাইনালে এই দীর্ঘ বিরতির কারণ মূলত, ম্যাচ চলাকালীন একটি ১১ মিনিটের তারকাখচিত বিনোদনমূলক শো বা কনসার্ট আয়োজন করার ফিফার বাণিজ্যিক পরিকল্পনা।
ফিফার এমন পরিকল্পনায় খেলোয়াড়দের শারীরিক ও জৈবিক প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ম্যানচেস্টার মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট অব স্পোর্টসের ফিজিওলজির সিনিয়র লেকচারার ড. লিয়াম হার্পার।
হার্পার বলেন, ‘১৫ মিনিটের একটি বিরতি পেশীর তাপমাত্রা কমিয়ে আবার স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে আসার জন্য যথেষ্ট। সেরা পারফরম্যান্সের জন্য পেশীর তাপমাত্রা বেশি থাকা অত্যন্ত জরুরি, কারণ এটি পেশীর শক্তি উৎপাদন এবং বল প্রয়োগের হারের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত। আর এই কারণেই ম্যাচ শুরুর আগে ওয়ার্ম-আপ করা কার্যকর-এটি কেবল ইনজুরির ঝুঁকিই কমায় না, বরং শারীরিক কর্মক্ষমতাও বৃদ্ধি করে। খেলা চলাকালীন বিরতি আরও দীর্ঘ হলে পেশীর তাপমাত্রা হ্রাসের এই প্রক্রিয়াটি সম্ভবত আরও বেশি মারাত্মক হবে।’
ম্যাচ শুরুর আগে খেলোয়াড়রা সাধারণত কিছুটা দীর্ঘ বিরতিতে অভ্যস্ত থাকেন-যেমন তাদের প্রাথমিক ওয়ার্মআপ এবং খেলা শুরুর মধ্যে প্রায় ৩০ মিনিটের একটি ব্যবধান থাকে। একটি সাধারণ ১৫ মিনিটের হাফটাইম বিরতিই খেলোয়াড়দের শক্তি সঞ্চয়, রিহাইড্রেশন (শরীরে পানির অভাব পূরণ) এবং বিশেষ করে শরীরের মূল তাপমাত্রা ঠান্ডা করার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেয়, বিশেষ করে যেখানে ফাইনালের দিন তাপমাত্রা প্রায় ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে ড. হার্পার স্বীকার করেছেন ৩০ মিনিটের এই বিরতি কিছু সুবিধাও দিতে পারে। এটি খেলোয়াড়দের শক্তি সঞ্চয়ের জন্য, বিশেষ করে কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ এবং রিহাইড্রেশনের জন্য আরও বেশি সুযোগ তৈরি করবে। এছাড়া ট্যাকটিক্যাল পরিবর্তনের জন্য কোচিং স্টাফের দৃষ্টিকোণ থেকেও এই দীর্ঘ সময়টি সুবিধাজনক হতে পারে।
এই দীর্ঘ বিরতির নেতিবাচক প্রভাবগুলো কমিয়ে আনার জন্য ফিফার কাছে কিছু বৈজ্ঞানিক পরামর্শ দিয়েছেন ড. লিয়াম হার্পার। বলেছেন, দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হওয়ার ঠিক আগে খেলোয়াড়দের দুই থেকে চার মিনিটের জন্য একটি ‘রি-ওয়ার্ম আপ’ বা পুনরায় শরীর গরম করার অনুমতি দিতে পারে ফিফা। গবেষণায় দেখা গেছে, দ্বিতীয়ার্ধের আগে শারীরিক রি-ওয়ার্ম আপ করার মাধ্যমে স্প্রিন্ট (গতি) এবং জাম্প (লাফানোর) পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রে সুফল পাওয়া যায়।’







