ঢাকায় অধ্যয়নরত হাওড় অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেছেন, বন্যা নিয়ন্ত্রণে অর্থ বরাদ্দ থাকার পরও সঠিক ব্যবহারের অভাবে প্রতিবছরেই অকাল বন্যায় ফসল ও জানমালের ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে হাওড়বাসীকে। তাই অকাল বন্যায় আক্রান্ত হাওড়বাসীর দাবি এখন পুনর্বাসনের নামে ভিক্ষার বদলে বন্যা রক্ষা বাধের একটা স্থায়ী সমাধান করা।
সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে এমন অভিযোগ করে অারো বলেন, সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোণার মতো হাওড় বেষ্টিত জনপদ বরাবরই অবহেলিত। কিন্তু দেশের খাদ্য চাহিদা মেটাতে এ অঞ্চলের জেলাগুলোর রয়েছে বড় ভূমিকা। ঊর্বর মাটিতে পর্যাপ্ত ধানের পাশাপাশি জলাধারগুলো মৎস্য সম্পদের আধার। ঢাকা শহরে আসা মোট মাছের এক-তৃতীয়াংশই আসে এ জনপদটি থেকে।

মানববন্ধনে আওয়ামী লীগ নেতা শফি আহমেদ বলেন, ‘বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ সুরক্ষার জন্য প্রতিবছর জেলাগুলোতে সরকার শতকোটি টাকার কাছাকাছি বরাদ্দ দিয়ে থাকে। কিন্তু বন্যা এলেই দেখা যায়, স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীদেরও বাঁধ রক্ষার জন্য ছুটতে হয়। দায়িত্বশীলদের যেনো কোনো দায় নেই।
“এ বছর যেমন সুনামগজ্ঞে বরাদ্দ ৬৭ কোটি টাকা। তারপরও দুটিন আগে হঠাৎ বন্যায় সব ফসলি জমি পানির নিচে চলে গেছে। এর কারণ হলো যথাযথ কর্তৃপক্ষের অবহেলা এবং বরাদ্দকৃত অর্থ লোপাট করা।”
তিনি বলেন ‘ভৌগলিক কারণে আমাদের অঞ্চলে বছরে মাত্র একবারই ফসল আবাদ করা সম্ভব হয়। বৈশাখের শেষের দিকে কৃষক ফসল ঘরে তোলার প্রস্তুতি নেয়। কিন্তু প্রায় প্রতিবছরই (দু-এক বছর বাদে) অকাল বন্যার কারণে কৃষকদের সর্বশান্ত হতে হচ্ছে। কিন্তু দায়িত্বশীল কারও নজর নেই এদিকে।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের পুনর্বাসনে স্থানীয় প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিয়েছে কিনা জানতে চাইলে শফি আহমেদ বলেন, আমাদের এলাকার লোক ভিক্ষা চাই না। স্থানীয় প্রশাসন আমাদের জন্য এখন কি করতে পারে! ৫০০-১০০০ টাকা দিবে। আমাদের এ টাকার কোনো প্রয়োজন নেই। আমরা চাই স্থায়ী সমাধান।








