সুপ্রিম কোর্টের সামনে থেকে অপসারণ করা ভাস্কর্যটি কোথায় আছে তা কেউ বলতে পারছেন না। শুক্রবার ভোরে লেডি জাস্টিসের ভাস্কর্য হাইকোর্টের অ্যানেক্স ভবনের ভেতর পানির পাম্পের পাশে রাখা হলেও সন্ধ্যায় গিয়ে সেটির দেখা মেলেনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সামনে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্য আলী আহসান চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, এ বিষয়ে কোন কথা বলতে পারছি না। এছাড়া আমাদের কিছু বলার সুযোগ নেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গোয়েন্দা বিভাগের একজন সদস্য বলেন, ভাস্কর্যটি কোথায় রাখা হয়েছে তা বলতে পারছি না। তবে ভাস্কর্য নিয়ে আন্দোলন হওয়ায় এটি নিশ্চয়ই নিরাপদ স্থানে রাখা আছে। রোববারের মধ্যে সব জানা যাবে।
এই ভাস্কর্য সরানোর দায়ভার সুপ্রিম কোর্টের বলে জানিয়েছে সরকার। বিএনপিও এ বিষয়ে একই কথা বলছে।সরকার নয় বরং প্রধান বিচারপতির উদ্যোগেই ভাস্কর্যটি সরানো হয়েছে বলে তারা দাবি করছে।

ভাস্কর্য অপসারণ করায় ধর্মভিত্তিক সংগঠন হেফাজত প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে দেশের সব মূর্তি সরানোর দাবি করেছে। শুক্রবার জুমার নামাজের পর শুকরিয়া আদায় মিছিল করে হেফাজতে ইসলাম এই দাবি করে।
তবে ভাস্কর্য সরানোর মাধ্যমে সরকার হেফাজতের মত মৌলবাদী গোষ্ঠীকে সামনে এনে বাংলাদেশকে একটি সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করে এসব ষড়যন্ত্র রুখে দিতে শাহবাগের প্রজন্ম চত্বর থেকে আবার গণজাগরণের ডাক এসেছে।
সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে ভাস্কর্য অপসারণের প্রতিবাদে শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে মশাল মিছিল শেষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডাঃ ইমরান এইচ সরকার এ ডাক দেন।
বৃহস্পতিবার রাত ১২টার পর ভাস্কর মৃণাল হকের তত্ত্বাবধানে মোট ২০ জন শ্রমিক ভাস্কর্যটির ভিত ভাঙার কাজ শুরু করে। প্রায় চার ঘন্টার চেষ্টায় ভোর রাতে সেটি সরিয়ে নেয়া হয়।

২০১৬ সালের শেষ দিকে গ্রিক দেবীর ভাস্কর্যটি সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে স্থাপন করা হয়। এরপর প্রায় দুই মাস এ বিষয়ে পক্ষে-বিপক্ষে কোনও মত প্রকাশ না হলেও ফেব্রুয়ারিতে মুখ খোলেন হেফাজতে ইসলামের আমির আহমদ শফী। এক বিবৃতিতে তিনি সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে ভাস্কর্যটি অপসারণের দাবি জানান।
এই ধারাবাহিকতায় গত ১১ এপ্রিল গণভবনে কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের সরকারি স্বীকৃতি ঘোষণার রাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই প্রশ্ন তোলেন গ্রিক দেবীর ভাস্কর্য নিয়ে। সুপ্রীম কোর্ট চত্বরে এই গ্রিক দেবী থাকা উচিৎ না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।







