যানজট বা সিগনালকে পাশ কাটিয়ে দ্রুত চলাচলের জন্য ব্যবহৃত মন্ত্রী এবং সিনিয়র সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ির ওপর ব্যবহৃত লাল বিকন বাতি আগামী ১ মে থেকে নিষিদ্ধ করছে ভারত। বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এমন ঘোষণা দেন।
নরেন্দ্র মোদি বলেন, অ্যাম্বুলেন্স, দমকল বাহিনী, পুলিশের মতো জরুরি পরিসেবা ব্যবস্থা ছাড়া অন্য কোনো ভিআইপি ১ মে থেকে গাড়িতে লালবাতি ব্যবহার করতে পারবেন না। এমনকি রাষ্ট্রপতি, উপ-রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী-আমলা, বিচারপতি কেউ না।
তার মতে, ‘সব ভারতীয়ই বিশেষ, সব ভারতীয়ই ভিআইপি। এই সংস্কৃতি আগেই তুলে দেয়া উচিত ছিল।’
এছাড়া দেশটির অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি জানিয়েছেন, ১ মে থেকে কোনো গাড়ির ওপরই লাল বাতি থাকবে না এবং এর কোনো ব্যতিক্রমও গ্রহণযোগ্য হবে না।
এ সিদ্ধান্তের ব্যাপারে ভারতের সড়ক ও পরিবহন মন্ত্রী নিতিন গডকরি বলেন, ভিআইপি সংস্কৃতি নিয়ে আমজনতার মনে ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে। তাই ব্যবস্থাটা তুলে দেয়া হয়েছে। এজন্য কেন্দ্রীয় মোটরযান আইন থেকে সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো তুলে দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বিবিসি জানিয়েছে, নতুন এই আইনের অধীনে শুধু অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার ব্রিগেড এবং পুলিশের গাড়ির মতো জরুরি পরিস্থিতিতে সেবা দানকারী যানে লালের বদলে নীল বাতি ব্যবহার করা যাবে।
এই আদেশের পর থেকে রাজ্য সরকারগুলোর হাতেও লাল-নীল বাতি ব্যবহার সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারির কোনো অধিকার থাকছে না বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।
প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পর বিকেল থেকেই তাড়াহুড়ো করে দিল্লির মন্ত্রীরা সাংবাদিক ডেকে তাদের সামনে গাড়ি থেকে লালবাতি খুলতে শুরু করেন। উদ্দেশ্য: তাদের কাজটি গণমাধ্যমের সাহায্যে প্রধানমন্ত্রীর চোখে পড়ুক।
তবে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, রাজ্য সরকারগুলোর মন্ত্রী আমলাদের মধ্যে এ ব্যাপারে এখনো অতটা তড়িঘড়ি দেখা যায়নি।









