এশিয়া কাপ টি-২০কে আজ গ্রুপপর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। টানা তিন ম্যাচ জিতে আগেই ফাইনাল নিশ্চিত করে ফেলেছে ভারত। পাকিস্তানকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশও।
আর টানা তিন ম্যাচ হেরে সবার আগে বিদায় নিশ্চিত হয়েছে আরব আমিরাতেরও। সুতরাং গ্রুপ পর্বের এই ম্যাচটি হতে যাচ্ছে শুধুই নিয়ম রক্ষার লড়াইয়ে। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মিরপুরের শের-ই বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দল দুটি।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে সাইড বেঞ্চকে দেখে নেওয়ার বড় সুযোগ ভারতীয় দলের সামনে। শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে পৌঁছে যাওয়া ভারতীয় দলের প্রথম ১১ ক্রিকেটারকে বড় পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়েছে বার বার। বিশেষ করে দলের ব্যাটসম্যানদের। মিরপুরের সবুজ পিচে মুখ থুবড়ে পড়তে হয়েছে সব দলের ব্যাটসম্যানদেরই। তার মধ্যে থেকেই নিজেদের প্রমাণ করেছেন বিরাট কোহলি, যুবরাজ সিংহরা।
এবার তাদের দেখে নেওয়ার পালা যারা এই আসরে তেমন খেলার সুযোগ পাননি। ভারতের এই ম্যাচকে শুধুই নিয়মরক্ষার না বলে এশিয়া কাপ ফাইনালের প্রস্তুতি ম্যাচও বলা যেতে পারে। যদিও মহেন্দ্র সিংহ ধোনি দলের ঘন ঘন পরিবর্তনের পক্ষে নন। বরং উইনিং কম্বিনেশন ধরে রাখতেই বেশি পছন্দ করেন তিনি।
তবে ধোনি জানিয়ে দিয়েছেন, এই ম্যাচ তাদের জন্য যারা এখনও খেলার সুযোগ পাননি। তার মানে তিন থেকে চারটি পরিবর্তন হতেই পারেন ইউএই’র বিরুদ্ধে ভারতের প্রথম একাদশে।
সেই তালিকায় অবশ্যই থাকবেন অজিঙ্কা রাহানে। যিনি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে শিখর ধাওয়ান না থাকায় রোহিত শর্মার সঙ্গে ওপেন করতে নেমেছিলেন। এছাড়াও হরভজন সিংহ, পবণ নেগি এবং ভুনেশ্বর কুমার রয়েছেন এই তালিকায়। যাদের শেষ লিগ ম্যাচে প্রথম একাদশে জায়গা করে নেওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক ভালো বোলিং করে প্রতিপক্ষের সমীহ আদায় করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। বাছাইপর্বে অপরাজিত থেকে এশিয়া কাপের মূল পর্বে উঠেছে আরব আমিরাত। নিজেদের শেষ ম্যাচে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ভারতের বিপক্ষে ভাল খেলাই লক্ষ্য আকিব জাভেদের শিষ্যদের। নিয়মরক্ষার এই ম্যাচ থেকে সামনের দিনের অনুপ্রেরণার জন্য শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে কিছু একটা করে দেখাতে চাইবেন মুস্তফা-জাভেদরা।
বাছাইপর্ব থেকে প্রত্যেকটি ম্যাচেই বোলিং-ফিল্ডিংয়ে দারুণ করেছে আরব আমিরাত। শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের বিপক্ষে আরবদের বোলিং ম্যাচের শুরুর দিকে আশাই জাগিয়ে ছিল। কিন্তু ব্যাটিংয়ে তাদের যথেষ্ট দুর্বলতা রয়েছে। তবে আগের ম্যাচগুলোতে যেমন চাপ ছিল এই ম্যাচে সেটা নেই। আগেই বিদায় নিশ্চিত হওয়ায় এই ম্যাচে অনেকটা নিশ্চিতভাবেই খেলবে তারা। আরবের মনের কোনে হয়তো আইসিসির পূর্ণ কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে জয়ের আশাটাও লুকিয়ে থাকবে।
অনেক পরিবর্তনের সম্ভাবনা থাকায় এই ম্যাচে ভারতের হয়ে লাইমলাইটে থাকবেন অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। আগের ম্যাচগুলোতে তেমন ব্যাটিং করার সুযোগ পাননি তিনি। প্রথম তিন ম্যাচে ৯টি বল মোকাবেলা করেছেন। তাই এই ম্যাচে নিজের ব্যাটিং পজিশন উপরে তুলে ফাইনালের আগে অনুশীলনটা সেরে রাখতে চাইবেন। আর বিরাট কোহলি তো আছেনই। ২০১৬ সালে টি-২০তে কোহলির গড় ১০৩ দশমিক ৬৬। যা যেকোনো ব্যাটসম্যানের চেয়ে বেশি। ধোনি-কোহলির পেছনে থাকবেন যুবরাজ সিং ও হার্দিক পাণ্ডিয়া।
আর আরব আমিরাতের হয়ে স্পিনার আহমেদ রেজা কিছু একটা করতে চাইবেন। বাছাইপর্ব থেকে দারুণ বল করলেও তার উইকেট সংখ্যা মাত্র একটি। আগের ছয় ম্যাচে ২১ ওভার বল করে ১১৭ রান দিলেও উইকেট পরিসংখ্যানে তিনি সন্তুষ্ট নন। তাই নিজের ঝুলিকে একটু হলেও সমৃদ্ধ করতে চাইবেন তিনি। আর মোহাম্মদ নাভেদ মূলপর্বের তিন ম্যাচে ৭২টি বল কে ৪১ ডট বল করেছেন। তারও ভালো কিছুর আশা থাকবে। সেই সাথে জাভেদ-মুস্তফারাও শেষ ম্যাচটা মনে রাখার মতো করে রাখতে চাইবেন।
শুরু ম্যাচগুলোর চেয়ে মিরপুরের পিচ ধীরে ধীরে সহজ হয়েছে। প্রথম পাঁচ থেকে ছয় ওভার কিছুটা কঠিন হলেও পরের ওভারগুলো ভালো রকছে ব্যাটসম্যানরা। ফলে ভারত-আরব আমিরাত ম্যাচেও একই রকম পিচ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। আর আজকে আবহাওয়াও কোনো ধরনের বাগড়া বাধানোর সম্ভাবনা নেই। ওয়েদার ডটকমের পূর্বাভাস তেমনটিই বলছে।
সম্ভাব্য ভারত একাদশ: রোহিত শর্মা/আজিঙ্কা রাহানে, শিখর ধাওয়ান, বিরাট কোহলি, সুরেশ রায়না, যুবরাজ সিং, হার্দিক পাণ্ডিয়া, মহেন্দ্র সিং ধোনি, বরীন্দ্র জাদেজা/পবণ নেগি, রবিচন্দন অশ্বিন/হরভজন সিং, জাসপিত বুমরাহ, আশিস নেহরা/ভুনেশ্বর কুমার।
সম্ভাব্য আরব আমিরাত একাদশ: রোহান মুস্তফা, মুহাম্মদ কালিম, মোহাম্মদ শেহজাদ, সাইমান আনোয়ার, মোহাম্মদ উসমান, আমজাদ জাভেদ, উসমান মুশতাক, স্বপ্নিল পাতিল, মোহাম্মদ নাভেদ, আহমেদ রেজা ও ফারুক তারিক।






